খুলনায় আমনের বাম্পার ফলন, কৃষকের মুখে হাসি

খুলনা প্রতিনিধি : অগ্রহায়ণে মাঠে মাঠে পাকা ফসলের মৌ মৌ গন্ধ ও ভরে উঠবে কৃষকের সারা বাড়ি। কৃষকের আঙিনা ভরবে সোনালি ধানে, মুখে ফুটে উঠেছে হাসির ঝিলিক। উঠানে ছড়াবে সোনালি ধান। সাথে আনন্দের বন্যা। কয়েক দিন পরে কৃষকের ঘরে ঘরে হবে নবান্ন উৎসব। এখন আমন ধান কাটা ও মাড়াই কাজ শুরু করেছে কৃষক। খুলনা জেলার ৯টি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষান-কৃষানীরা।

কৃষি বিভাগের দাবি, ধান উৎপাদনের এবার লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ২০ শতাংশ জমির ধান কাটা শেষ হয়েছে। খুলনাঞ্চলে প্রধান ফসল আমন মৌসুমের দিকে আমজনতা কৃষক তাকিয়ে আছে অধীর আগ্রহে। লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রমের জন্য কৃষকরা ব্যাপক পরিশ্রম করে ক্ষেতের পর ক্ষেত ফসল ফলিয়েছে। আর কয়েক দিন পরে ইরি, বেতি বালাম, চিনি কালাই, জটাই বালাম, স্বর্ণা ধান কাটা পুরোদমে শুরু হবে।

গত বছর আমন ধান বিক্রি হয়েছে প্রতিমন ৬৬০ টাকা, কাচরা ৯০০ টাকা, চিনি কানাই ১৩শ’ থেকে ১৩শ’ ৫০ টাকা, বাসমতি ৮৫০ টাকা, রানি সেলট ৯৫০ টাকা, বুটেসেলট ৮৫০ টাকা, গত বছরের তুলনায় এসব জাতের প্রতি মণ ধান ২০০ থেকে ২৩০ টাকা বেশি বিক্রি হবে বলে কৃষকরা আশাবাদী ।

সূত্র মতে, খুলনা জেলার ৯ উপজেলায় আমনের আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লক্ষ ৪৮ হাজার ১৫৩ হেক্টর। রোপণ করা হয়েছে ৯১ হাজার ৬২৫ হেক্টর জমি।
অপরদিকে, কৃষকও নানা সমস্যায় জর্জরিত। এনজিও সমিতির ঋণ করে আবার কেউ কেউ মহাজন ও ফড়িয়াদের কাছ থেকে দাদন নিয়ে জমি চাষ করেছেন। বর্গা চাষিদের পাশে কৃষি ব্যাংক না থাকায় তাদের এনজিও ও মহাজনদের শরণাপন্ন হতে হয়েছে।

বটিয়াঘাটা উপজেলার কৃষক মো. মোতালেব হাজরা পরিবর্তন ডটকমকে জানান, তিনি এ মৌসুমে ১০ বিঘা জমিতে আমনের আবাদ করেছেন। এতে তার ব্যয় হয়েছে ২৫ হাজার টাকা । এ আবাদ করে তিনি প্রায় ১শ মণ ধান পেতে পারেন বলে ধারণা করছেন । তিনি আরো জানান এখনও ১৫ দিন পর থেকে পুরোদমে ধান কাটা শুরু হবে । গত বছরের তুলনায় এবার ধান ২০০ থেকে ২৩০ টাকা বেশি বিক্রি হবে বলে আশাবাদী ।
দিঘলিয়ার উপজেলার দেয়াড়া গ্রামের মোল্লা আব্দুর রহমান পরিবর্তন ডট কমকে জানান, এ বছর ১৫ বিঘা জমিতে আমনের আবাদ করেছেন । তার খরচ হয়েছে প্রায় ৪০ হাজার টাকা । সে এ আবাদ করে প্রায় ১শ ৫০ মন ধান পেতে পারেন বলে ধারনা করছেন । গত বছর যে ধান বিক্রি হয়েছে সেই ধান এ বছর ২শ টাকা বেমি বিক্রি হবে । তার জমির ধান পুরো কাটা হয়নি আংশিক বৃস্পতিবার কেটে জমিতে রাখা হয়েছে ।তিনি আরো বলেন, এ বছর ধানের বাজারমূল্য ভালো থাকায় উৎপাদন খরচ বাদে আশানুরূপ মুনাফা চোখে দেখা যাবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খুলনা উপ-পরিচালক আব্দুল লতিফ পরিবর্তন ডটকমকে জানান, ইতোমধ্যে খুলনা মেট্রোসহ জেলার ৯ উপজেলায় শতকরা ২০ ভাগ রোপা আমন কর্তন করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় রোপা আমনের ফলন ভালো হয়েছে। এ বছর রোপা আমনের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় অর্জিত বেশি হয়েছে। ফলে কৃষকের মুখে এখন হাসির ঝর্ণা। বর্তমানে উঁচু জমির ধান কাটা ও মাড়াই চলছে। নিচু জমির ধান আর ১৫/২০ দিন পরে কাটা হবে।