নিখোঁজ কূটনীতিকের বাসায় ক্যাপ পরে যাওয়া তিনজন কারা?

স্পন্দন নিউজ ডেস্ক : রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মেয়েকে আনতে গিয়ে সাবেক রাষ্ট্রদূত মারুফ জামান নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তিন সুঠামদেহীর সন্ধান করছেন। পরিবারের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই তাদের সন্ধান করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। মারুফ জামান পৈত্রিক জমিতে করা ধানমন্ডির রোড ৯/এর ৮৯ নম্বর ছয়তলা ভবনের তৃতীয় তলায় থাকেন। ওই বাড়ির চতুর্থ তলায় বড় বোন শাহরিনা কামাল এবং পঞ্চম তলায় তার ছোট ভাই রিফাত জামান থাকেন।মারুফ জামান সর্বশেষ ভিয়েতনামে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ছিলেন। তার আগে তিনি কাতারে রাষ্ট্রদূত ছিলেন। এরপর ২০১৩ সালে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে পদোন্নতি নিয়ে অবসরে যান মারুফ জামান।

ব্যক্তিগত গাড়ি (ঢাকা মেট্রো-গ-২১-১৩৯৯) চালিয়ে গত সোমবার সন্ধ্যায় তিনি বাসা থেকে বিমানবন্দর থেকে মেয়েকে আনার জন্য বের হন। এরপর থেকে মারুফ জামান নিখোঁজ রয়েছেন। পরের দিন মঙ্গলবার পরিবারের সদস্যরা ধানমন্ডি থানায় একটি জিডি করেন। এরপর খিলক্ষেত থানাধীন ৩০০ ফিট সড়ক থেকে মারুফ জামানের ব্যক্তিগত গাড়ি পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ।

কিন্তু, এ বিষয়ে সাবেক এই কূটনীতিকের পরিবারের সদস্যরা সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কোনো কথা বলছেন না। তবে বুধবার ধানমন্ডির রোড ৯/এর ৮৯ নম্বর বাড়িতে গেলে পরিবারের পক্ষ থেকে বাড়ির গেটে একটি বিজ্ঞপ্তি রাখা হয়।

এতে নিখোঁজ মারুফ জামানের বড় বোন শাহরিনা কামাল ও ছোট ভাই রিফাত জামানের পক্ষ থেকে বলা হয়, মারুফ জামান একজন অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন। পরে পররাষ্ট্র ক্যাডারে আত্মীকরণ হন। তিনি কাতার ও ভিয়েতনামে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেছেন। যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশ দূতাবাসেরও সাবেক কাউন্সেলর ছিলেন।

ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সোমবার সন্ধ্যা সাতটা ৪৫ মিনিট নাগাদ বাসার ল্যান্ড ফোনে অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোন করে গৃহপরিচারিকাকে বাসায় তার কম্পিউটার নিতে কেউ একজন আসবেন বলে জানান।

এর কিছুক্ষণ পর রাত আটটা পাঁচ মিনিটের দিকে তিনজন সুঠামদেহী ভদ্রলোক বাসায় এসে তার ল্যাপটপ, বাসার কম্পিউটারের সিপিইউ, ক্যামেরা ও একটি মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। এ সময় তারা মারুফ জামানের ঘরে তল্লাশিও চালায়। তখন যোগাযোগ করা হলে মারুফ জামানের মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।

সে সময় থেকে মারুফ জামানের সঙ্গে কোনও ধরনের যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পরিবারের সদস্যরা তার ভবিষ্যত নিয়ে অত্যন্ত চিন্তিত ও উদ্বিগ্ন। মারুফ জামানকে যত দ্রুত সম্ভব উদ্ধার করার দাবি জানানো হয়েছে এই বিজ্ঞপ্তিতে।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মারুফ জামানের বাসার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। এতে সুঠামদেহী তিনজনকে বাসায় ঢুকে ল্যাপটপ, কম্পিউটারের সিপিইউ, ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন নিয়ে যেতে দেখা গেছে। চেহারা লুকাতে তারা সবাই মাঙ্কি ক্যাপ পরেছিলেন।

বুধবার দুপুরে মারুফ জামানের ধানমন্ডির বাসায় গিয়ে ডিবির এক কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়। তিনি ঘটনার তদন্ত সংশ্লিষ্টকাজে এসেছেন।

পুলিশের তদন্ত সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, সিসিটিভির ফুটেজ দেখে মনে হচ্ছে, ওই তিনজন মারুফ জামানের বাসা সম্পর্কে বেশ সচেতন। ক্যামেরা এড়ানোর জন্য তারা নিচের দিকে মাথা নিয়ে যাওয়া-আসা করেছেন।

বাসায় ঢুকা থেকে বের হওয়া পর্যন্ত এই তিন যুবক ১৬/১৭ মিনিট সময় নিয়েছেন। এর মধ্যে বাসার ভেতরে ৮ মিনিটের মত ছিলেন বলে সূত্রের দাবি।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাসা থেকে মারুফ জামানের ল্যাপটপ, মোবাইসহ গুরুত্বপূর্ণ জিনিস নেওয়া তিন ব্যক্তিকে সন্ধান করা হচ্ছে। এর বাইরে পারিপার্শ্বিকতা বিবেচনায় নিয়ে তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।

এ বিষয়ে ধানমন্ডি থানার ওসি আব্দুল লতিফ পরিবর্তন ফটকমকে বলেন, ‘সিসিটিভির ফুটেজের তিন ব্যক্তির সন্ধান এবং মারুফ জামানকে বের করতে আমরা জোর তদন্ত চালাচ্ছি। উদ্ধার হওয়া গাড়ি ধানমন্ডি থানায় আনা হয়েছে।’

ঘটনাস্থল থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সহকারী কমিশনার (এসি) মো. ফজলুর রহমান পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘এ ঘটনাটি পুলিশ তদন্ত করছে। পাশাপাশি ডিবিও ছায়া তদন্ত শুরু করেছে।’