বাঘারপাড়ার জহুরপুর ইউপি’র পুরাতন ভবনের পাশে নতুন ভবন নির্মাণে সোচ্চার এলাকাবাসী

নিজস্ব প্রতিবেদক>
যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার জহুরপুর ইউনিয়ন পরিষদের পুরাতন ভবনের পাশে নতুন ভবন নির্মাণের দাবিতে এলাকাবাসী সোচ্চার হয়ে উঠেছে। এ দাবিতে তারা জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিতভাবে আবেদন করার পর সরেজমিনে তদন্ত করে পক্ষে প্রতিবেদন দিলেও একটি মহল অন্যস্থানে ভবন করতে ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের অভিযোগ, সার্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হওয়া সত্ত্বেও সেখানে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণে টালবাহানা করছেন মহলটি। অনুমোদনের পরও মহলটি পুরাতন ভবনের পাশে প্রস্তাবিত ৯০ শতক জমির উপর না করে বেতালপাড়ার পাশে নতুন ভবন তৈরি করার পায়তারা চালিয়ে যাচ্ছেন। এসবের পিছনে ইউপি চেয়ারম্যান দ্বীন মোহাম্মদ দিলুর ইন্ধন রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। চেয়ারম্যানের খামখেয়ালীপনায় এলাকাবাসীর মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। যে কোন মূহুর্তে জনতা বিক্ষোভে নেমে পড়তে পারে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭৩ সালে এলাকাবাসী ৯০ শতক জমি দেন জহুরপুর ইউনিয়ন পরিষদের জন্য। তৎকালিন চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম টিনের চালের নির্মিত দুই কক্ষের পাকা ঘরে প্রথমে অফিস করতেন। জহুরপুর গ্রামে কালীগঞ্জ-বাঘারপাড়া পাকা রাস্তা সংলগ্ন পূর্ব পশ্চিমপাশে ১৯৮০ সালে সরকারিভাবে ভবন তৈরি করা হয়, যেটা এখন পুরাতন ভবন। এ ভবনের কাঠামোগত অবস্থা দুর্বল হয়ে পড়লে ২০০৭ সলে ৩ মে চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল পুরাতন ভবনের পাশে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য আবেদন করেন যা বর্তমান অনুমোদনের জন্য কাগজপত্র স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। বাঘারপাড়া উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের মধ্যে একমাত্র জহুরপুর ইউনিয়ন কমপ্লেক্স ভবন আজও হয়নি।
এ কারণে সাবেক চেয়ারম্যান মেম্বরসহ ইউনিয়নবাসীর প্রাণের দাবি ছিলো পুরাতন ভবনের পাশে নতুন ভবন নির্মাণ করা। সে অনুযায়ী গত ২০০৭ সালের ৩ মে জহুরপুর ইউনিয়ন পরিষদের সভায় পুরাতন ভবনের পাশেই নতুন ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এ মোতাবেক ভবন নির্মাণের অনুমতি গ্রহনের জন্য বাঘারপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা,উপজেলা প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দফতরে লিখিতভাবে আবেদন জানানো হয়। এরপর ওই কর্মকর্তারা সরেজমিন তদন্তপূর্বক পুরাতন ভবনের পাশে জহুরপুর মৌজায় রেকর্ডকৃত আর এস ২ নম্বর খতিয়ানে ৯০ শতক জমির উপর নতুন ভবন নির্মাণের অনুমতি দেন। কেননা এখানে যোগাযোগের সার্বিক ব্যবস্থা উন্নত। সেবা নিতে আসা মানুষের কোন রকম দুর্ভোগের শিকার হতে হবেনা। সব রকম সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা আছে সেখানে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পুরাতন ভবনের সামনেই রয়েছে তিন একর জমির একটি খেলার মাঠ। ভবনের উত্তর পাশে জহুরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর পশ্চিমে জহুরপুর রামগোপাল বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও খবির উর রহমান কলেজ অবস্থিত। এখানে রয়েছে একটি বাজার ও পোস্ট অফিস। ভবনের পূর্বপাশ দিয়ে উত্তর-দক্ষিণে পাকা রাস্তা রয়েছে। এ রাস্তা দিয়ে মানুষ যশোর ও বাঘারপাড়ায় যাতায়াত করে। রাস্তার গা ঘেঁষেই রয়েছে জহুরপুর ইউনিয়ন পরিবার পরিকল্পনা অফিস ও উত্তরপাশে এক দশমিক ১৪ একর খাস জমিসহ মোট ২.১৫ একর জমির উপর রয়েছে এশিয়া মহাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বটগাছটি। ইতিমধ্যে বাঘারপাড়া উপজেলা থেকে শুরু হয়ে জহুরপুর ইউনিয়ন পরিষদ ও পোস্ট অফিস কার্যালয় পর্যন্ত পৌঁছেছে উন্নত প্রযুক্তির ব্রড ব্যান্ড লাইন। এছাড়া রয়েছে টেলিটক,গ্রামীণ, বাংলালিংক, রবি ও এয়ারটেল মোবাইল কোম্পানির নের্টওয়ার্ক টাওয়ার ব্যবস্থা। ফলে সেখানে ইউনিয়ন পরিষদের নতুন ভবন হলে সেবা নিতে আসা মানুষ একই সাথে নানা সুবিধা পাবেন। কিন্তু সেখানে ইউনয়ন পরিষদের নতুন ভবন নির্মাণে একটি মহল টালবাহানা করছেন বলে সচেতন মহল অভিযোগ করেছেন। ওই মহলটি চেয়ারম্যান পি এম দীন মোহাম্মদ দিলুর নিজ বাড়ির কাছে বেতালপাড়া মৌজায় ইউপি কার্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণ করার পায়তারা চালিয়ে যাচ্ছেন। অথচ সেখানে যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই দুর্বল। সেখানে যাতায়াতের একমাত্র রাস্তাটিও বর্ষা মৌসুমে বেহাল অবস্থায় পরিণত হয়। সূত্র জানায়, এর পরেও একটি মহলের সুবিধার জন্য সেখানে নতুন ভবন নির্মাণ করার পায়তারা করা হচ্ছে। যার প্রতিবাদে সাধারণ মান্ষু রীতিমতো সোচ্চার হয়ে উঠেছেন। পুরাতন ভবনের পাশে নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়ে তারা বাঘারপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে বাঘারপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহানাজ বেগম জানান, এলাকাবাসী দু’ভাগের ভাগ হয়ে আমার কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে। দ্রুত কার্যকরি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমরা তদন্ত করে দেখব।