মিয়ানমারকে চাপে রাখতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

বিডিনিউজ>রোহিঙ্গা সঙ্কটের সমাধান দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় করতে আশাবাদী হলেও একই সঙ্গে মিয়ানমারের উপর আন্তর্জাতিক চাপও অব্যাহত রাখতে চান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি ফেকিতামোলোয়া কাতোয়া উতোইকামানু দেখা করতে গেলে তাতে মিয়ানমারের উপর চাপ অব্যাগত রাখার আহ্বান জানান শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, “বিতাড়িত জনগণকে বাংলাদেশ থেকে ফেরত নিতে মিয়ানমারের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রাখতে হবে।”

সেনা নির্যাতনের মুখে রাখাইন থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা মুসলিমদের ফেরত নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে মিয়ানমার। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলীর সাম্প্রতিক সফরে বিষয়টিতে মতৈক্য হয়।

তবে মিয়ানমার বলছে, তারা এই ২০১৬ সাল থেকে আসা রোহিঙ্গাদেরই এই দফায় ফেরত নেবে, আগে যারা বাংলাদেশে এসেছিল, তাদের বিষয়ে আলোচনা হবে পরে।

মিয়ানমারে নির্যাতনের মুখে পালিয়ে এসে কয়েক যুগ ধরে বাংলাদেশে শরণার্থী জীবন কাটাচ্ছে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা। গত বছর আরও এক লাখ আসার পর এই সংখ্যা ৪ লাখ ছাড়ায়।

চলতি বছরের ২৫ অগাস্ট রাখাইনে সেনা অভিযান শুরু হলে বাংলাদেশ সীমান্তে রোহিঙ্গাদের ঢল নামে। নতুন আসা শরণার্থীর সংখ্যা ইতোমধ্যে ৬ লাখ ছাড়িয়েছে।

জাতিসংঘ কর্মকর্তারা বলছেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে জাতিগতভাবে নির্মূল করতে সেনারা হত্যা-লুণ্ঠন-ধর্ষণ চালাচ্ছে।

জাতিসংঘ কর্মকর্তা উতোইকামানুর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করার পর প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব ইহসানুল করিম তাদের আলোচনার বিষয়বস্তু সাংবাদিকদের জানান।

প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ কর্মকর্তাকে বলেন, “মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। তবে, দীর্ঘ সময়ের জন্য তাদের আশ্রয় দেওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়।”

চলতি বছর বাংলাদেশে আকস্মিক বন্যার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসবের পরও রোহিঙ্গা সমস্যা দেশের জন্য ‘অতিরিক্ত বোঝা’ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

সহিংসতার শিকার হয়ে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসে কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়ার পর সেখানকার স্থানীয় জনগণ এমনিতেই সমস্যায় রয়েছে।

দুই মাস আগে জাতিসংঘ সফরের আগে শেখ হাসিনা রোহিঙ্গাদের মানবিক কারণে আশ্রয় দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে তাদের সঙ্গে দেশের নাগরিকদের খাবার ভাগাভাগি করার কথাও বলেছিলেন।

শেখ হাসিনা জাতিসংঘ কর্মকর্তার কাছে বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়ন, কৃষি উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন এবং পল্লী উন্নয়নে তার সরকারের বিভিন্ন সাফল্য তুলে ধরেন।

এমডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সরকারের সাফল্যের কথা তুলে ধরে এসডিজিতে বাংলাদেশ এই সাফল্যের ধারা অব্যাহত রাখবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রশংসা করে জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি বলেন, স্বল্প আয়ের দেশ থেকে একটি দেশের মধ্যম আয়ের দেশে উত্তরণ জাতিসংঘের সংঘবদ্ধ প্রচেষ্টারই ফসল।

প্রেসসচিব বলেন, “স্বল্প আয়ের দেশ থেকে একটি দেশ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হলেই সহযোগিতা বন্ধ হতে পারে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন। জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি বলেন, এ বিষয়ে আইন-কানুন পুনর্বিবেচনা চলছে যে, একটি দেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার পরও তাকে কীভাবে সহযোগিতা প্রদান করা যায়।”

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা গওহর রিজভী এবং মুখ্য সচিব কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরী সাক্ষাতের সময় উপস্থিত ছিলেন।