যশোর কলেজে রজতজয়ন্তীতে মিলনমেলা> শিক্ষার আধুনিকায়নে নিরলস চেষ্টায় সরকার : কাজী নাবিল

নিজস্ব প্রতিবেদক>যশোর-৩ সদর আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার সারাদেশে সুষম উন্নয়ন কাজ করছে। শিক্ষার আধুনিকায়নে নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এসরকার। এ সরকারের আমলেই যশোর সদর উপজেলায় ২৬টি স্কুলে বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। নির্মাণ অপেক্ষায় আছে আরো ৬০ স্কুল ভবন। আগামী এক বছরের মধ্যে যশোরের শতভাগ মানুষ যাতে বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগ পান সেজন্য কাজ চলছে।’
তিনি বলেন, ‘ভৈরব নদ সংস্কারে ৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যশোরে আইটি পার্ক নির্মাণ শেষ হয়েছে। চলতি মাসের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই তা উদ্বোধন করবেন। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে কয়েকশ’ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই সরকারের মেয়াদে শুধু যশোর সদর উপজেলায় সড়ক নির্মাণে ৭০ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। এভাবে প্রতি সেক্টরে বরাদ্দ দিয়ে বর্তমান সরকার যশোরের উন্নয়ন করছে। ভবিষ্যতে এই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে।’
গতকাল যশোর কলেজের রজতজয়ন্তী উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। প্রধান বক্তা ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক গবেষক অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম ।
কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ড. কাজী আনিস আহমেদের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য দেন কলেজের অধ্যক্ষ মুস্তাক হোসেন শিম্বা। আরো বক্তব্য রাখেন কলেজের প্রতিষ্ঠাতা আহবায়ক অধ্যাপক নার্গিস বেগম, যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাধব চন্দ্র রুদ্র প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন, ‘বর্তমানে এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা দাঁড়িয়ে গেছে সেখানে একটি তোতা পাখিও সার্টিফিকেট অর্জন করতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা নোট আর গাইডনির্ভর এই শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রকৃত শিক্ষা অর্জন অসম্ভব। আর এর সাথে বর্তমানে শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। শিক্ষার্থীদের সাথে পাঠ্যবইয়ের কোনো সম্পর্ক থাকছে না। ফলে দিন দিন দেশের শিক্ষার মান কমছে। এ থেকে বেরিয়ে আসার পথ আমাদের খুঁজতে হবে।’
রজতজয়ন্তীকে ঘিরে যশোর কলেজে এদিন ছিল এক অন্য রকম দিন। রজতজয়ন্তীতে মেতে ওঠেন শিক্ষক, সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী, অভিভাবকরা। তারা স্মৃতিচারণমূলক গল্প আড্ডা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোচনাসভা আর বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় অংশ নিয়ে মুখরিত করে তোলে। সাথে যোগ দেন অতিথিরাও। রজতজয়ন্তী উদযাপনে কলেজে এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।
এর আগে পতাকা ও বেলুন উড়িয়ে তিনিসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা কলেজের রজতজয়ন্তীর অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন।
বিকেলে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়।
এর আগে সকালে কলেজটির রজতজয়ন্তী উপলক্ষে শহরে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। টাউন হল ময়দান থেকে শুরু হয়ে শোভাযাত্রাটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক হয়ে কলেজ ক্যাম্পাসে গিয়ে শেষ হয়।