সিংহ-চিতা পাচারকারী আক্কাস-মুক্তিকে খুঁজছে পুলিশ

যশোর ব্যুরো :যশোরে সিংহ ও চিতা বাঘ শাবক পাচারকারী চক্রের আক্কাস ও মুক্তিকে খুঁজছে পুলিশ। তাদের দুইজনকে আটক করতে পারলেই এই চক্রের মূলহোতা শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন তদন্ত কর্মকর্তা যশোরের চাঁচড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সৈয়দ বায়োজিদ।

.

তিনি বলেন, তদন্ত কাজ এগিয়ে চলছে। আটক দুই আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিও দিয়েছেন। এছাড়া রাজধানী ঢাকার উত্তরা থেকে আরও দুইজনকে আটক করা হয়েছে।

পাচারকারী চক্রের সদস্যদের শিগগির শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদী ওই তদন্ত কর্মকর্তা।

উল্লেখ্য গত ১৩ নভেম্বর যশোর পুলিশ বিলাসবহুল প্রাডো গাড়ি থেকে দুইটি সিংহ ও ল্যাপার্ড ক্যাট শাবক উদ্ধার করে। এসময় দুইজনকে আটক করা হয়। আটক দুইজনের বিরুদ্ধে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও চোরাচালান দমন আইনে মামলা দেয়া হয়। উদ্ধার হওয়া শাবক চারটিসহ আটক দুইজনকে ওইদিন বিকেলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে তাদেরকে হাজির করেন। বিচারকের আদেশে শাবক চারটিকে বণ্যাপ্রাণি ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের খুলনা বিভাগীয় কর্মকর্তার জিম্মায় দেয়ার আদেশ দেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সৈয়দ বায়োজিদ জানান, আটক কামরুজ্জামান বাবু ও রানা ভূঁইয়া ২০ নভেম্বর আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। শাবক চারটি ঢাকার উত্তরার জসিম উদ্দিন রোড থেকে যশোরের শার্শার সামটা গ্রামের বাসিন্দা মুক্তির কাছে পৌঁছে দেয়ার কথা ছিল। পাচারকারী চক্রের সদস্য ঢাকার আক্কাস আলী তাদের কাছে পশুর শাবকগুলো দিয়েছিল।

এই আক্কাস আলী ও মুক্তিকে খুঁজছি। আক্কাস আলীর ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর পাওয়া যায়নি। তার সন্ধানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

অপরদিকে মুক্তির বাড়িতে একাধিকবার হানা দিয়েও পাওয়া যায়নি তার। তাদের দুইজনকে আটক করতে পারলে পাচারকারী চক্রের মূলহোতাকে সনাক্ত করা সম্ভব হবে।

গত ২৫ নভেম্বর ঢাকার উত্তরা থেকে শাহবাজ ও ইয়াসিন নামে দুইজনকে আটক করা হয়েছে। পরের দিন তাদেরকে আদালতে হাজির করা হয়। তবে তাদের কাছ থেকে তেমন কোনো তথ্য মেলেনি।

তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক সৈয়দ বায়োজিদ বলেন, ১৬৪ ধারায় দুই আসামির জবানবন্দিকে গুরুত্ব দিয়ে মামলার তদন্ত এগিয়ে নিচ্ছি। তবে প্রাডো গাড়ির মালিক খাজা মঈনুদ্দিন পাচারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা সেটি এখনও নিশ্চিত নয়। তবে মালিকের অগোচরে ড্রাইভার ভাড়াই এসেছিল বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে।

গত ২০ নভেম্বর যশোরের অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মুহাম্মদ আকরাম হোসেন  দুই আসামির জবানবন্দি গ্রহণ শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। গাড়িচালক কামরুজ্জামান বাবু বগুড়ার আদমদিঘি উপজেলার বশিকড়া গ্রামের আহাদ আলীর ছেলে। বর্তমানে ঢাকার তুরাগ থানার ফুলবাড়ি টেকপাড়ার ১১ নম্বর সেক্টরের ১৯ নম্বর রোডের ৬১ নম্বর বাড়ির রুহুল আমিনের ভাড়াটিয়া। আর রানা ভূঁইয়া (২৮) নরসিংদির পলাশ উপজেলার বকুলনগর গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে। ভাড়া থাকেন ঢাকার উত্তরা থানার ৬ নম্বর সেক্টরের ১৩/ডি নম্বর রোডের দাদা গার্মেন্টস এর সামনের ৭ নম্বর বাসায়।

জবানবন্দিতে গাড়িচালক কামরুজ্জামান বাবু জানিয়েছেন, জনশক্তি রপ্তানিকারক খাজা মঈন উদ্দিনের এই বিলাসবহুল গাড়ি। তিনি ওমরা হজে যাওয়ায় তার স্ত্রীর সাথে কথা বলে ঢাকার একটি রেন্ট-এ কারের মাধ্যমে যশোরে যাওয়ার জন্য ২৭ হাজার টাকা ভাড়া চুক্তি হয় তার। ১৩ নভেম্বর সকালে রেন্ট-এ কারের তথ্য অনুযায়ী উত্তরার জসিম উদ্দিন রোডে গেলে দুইজন লোক তার গাড়িতে দুইটি বক্স উঠিয়ে দেয়। বক্সের ভিতর দুইটি সিংহ ও দুইটি চিতাবাঘের বাচ্চা আছে বলে তারা জানিয়ে দেয়। এরপর তাদের মধ্যে থেকে রানা তার সাথে আসে। শাবক চারটি যশোরের শার্শার সমটা গ্রামের মুক্তির কাছে পৌঁছে দেয়ার কথা ছিল তাদের।

রানা ভূঁইয়া জানিয়েছেন, তিনি একটি ফলের দোকানে মাঝেমধ্যে কাজ করতেন। সেখানে আক্কাস আলী নামে একজনের সাথে তার পরিচয় হয়। তাকে তিনি কাজ দেয়ার কথা বলে ১২ নভেম্বর রাতে উত্তরার জসিম উদ্দিন রোডে যেতে বলেন। ভোরে জমিন উদ্দিন রোডে এসে দেখেন আক্কাস আলী দাঁড়িয়ে আছেন। এরমধ্যে কালো রঙের একটি গাড়ি এসে তাদের সমনে এসে দাঁড়ায়। এ সময় আক্কাস আলী গাড়িতে দুইটি বক্স উঠিয়ে দিয়ে যশোরের শার্শার সামটা গ্রামের মুক্তির কাছে পৌঁছে দিতে বলেন। এ কাজের জন্য আক্কাস আলী তাকে ১০ হাজার টাকা দিতে চেয়েছিলেন।’

গত ২৮ নভেম্বর ওই দুই আসামি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন বলে জানা গেছে।