ওয়ার্ল্ড এডুকেশন কংগ্রেস গ্লোবাল অ্যাওয়ার্ড পেলেন শিক্ষামন্ত্রী

 স্পন্দন নিউজ ডেস্ক:শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বৃহস্পতিবার ভারতের মুম্বাইয়ে ওয়ার্ল্ড এডুকেশন কংগ্রেস গ্লোবাল অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ করেছেন। মুম্বাইয়ের তাজ হোটেলে দুই দিনব্যাপী ষষ্ঠ ওয়ার্ল্ড এডুকেশন কংগ্রেস চলাকালে তাকে এই অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। এ বছরের মে মাসে বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রীকে এবারের অ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনীত করে ওয়ার্ল্ড এডুকেশন কংগ্রেস।.

শিক্ষাক্ষেত্রে অসামান্য অবদান,  অন্যদের জীবনের জন্য ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ এবং সামাজিক পরিবর্তনে ইতিবাচক অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এ পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়।  দেশে ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে তার বিভিন্ন অর্জনও মূল্যায়ন করা হয়।

পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে অন্তর্দিশার প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ইন্দিরা পারিখ, ওয়ার্ল্ড সিএসআর কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা ড. আর এল ভাটিয়া এবং কিওমানিভান ফিমাহাসে বক্তব্য রাখেন।

পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী বাংলাদেশে শিক্ষাক্ষেত্রে বিভিন্ন পরিবর্তনে তার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন,  বাংলাদেশে প্রাক-প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণী পর্যন্ত প্রতিটি শিক্ষার্থীর হাতে বছরের প্রথম দিনেই বই তুলে দেয়া হচ্ছে। মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত জেন্ডার সমতা অর্জন সম্ভব হয়েছে। ঝরে পড়ার হার অনেক কমেছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রয়োজনের তুলনায় আমাদের অর্জন খুব বেশি নয়। সকল শিশুকে স্কুলে নিয়ে আসা এবং জেন্ডার সমতার ক্ষেত্রে আমাদের অর্জন উল্লেখযোগ্য। নারী শিক্ষায় অগ্রগতি ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষা বিস্তারের ফলে টারশিয়ারি পর্যায়েও বিস্তৃতির প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। শিক্ষা বিস্তারের সাথে সাথে কর্মসংস্থান উপযোগী দক্ষতা অর্জনের চ্যালেঞ্জও তৈরি হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, গত কয়েক দশকের প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন মানুষের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে পরিবর্তন নিয়ে এসেছে এবং একটি গ্লোবাল ভিলেজের নাগরিকে পরিণত করেছে।  এ গ্লোবাল ভিলেজে শিক্ষার লক্ষ্য হতে হবে  বৈচিত্র্যের মধ্য দিয়ে সম্প্রীতি অর্জন। শান্তি ও সম্প্রীতিপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলার জন্য শিক্ষকদের ভূমিকা সবার উপরে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

মানসম্মত শিক্ষা এবং আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে দক্ষ নতুন প্রজন্ম গড়ে তুলতে সকলের পারস্পরিক সহযোগিতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের উপর তিনি জোর দেন। তিনি বলেন, শিক্ষার অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে, আমাদের শিশুদেরকে ভবিষ্যতের দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্ব ও চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত করে তোলা। এ লক্ষ্য অর্জনে আমাদের শিক্ষকদের প্রস্তুত করতে হবে।

শিক্ষামন্ত্রী আরো বলেন,  আজীবন একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমি টিম স্পিরিটে বিশ্বাস করি। আজকের এ অর্জন আমার একার নয়। এটা আমার সহকর্মী সকলের মিলিত কর্মকাণ্ডের ফলেই সম্ভব হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনা এক্ষেত্রে পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করেছে। তিনি এ অর্জনের জন্য সমগ্র শিক্ষা পরিবারকে ধন্যবাদ জানান।  শিক্ষামন্ত্রী তাকে এ পুরস্কারের জন্য মনোনীত করায় ওয়ার্ল্ড এডুকেশন কংগ্রেসের জুরি বোর্ডের সদস্য ও সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান।