পিলখানা হত্যাযজ্ঞের কুশীলবদের বিচার করবে ইতিহাস

BDR tragedy - 10111
২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে শতাব্দীর সবচেয়ে জঘন্য এবং ভয়ংকর হত্যাযজ্ঞটি ঘটেছিল ঢাকার তদানীন্তন বিডিআরের হেডকোয়ার্টার পিলখানায়, যেখানে তখনকার বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড-বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) কর্তৃক ঠাণ্ডা মাথায় হত্যা করা হয়েছিল বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উচ্চ পর্যায়ের ৫৭ জন মেধাবী অফিসারসহ মোট ৭৪ জন নিরীহ মানুষকে।

ঘটনাটি মোটা দাগে অনেকে ‘বিডিআর-বিদ্রোহ’ বললেও এর পেছনে যে স্বাধীনতাবিরোধী রাজনৈতিক চক্র জড়িত ছিল, সে ব্যাপারে সন্দেহ থাকা উচিত নয়। যে কোনো অপরাধেরই নিজস্বতা বা স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য থাকে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সংঘটিত অপরাধের প্যাটার্ন দেখলে অপরাধবিশেষজ্ঞরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করতে পারেন যে, অপরাধটা কার বা কাদের দ্বারা সংঘটিত হতে পারে। তদন্তের প্রাথমিক সূত্র সেটাই থাকে এবং তা ধরে এগোয় তদন্তের কাজ। অনভিজ্ঞ বা কাঁচা হাতে সংঘটিত অপরাধ হলেও তা বোঝা যায়।

পিলখানা হত্যাযজ্ঞটিও এমন একটি হত্যাযজ্ঞ যার রয়েছে এক ধরনের ‘সিগনেচার কিলিং’ বৈশিষ্ট্য। হত্যাযজ্ঞের পর ৫৭টি বিদ্রোহের মামলার বিচার হয়েছে বিডিআরের নিজস্ব আদালতে। আর মূল হত্যাকাণ্ডের বিচার চলেছে বকশীবাজারে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত মহানগর দায়রা জজ আদালতের অস্থায়ী এজলাসে। ঢাকা জজ আদালত ২০১৩ সালে এ মামলার রায়ে ৮৫০ আসামির মধ্যে ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১৬০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিলেন। উচ্চ আদালতে আপিলের পর প্রায় অপরিবর্তিত রেখে হাইকোর্ট রায় প্রদান করেছেন।

২০০৯ সালের ঘটনাটি আমি বিদ্রোহ বলতে অপরাগতা প্রকাশ করেছি প্রথমেই। বিদ্রোহের নিজস্ব সংজ্ঞা রয়েছে, যা ঘটনাটির সঙ্গে কোনো অর্থেই মেলে না। অনেকে বলেন যে, বিডিআরের দীর্ঘদিন ধরে পুঞ্জিভূত ডাল-ভাত কর্মসূচীর ক্ষোভ থেকে এই বিদ্রোহ ঘটেছিল। কিন্তু সেদিন, ২৫ ফেব্রুয়ারি বিডিআরের তদানীন্তন ডিজি মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদ ডাল-ভাত কর্মসূচী মাথায় রেখে দরবার হলে প্রদত্ত বক্তৃতায় বলেছিলেন:

“বিডিআর সপ্তাহের প্যারেড মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রশংসা করেছেন। ডাল-ভাত কর্মসূচী নিয়ে ক্ষোভ থাকতে পারে। কিন্তু কোনো দ্বিধাদন্দ্ব থাকলে তার বিস্তারিত পরিসংখ্যান আমি তুলে ধরছি। সরকারের কাছ থেকে আমরা ৪০০ কোটি টাকা পেয়েছি। কীভাবে সে টাকা খরচ হয়েছে এবং কী আছে, তার বিবরণ দিচ্ছি…।”

হত্যাযজ্ঞ শুরু হওয়ার পর দেয়াল টপকে পালান মেজর নাজমূল। তিনি দৈনিক ইত্তেফাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ডিজি শাকিল আহমেদের সঙ্গে কোনো সৈনিকের বাক-বিতণ্ডা হয়নি। দরবার শুরু হওয়ার মাত্র ১৫-২০ মিনিটের মধ্যে একই সঙ্গে পূর্ব, পশ্চিম ও উত্তর দিক থেকে গোলাগুলি শুরু হয়ে যায়। বিডিআর জোয়াদের ভিতর থেকে বলতে শোনা যায়, ‘অফিসারদের ধর’! তিনি আরও বলেন, জোয়ানদের ভিতরে এক ধরনের ক্ষোভ ছিল, কিন্তু তা এতটা ভয়ানক রূপ নেওয়ার মত নয়।

২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সালে পিলখানায় সংঘটিত হত্যাযজ্ঞকে কেন আমি ‘বিদ্রোহ’ বলতে নারাজ এবং এটা যে ছিল স্বাধীনতাবিরোধী বিএনপি-জামায়াত চক্রের হীন-চক্রান্তের ফসল, তার কিছু দৃষ্টান্ত তুলে ধরলেই অনেকের কাছে বিষয়টি পরিস্কার হয়ে যাবে।

 

ঠাণ্ডা মাথায় হত্যা করা হয়েছিল সেনাবাহিনীর ৫৭ জন মেধাবী অফিসারসহ মোট ৭৪ জন নিরীহ মানুষকে

 

২০০৯ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় প্রথমবারের মতো জোট সরকারের আমলে চট্রগামে ১০ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত মূল হোতাদের নাম প্রকাশ করা হয়। ১৩ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদে প্রথমবারের মতো যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনাল গঠনের বিষয়ে আলোচনা হয়। এর বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করে ১৮ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থানের কথা জানায়। ১৯ ফেব্রুয়ারি সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে অরাজকতা সৃষ্টিকারী জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির পক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচীর কথা ঘোষণা করা হয়।

২০ ফেব্রুয়ারি ১০ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালানি মামলার প্রধান আসামি জামায়াতের মুজাহিদ ও বিএনপির সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাবরকে বিদেশ গমনে বাধা প্রদান করা হয়। ২১ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষাবলম্বনকারী পাকিস্তান সরকারের ঘোষণার জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে কোনো মূল্যে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের সংকল্পের কথা দৃঢ়কণ্ঠে ব্যক্ত করেন।

২২ ও ২৩ তারিখ গোয়েন্দা রিপোর্টের বরাত দিয়ে বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় হঠাৎ রাজধানী ঢাকার কোলঘেঁষা বিভিন্ন জেলায় শত শত জঙ্গির সশস্ত্র অবস্থান নেওয়ার খবর প্রকাশিত হয়। ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাবে পাকিস্তান সরকার আবারও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিরুদ্ধে অবস্থানের কথা ঘোষণা করে। এরপর ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি সংঘটিত হয় বিডিআর হত্যাযজ্ঞ।

অবাক বিষয় এই যে, ঘটনাটির মাত্র দুদিন আগে বিরোধী দল বিএনপি সংসদ থেকে একেবারে বিনা কারণে ওয়াকআউট করে। পিলখানা হত্যাযজ্ঞের দুদিন বিরোধী দলীয় নেত্রী তাঁর বাসস্থানে না থেকে কোনো এক অজ্ঞাত স্থানে অবস্থান নিয়েছিলেন। যার হদিস আজও কেউ বা কোনো সংবাদ মাধ্যম জানাতে পারেনি। কেন জামায়াতের নেতা মুজাহিদ ঘটনার দুদিন আগে দেশত্যাগ করতে চেয়েছিলেন তা-ও জানা যায়নি।

হত্যাযজ্ঞের পর বিএনপির সাদেক খান এবং জামায়াত ঘরানার বিডিআরের সাবেক ডিজি ফজলুর রহমান সরাসরি হত্যাকারীদের পক্ষ নিয়ে বক্তব্য দিয়েছিলেন। জামায়াত-বিএনপি সমর্থক মিডিয়াগুলোও বিডিআরের হত্যাযজ্ঞ সমর্থন করে লিখেছিল। জাতি যখন শোকে মূহ্যমান তখন বিএনপির সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী সাংবাদিকদের তিরস্কারের সুরে বলেছিলেন, ‘কিছু প্রাণি মারা গিয়েছে।’

পিলখানা হত্যাযজ্ঞের পর সরকার তথা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে চালানো হয় বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার। সেগুলোর ধরন দেখলেও যে কেউ বুঝতে পারবেন যে, হত্যাযজ্ঞের পেছনে কালো হাতগুলো কাদের ছিল। আওয়ামী লীগের প্রত্যক্ষ ইন্ধনে, ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা র’এর যোগসাজশে ঘটনাটি ঘটেছে, এমন কথা বলেছিলেন জামায়াত-বিএনপির নেতাকর্মীরা। কারণ হিসেবে তারা ২০০১ সালে রৌমারি সীমান্তে এক সংঘর্ষে ভারতের শতাধিক বিএসএফ হত্যার ঘটনা উল্লেখ করেন। এমনকি এই হত্যাযজ্ঞের পেছনে জামায়াত-বিএনপির শীর্ষনেতারা ভারত ও ইসরায়েলকে দায়ী করেও ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য দেন।

পিলখানা হত্যাযজ্ঞের বিচার শুরু হলে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, ব্যারিস্টার রফিকুল হক, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া ও এডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেনসহ প্রায় ২৫ জনের মতো আইনজীবী খুনিদের পক্ষে আদালতে দাঁড়িয়ে প্রমাণ করেছিলেন যে, তাঁরা এই হত্যাযজ্ঞের সঙ্গে নীতি ও আদর্শগতভাবে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলেন।

হত্যাযজ্ঞে যেসব জোয়ান সরাসরি অংশগ্রহণ করেছিল তাদের মধ্যে ডিএডি তৌহিদ, সিপাহী মাঈন, সুবেদার মেজর গোফরান মল্লিকসহ অন্যান্য অভিযুক্তরা সবাই জামায়াত-বিএনপির জোট সরকারের আমলে বিডিআরে নিয়োগপ্রাপ্ত ছিল। হত্যাযজ্ঞের পর টাঙ্গাইল থেকে যে ২২ অপরাধী বিডিআর জোয়ানকে গ্রেফতার করা হয়েছিল, তাদের নিয়োগ হয়েছিল বিএনপির উপমন্ত্রী সালামের সরাসরি সুপারিশে। অর্থাৎ এদের নিয়োগপ্রক্রিয়া বিশ্লেষণ করলেও বোঝা যায় যে, অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে একটা ‘কিলিং স্কোয়াড’ বিডিআর বাহিনীতে গোপনে রিজার্ভ হিসেবে রাখা হয়েছিল এই ভাবনা থেকে যে, যদি জোট সরকার ক্ষমতায় আসতে না পারে তাহলে পরবর্তী সরকারকে উৎখাত করে পুনরায় যাতে তাদের ক্ষমতায় আনার রাস্তা সুগম হয়।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনাকে চিরতরে দুনিয়া থেকে বিদায় দিতে এই জোট সরকার ক্ষমতায় থাকার সময় ২১ আগস্টের বোমা হামলা চালানো হয়েছিল। যেখানে সরকারের একটি অংশের হাত ছিল। এছাড়া শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য মুফতি হান্নানকে দিয়েও আরেকবার চেষ্টা চালানো হয়েছিল। সেটাও ওই জোট সরকারের আমলেই।

পিলখানা ঢাকার একেবারে প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত। যার চারপাশ অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ। কোনো কারণে সেখানে যদি একটা গ্যাস সিলিন্ডারেরও বিস্ফোরণ ঘটে, তবে তা আশপাশের এলাকায় যথেষ্ট প্রাণহানি ও ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। অথচ পিলখানা হত্যাযজ্ঞের দিন বিডিআর জোয়ানদের হাতের নাগালে চলে আসে পিলখানার মূল অস্ত্রাগার। যেখানে ছিল ভারি ভারি অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুদ। তার কিছু অংশও যদি হত্যাকারীরা সেদিন ব্যবহার করত তাহলে নির্দ্বিধায় বলা যায় যে, পিলখানার আশপাশের জনবসতির খুব কম সংখ্যক মানুষই সেদিন বাঁচতে পারতেন।

 

BDR tragedy - 50111
পিলখানা ঢাকার একেবারে প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত, যার চারপাশ অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ

 

সেদিন অত্যন্ত বিচক্ষণতা ও সাহসিকতার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর মন্ত্রিসভা পরিস্থিতি সামাল দিয়েছিলেন। ভীতসন্ত্রস্ত বিডিআর জোয়ানরা প্রায় দুদিনের হত্যাযজ্ঞ শেষে নিজেদের জীবন বাঁচাতে যদি ভারি অস্ত্র ব্যবহার করত, তাতে অবাক হওয়ার কিছু ছিল না। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাধারণ ক্ষমার আশ্বাস দিয়েছিলেন সেদিন। যে কারণে পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং হত্যাকারীরা ভারি অস্ত্র ব্যবহার না করে আত্মসমর্পণ করে।

অথচ ঘটনার দুদিন পর কোনো এক গোপন স্থান থেকে বেরিয়ে জনসমক্ষে এসে বিএনপিনেত্রী খালেদা জিয়া প্রথমেই সাধারণ ক্ষমার বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে বিভিন্ন ভাষায় খেপিয়ে তোলার চেষ্টা করেন। তিনি হয়তো চেয়েছিলেন যাতে সেনাবাহিনী বিডিআর ও গণভবনে হামলা চালায়। এমন ঘটলে বিডিআরের হত্যাযজ্ঞ হতাহতের সংখ্যা ১০ থেকে ২০ হাজার বা তারও বেশি হয়ে যেত। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর সময়োচিত ও বিজ্ঞজনোচিত সিদ্ধান্তের কারণে বিশাল সংখ্যক হতাহতের আশঙ্কা থেকে দেশ রক্ষা পায়। যদিও ইতোমধ্যে ঘটে যাওয়া প্রাণহানির দায় অপূরণীয়।

অনেকে বলেন, রাজনীতি খুব কঠিন বিষয়, কিছুই বোঝা যায় না। সকালের বোঝাটা বিকেলে অবুঝের মতো হয়। কথাটা শতভাগ মিথ্যে নয়। তবে রাজনীতি বোঝার অনেক সহজ পদ্ধতিও আছে। বাংলাদেশের রাজনীতি মোটা দাগে দুভাগে বিভক্ত। একাত্তর বা স্বাধীনতার পক্ষের ও বিপক্ষের রাজনীতি। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে যে মহাজোট সরকার, তাকে নির্দ্বিধায় স্বাধীনতার পক্ষের এবং জামায়াত-বিএনপির যে জোট সরকার, তাকে স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তি বলা যায়। পিলখানা হত্যাযজ্ঞের চালচিত্র নিয়ে যে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেছি, তাতে স্পষ্টত ফুটে ওঠে এই দুধারার রাজনীতির চর্চা ও চাওয়া-পাওয়ার হিসাব।

পিলখানা হত্যাযজ্ঞটি শুধু বাংলাদেশ নয়, মানবসভ্যতার জন্য একটা ঘৃণ্য দৃষ্টান্ত হিসেবে পরিগণিত হবে ইতিহাসের পাতায়। সর্বোচ্চ আদালত এই জঘন্য হত্যাযজ্ঞের আসামিদের বিরুদ্ধে সাজার রায় দিয়েছেন। কিন্তু এই ঘৃণ্যতার পেছনে যে কুশীলব চক্রটি জড়িত, তাদের হয়তো কখনও আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে না। তবে ঘটনার পর পক্ষ ও বিপক্ষের চুলচেরা বিশ্লেষণে এটা পরিস্কার যে, পিলখানা হত্যাযজ্ঞের সঙ্গে স্বাধীনতাবিরোধী পাকিস্তানপন্থীদের সুস্পষ্ট হাত রয়েছে। জাতি কখনও এই একাত্তরবিরোধীদের ক্ষমা করবে না।

একাত্তরেও দেশের সূর্যসন্তানদের হত্যা করে মেধাশূন্য করেছিল পাকিস্তানিরা। ২০০৯ সালে পিলখানায় বাংলাদেশের সূর্যসন্তানদের হত্যায় মদদ যুগিয়েছে পাকিস্তানের প্রেতাত্মা। ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে না। এ হত্যাকাণ্ডের জন্য প্রকৃত দায়ীদের বিচারও ইতিহাস করবে।

[তথ্যসংগ্রহে সহযোগিতা করেছেন: আবদুল্লাহ হারুন জুয়েল]