আটক তৃতীয় স্ত্রীর দাবি, ভিকু ছিলেন নারী লিপ্সু> পঞ্চম স্ত্রীর হত্যা মামলা, আসামি ৩ এনজিও’র হিসাবরক্ষক আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক>
যশোরে প্রত্যাশা সমাজ কল্যাণ সংস্থার নির্বাহী পরিচালক গোলাম কুদ্দুস ভিকু হত্যার অভিযোগে সংস্থার হিসাব রক্ষক মাসুদুর রহমানকে (৪৫) আটক করেছে পুলিশ। রোববার রাতে উপশহর এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। মাসুদুর সদর উপজেলার ঘুরুলিয়া গ্রামের আবেদ আলীর ছেলে।
এদিকে ভিকু হত্যার অভিযোগে কোতয়ালি থানায় মামলা হয়েছে। নিহতের ছোট স্ত্রী (পঞ্চম) শারমিন আক্তার লাকি (২২) তিনজনকে আসামি করে মামলাটি করেন।
আটক মাসুদুর রহমান ছাড়াও এই মামলার অন্য আসামি হলো নিহতের তৃতীয় স্ত্রী ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার নস্তি গ্রামের কামারপাড়ার আলাউদ্দিন বিশ্বাসের মেয়ে আমেনা খাতুন (৩৮) এবং প্রত্যাশা সমাজ কল্যাণ সংস্থার ব্যবস্থাপক সদর উপজেলার ফতেপুর রাজাপুর গ্রামের মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে বাহার আলী (৩৫)। আমেনাকে শনিবার রাতে মহেশপুর থেকে আটক করে যশোরে নিয়ে আসে পুলিশ।
আটক দুইজনকে আদালতে পাঠিয়ে পুলিশ ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে।
মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, গোলাম কুদ্দুস ভিকু প্রত্যাশা সমাজ কল্যাণ সংস্থার নির্বাহী পরিচালক। আর আসামিরা ওই সংস্থায় বিভিন্ন পদে চাকরি করেন। আসামি আমেনা এক সময় সংস্থায় চাকরি করতেন। তারা বিভিন্ন সময়ে অফিসের টাকা পয়সা আত্মসাৎ করে। এই কারণে তার স্বামী ভিকুর সাথে আসামিদের শত্রুতা তৈরি হয়। গত ২ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৯টার দিকে ভিকু তার উপশহরস্থ সি ব্লকের বাড়িতে ফেরার সময় আসামিরা দুইটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। বোমার শব্দে তিনি বাড়ি থেকে বাইরে বের হয়ে দেখেন তার স্বামী কানের নিচে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছেন। তিনি চিৎকার দিলে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে এসে ভিকুকে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আসামিরা পরস্পর যোগসাজসে তার স্বামী গোলাম কুদ্দুস ভিকুকে গুলি করে হত্যা করেছে।
এই মামলায় আটক ভিকুর তৃতীয় স্ত্রী আমেনা খাতুন জানিয়েছেন, এই হত্যার সাথে তার কোন সম্পৃক্ততা নেই। ২ ডিসেম্বর রাতে পুলিশ তার বাড়ি মহেশপুরের নস্তি গ্রামে গিয়ে আটক করে যশোর কোতয়ালি থানায় নিয়ে আসে। ২০১৩ সালে তিনি ভিকুকে আসামি করে যৌতুক নিরোধ আইন, নারী ও শিশু নির্যাতন আইন এবং পারিবারিক বিরোধ নিস্পত্তি আইনে তিনটি মামলা করেন ঝিনাইদহের আদালতে। মামলা গুলো এখন বিচারাধীন। মামলা গুলোর কার্যক্রম স্থগিত করার জন্য ৫ ডিসেম্বর তার উচ্চ আদালতে যাওয়ার কথা ছিল বলে তিনি জানিয়েছেন।
আমেনা জানিয়েছেন, নিহত ভিকু ছিলেন নারীলিপ্সু। জীবদ্দশায় তিনি ৫টি বিয়ে করেছেন। এছাড়া বিয়ে বর্হিভুত সম্পর্ক ছিল বহু নারীর সাথে। তার প্রথম স্ত্রী যশোর শহরতলীর শেখহাটি এলাকার আব্দুর রউফ মুন্সির মেয়ে রিনা বেগম। এরপর বিয়ে করেন বকচর হুশতলা এলাকার পারভীন আক্তার মিমিকে। ওই ঘরে তার একটি মেয়ে আছে। তৃতীয় বিয়ে করে তাকে। ২০১২ সালের ডিসেম্বররে দ্বিতীয় স্ত্রীকে তালাক দেয়ার পর ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাকে বিয়ে করেন। তিনি সে সময় আরআরএফ নামে একটি এনজিও’তে চাকরি করতেন। সেখান থেকে তাদের পরিচয়। এরপর বিয়ে। বিয়ের পর প্রত্যাশা সমাজ কল্যাণ সংস্থায় চাকরি দেন ভিকু। বিয়ের পর নারীলিপ্সু ভিকুর সাথে সংসার করা হয়ে ওঠেনি। তিনি ব্যাপক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। পরে তিনি ঝিনাইদহ আদালতে মামলা করেন। সেই মামলা এখনো চলছে।
তিনি আরো বলেছেন, চতুর্থ বারের মতো ভিকু বিয়ে করেন যশোর সদর উপজেলার কুয়াদা এলাকার তানিয়া খাতুন নাম এক নারীকে। তানিয়াও সংসার করতে পারেনি। পরে পঞ্চমবারের মতো বিয়ে করেন শারমিন আক্তার লাকিকে। লাকি এখন তার ঘরেই আছেন। ওই লাকিই ঈর্শান্বিত হয়ে তাকে আসামি করে মামলা করেছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতয়ালি থানার ইন্সপেক্টর (ইন্টিলিজেন্স অ্যান্ড কমিউনিটি পুলিশিং) আলমগীর হোসেন বলেছেন, এই মামলায় এজাহারভূক্ত দুই আসামি আমেনা এবং মাসুদুর রহমানকে আটক করা হয়েছে। তাদের আদালতে পাঠিয়ে ৫দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। এখনো রিমান্ড শুনানি হয়নি।