যশোর জেনারেল হাসপাতালে দরপত্র দাখিলে ঠিকাদারদের বাঁধা দেয়ার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদেক>যশোর আড়াইশ শষ্যা হাসপাতালে সাড়ে তিন কোটি টাকার দরপত্রে ঠিকাদারদের বাঁধা দেয়া হয়েছে। যেকারণে নির্ধারিত ঠিকাদারের বাইরে অন্য কেউ এতে অংশ নিতে পারেনি। পুলিশের সহায়তায় চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা দরপত্র জমা দিতে বাঁধা দিয়েছে বলে অভিযোগ ঠিকাদারদের। এমনকি পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে যে দরপত্র বাক্স ছিল সেটিও তারা খুঁজে পায়নি। এদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবিষয়ে সংবাদ মাধ্যমে তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেছে।
ঠিকাদারদের সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ অক্টোবর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এমএসআরের ৬ গ্রুপের দরপত্র আহবান করে। এর মধ্যে ছিল ওষুধ, গজ, ব্যান্ডেজ, তুলা, লিলেন সামগ্রী, সার্জিক্যাল, ক্যামিকেল রি-এজেন্ট, আসবাবপত্র ও কিচেন সামগ্রী। যার মূল্য ছিল সাড়ে ৩ কোটি টাকা। ৩১টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ১৫২টি সিডিউল কিনেছিলেন। গতকাল মঙ্গলবার ছিল দরপত্র দাখিলের শেষ দিন। কিন্তু এদিন কোন সাধারণ ঠিকাদার দরপত্র দাখিলে অংশ নিতে পারেনি।
ঢাকার বিএমএ ভবন এলাকার জুরাইন ইন্টারন্যাশনালের এক প্রতিনিধি জানান, নির্ধারিত দিনে গতকাল তারা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে গিয়েছিলেন দরপত্র ফেলার জন্য। কিন্তু সেখানে কোন বাক্স খুঁজে পায়নি। পরে পুলিশ চলে যেতে বললে তারা ফিরে আসেন। তার অভিযোগ একইভাবে পুলিশ হাসপাতালে থাকা দরপত্র বাক্স’র উপর বসে থাকে। মনোনিত ঠিকাদাররা ছাড়া আর কাউকে তারা দরপত্রে অংশ নিতে দেয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা আওয়ামীলীগের এক শীর্য নেতা জানান, শহরের চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা হাসপাতালের দরপত্রে ঠিকাদারদের অংশ নিতে দেয়নি। আর তাদের প্রকাশ্য সহযোগিতা করেছে পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতালের দরপত্রের দায়িত্বে থাকা কোতয়ালি থানার উপপরিদর্শক মানিক চন্দ্র জানান, আমার জানামতে কোন টেন্ডারবাজি হয়নি। হাসপাতালে থাকা বাক্সে এক গ্রুপ তাদের দরপত্র ফেললেও অন্য কোন গ্রুপকে সেখানে দেখা যায়নি।
এদিকে হাসপাতালের দরপত্র বিষয়ে খোঁজ নিতে গেলে কর্তৃপক্ষ তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ও দরপত্র কমিটির সদস্য ওহিদুজ্জামান ডিটু জানান, আমার কাছে কোন তথ্য নেই। অফিস সময়ে কালকে আসেন।
এবিষয়ে যশোর আড়াইশ শষ্যা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক কামরুল ইসলাম বেনু জানান, হাসপাতালের বাইরে কি ঘটছে তা আমার জানা নেই। আমার অফিসের মধ্যে কোন সমস্যা হয়নি। তবে কত সিডিউল জমা পড়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সঠিকভাবে জানা নেই। একটি গ্রুপে ৫টি করে সিডিউল জমা পড়তে পারে।