তিনশ কোটি টাকা লোকসানের বোঝা নিয়ে আখ মাড়াই মৌসুম শুরু

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের ভারি শিল্প প্রতিষ্ঠান ঝিনাইদহের মোবারকগঞ্জ সুগার মিলে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা লোকসানের বোঝা নিয়ে শুরু হলো ৫১তম আখ মাড়াই মৌসুম।.

এর আগে ৫০ মৌসুমের মধ্যে সুগারমিলটি লাভের মুখ দেখেছে মাত্র ১৬ মৌসুমে। এতে লাভের পরিমান ছিল মাত্র ৩৮ কোটি টাকা। বাকি ৩৪ মৌসুমে লোকসান হয়েছে প্রায় ৩০১ কোটি টাকা।

এছাড়া গত মৌসুমের ১২ কোটি টাকার চিনি এখনো অবিক্রিত রয়েছে। পাশাপাশি মিল শ্রমিকদের দুই মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে প্রায় ২ কোটি টাকা।

শুক্রবার বিকেলে ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম মিলের ডোঙ্গায় আখ ফেলে এই মৌসুমের উদ্বোধন করেন। এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশনের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা প্রকৌশলী আব্দুর রশিদ, ডিজিএম মেকানিক্যালের গোলাম মোর্তুজা প্রমুখ।

এ মৌসুমের ৯৫ দিনে কৃষকের ১ লাখ ১০ হাজার মেট্রিকটন আখ মাড়াইয়ের মাধ্যমে ৭ হাজার ৭০০ মেট্রিকটন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সুগার মিল কর্তৃপক্ষ।

মিল সুত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠার পর মোবারকগঞ্জ সুগার মিল ৫০টি আখ মাড়াই ও চিনি উৎপাদন মৌসুম পার করেছে। ২০১৭-১৮ মৌসুমটি হবে প্রতিষ্ঠানটির ৫১তম আখ মাড়াই মৌসুম। এ মৌসুমে আখের লক্ষমাত্রা ছিল ১ লাখ ৫ হাজার মেট্রিকটন।

মোবারকগঞ্জ সুগার মিলের ভারপ্রাপ্ত ভান্ডার কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক পরিবর্তন ডটকমকে জানিয়েছেন, মিলের গোডাউনে গত বছরের প্রায় দুই হাজার টন চিনি এখনো অবিক্রিত রয়েছে। প্রতি টন চিনির মুল্য ৬০ হাজার টাকা। এ হিসেবে ১২ কোটি টাকার চিনি অবিক্রিত রয়েছে।

এ মৌসুমের লক্ষমাত্রা অর্জন প্রসঙ্গে মোবারকগঞ্জ চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেলোয়ার হোসেন পরিবর্তন ডটকমকে বলেন,  প্রতিদিনই আখ চাষের জন্য কৃষকদের সাথে বৈঠক করার পাশাপাশি তাদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। মিলের ইক্ষু বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে আখচাষ করতে কৃষকের উদ্বুদ্ধ করছেন।

আগামীতে কৃষকরা আরো বেশি আখ চাষ করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন মোবারকগঞ্জ চিনিকলের এই ব্যবস্থাপনা পরিচালক।