শিশুদের নৈতিকতা শিক্ষা দিতে ‘সততা স্টোর’

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:শিশুকাল থেকে নীতি-নৈতিকতা ও সততার শিক্ষা দিতে ঝিনাইদহের মহেশপুর পাইলট বালিকা বিদ্যালয়ে সততা স্টোরের উদ্বোধন করা হয়েছে। রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় ঝিনাইদহ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো: নবী নেওয়াজ আনুষ্ঠানিকভাবে এ দোকানের উদ্বোধন করেন।.

সততা স্টোরের উদ্বোধন উপলক্ষে স্কুলে একটি আলোচনা সভারও আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি প্রফেসর মো: হানিফ।

এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোরের দুর্নীতি দমন কমিশনের উপ পরিচালক মো: জাহিদ হোসেন, মহেশপুর পৌরসভার মেয়র আব্দুর রশিদ খান, মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: কামরুল ইসলাম, মহেশপুর থানার অফিসার্স ইনচার্জ আহমেদ কবির ও উপজেলা যুবলীগ নেতা ও কাউন্সিলর আতিয়ার রহমান প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, প্রাথমিকভাবে দেশের প্রতিটি জেলার একটি উপজেলায় একটি বালিকা বিদ্যালয় ও একটি বালক বিদ্যালয়ে সততা স্টোর স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এই স্টোরে খাতা, কলম, পেন্সিল, ইরেজার, স্কেল, জ্যামিতি বক্স, রঙ পেন্সিল, চিপস, বিস্কুট ইত্যাদি পণ্য বিক্রি হবে। তবে এই দোকানে কোন বিক্রেতা থাকবে না, শিক্ষার্থীরা মূল্য তালিকা দেখে পণ্য কিনে দোকানের নির্ধারিত বাক্সে টাকা রাখবেন। সব পণ্যের দাম হবে বাজারমূল্যের সমান।

স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে সততাবোধ সৃষ্টিতে দুদক এই দোকানের নাম ‘সততা স্টোর’ রেখেছে। এরইমধ্যে সততা স্টোর স্থাপন ও ব্যবস্থাপনার বিষয়ে দুদক থেকে একটি নীতিমালাও তৈরি করা হয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরামর্শক্রমে স্টোরের প্রাথমিক পুঁজি সংগ্রহ করবে।

সততা স্টোরে পণ্য ক্রয়ের নিয়মাবলির বিষয়ে নীতিমালায় বলা হয়েছে, সততা স্টোরে প্রবেশের সময় রেজিস্টার খাতায় নাম, শ্রেণী ও রোল নম্বর লিখতে হবে। এরপর পণ্যের মূল্য তালিকা দেখে যেসব পণ্য কেনা হবে তার মূল্য সততা স্টোরে রক্ষিত ক্যালকুলেটরে হিসেব করে পরিশোধ করতে হবে। ক্রেতা ছাত্রছাত্রীকে একটি কাগজে পণ্যের নাম ও টাকার পরিমাণ লিখে পণ্যের দামসহ টেবিলে রাখা খামে ভরে নির্ধারিত ক্যাশবাক্সে ফেলতে হবে। যদি চাহিদামতো পণ্য না পাওয়া যায় তবে তা প্রি-অর্ডার বুকে লিখে অর্ডার দেওয়া যাবে।