বিপিএলে দাপট ধরে রেখেছেন দেশি বোলাররাই

বিপিএলে দাপট ধরে রেখেছেন দেশি বোলাররাই

ক্রীড়া প্রতিবেদক :ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর আগ্রহ বিদেশিদের ঘিরেই। একারণেই পঞ্চম বিপিএলে পাঁচ জন করে বিদেশি খেলোয়াড় খেলতে পারছে। চতুর্থ আসরে চারজন বিদেশি খেললেও, পঞ্চম আসরে পাঁচ জন বিদেশি। পাঁচের সঙ্গে পাঁচের দারুণ একটা মিল হয়েছে তাতে। তবে আরেকটা পাঁচ খুঁজতে গেলে সেখানে কিন্তু বিদেশিদের উজ্জ্বলতা একটু কমই। বরং বিপিএলের চট্টগ্রাম পর্ব শেষে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারিদের তালিকায় জ্বলজ্বল করছে দেশি বোলারদের নাম। সেটিও বিদেশিদের এমন ভাবে পিছনে ফেলে যে, আসর শেষে সেরা বোলারদের তালিকায় শীর্ষে থাকার দৌড়ে এগিয়ে বাংলাদেশিরাই।

বিপিএলের সাত দলের মধ্যে পাঁচ দলই খেলে ফেলেছে ১০টি করে ম্যাচ। দুটি দল খেলেছে ৯টি করে ম্যাচ। বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজিতে খেলা আবু জায়েদ রাহি, সাকিব আল হাসান, তাসকিন আহমেদ, আবু হায়দার রনি ও মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন ক্রমানুসারে রয়েছেন সর্বোচ্চ উইকেটে শিকারির তালিকায় এক থেকে সেরা পাঁচে। লাসিথ মালিঙ্গা, সুনিল নারিন, থিসারা পেরারা, রশিদ খান কিংবা শহীদ আফ্রিদির মতো বোলাররা কিনা সেখানে পিছিয়ে।

ফ্র্যাঞ্চাইজি ভিত্তিক টি-টুয়েন্টি লিগ চালুর পর অনেক কিছুতেই বদল এসেছে দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে। তবে বিদেশি প্রীতি কমেনি একটুও। স্বাভাবিকভাবেই অধিক বিদেশি খেলার প্রভাব পড়ে দেশি খেলোয়াড়দের উপর। এবারের আসর শুরুর আগে তাই সমালোচনা হয়েছে এই বিষয় নিয়ে। দেশি খেলোয়াড়দের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল পুরো আসরটিই। এই চ্যালেঞ্জ- বিদেশিদের টেক্কা দিয়ে নিজের প্রমাণ করার। এক অর্থে বড় বড় বিদেশিদের সঙ্গে পরোক্ষ একটা যুদ্ধও। বোলাররা সেই যুদ্ধে এ প্লাস মার্কসই পেয়ে যাচ্ছেন। যদিও আসর শেষ হতে এখনো বাকী। সবকটি দলই খেলবে কম পক্ষে দুটি বা কেউ তারও বেশি ম্যাচ।

খুলনা টাইটান্সের হয়ে খেলা আবু জায়েদ রাহি এখন পর্যন্ত শীর্ষে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারির তালিকায়। ৯ ম্যাচে ১৫ উইকেট নিয়েছেন ডান-হাঁতি ফাস্ট মিডিয়াম বোলার। মোট ৩২ ওভার বল করে খরচ করেছেন ২৯৫ রান। চার উইকেট নিয়েছেন ১ বার। ২৪ বছর বয়সী বোলার তাতে বিপিএলের আলোটা নিজের দিকে নিতে পেরেছেন ভালোভাবেই। ঢাকায় প্রথম পর্ব শেষ হওয়ার পরও শীর্ষে ছিলেন তিনিই। এখন পর্যন্ত ৫৬টি ফাস্ট ক্লাস ম্যাচ আর ৩৪টি লিস্ট ‘এ’ ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা তার। আবু হায়দার রনির মতো আবু জায়েদও তাই এই আসর থেকে পেয়ে যেতেই পারেন জাতীয় দল সিঁড়ি।

২০১৫ বিপিএলে বাজিমাত করা আবু হায়দার এবারের আসরেও এখন পর্যন্ত সেরা পাঁচে নিজেকে রাখতে পেরেছেন। ৯ ম্যাচে ১২ উইকেটে নিয়ে চতুর্থ স্থানে অবস্থান তার। একটি করে উইকেট বেশি নিয়ে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে যথাক্রমে সাকিব আল হাসান ও তাসকিন আহমেদ। আবু হায়দারের সমান ১২ উইকেটে নিয়ে পাঁচ নম্বরে সাইফ উদ্দিন।

শীর্ষ দশের তালিকা করতে বসলে অবশ্য সেখানে তিন বিশেদির নাম আসবে। ১১ উইকেট নিয়ে ছয় নম্বরে অবস্থান করছেন শহীদ আফ্রদি। তার স্বদেশি মোহাম্মদ সামি ১০ উইকেট নিয়ে রয়েছেন আট নম্বরে। সামির চেয় এক উইকেট বেশি নিয়ে সাত নম্বরে রয়েছেন বাংলাদেশের শফিউল ইসলাম। মোহাম্মদ সামির মতো ১০টি করে উইকেটে নিয়ে নবম স্থানে রয়েছেন ডোয়াইন ব্র্যাভো, দশম স্থানে মাশরাফি বিন মুর্তজা। একাদশ স্থানে থাকা আবুল হাসান ও দ্বাদশ স্থানে থাকা ফ্র্যাঙ্কলিনও পেয়েছেন ১০টি করে উইকেট।

১০ উইকেটে নিয়ে মাশরাফি সেরা বোলারদের তালিকায় দশম স্থানে আছেন। শুধু বোলিং চিন্তা করলে হয়তো তেমন বলার মতো পারফরম্যান্স নয়। কিন্তু আসরে আলোচিত পরাফরমারদের সেরাদের একজন তিনিই। তার ব্যাটে ঝড় উঠছে ঠিক ক্যারিয়ারের শুরুর সময়গুলোর মতো। দুটি ম্যাচে যেমন রংপুর জিতেছে তার ব্যাটে ভর করে। চিটাগং ভাইকিংসের বিপক্ষে ১৭ বলে ৪২ রানের ইনিংস খেলেন মাশরাফি। সিলেটের বিপক্ষে মুঠো থেকে বেরিয়ে যাওয়া এক ম্যাচ ১০ বলে ১৭ রান করে জিতিয়েছেন তিনি। ৯ ম্যাচে তার ১০৭ রান। তাতে বিপিএল থেকে যদি টি-টুয়েন্টির সেরা অল রাউন্ডারের খোঁজ করতে বসে বিসিবি, তবে মাশরাফি নামটিই তাদের খাতায় আগে লিখতে হবে। যে কিনা এই সংস্করণকে বিদায়ই বলে দিয়েছেন। অবশ্য অন্যভাবে বললে বিদায় নিতে বাধ্য হয়েছেন।

তবে মাশরাফির এই পারফরম্যান্সই বলতে গেলে দেশি খেলোয়াড়দের উজ্জ্বলতা আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। আবু জায়েদ রাহি, তাসকিন আহমেদ, আবু হায়দার, সাইফউদ্দিনরা প্রমাণ করেছেন ফ্র্যাঞ্চাইজিরা তাদের উপর নির্ভর করতে পারে। সর্বাধিক উইকেট শিকারির তালিকায় দেশি বোলারদের এই আধিক্য আসরের শেষ পর্যন্ত বজায় থাকবে এমনটাই আশা সবার।