টেস্ট অধিনায়ক সাকিব, ডেপুটি মাহমুদউল্লাহ

ক্রীড়া প্রতিবেদক>
দেশের সবশেষ টেস্ট সিরিজে বিশ্রাম নেওয়া সাকিব আল হাসানকে টেস্ট দলের নতুন অধিনায়ক করা হয়েছে। তার সহকারী হিসেবে কাজ করবেন মাহমুদউল্লাহ।

রোববার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালনা পর্ষদের সভায় মুশফিকুর রহিমকে সরিয়ে সাকিবকে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনে নেতৃত্বে এই পরিবর্তনের কথা জানান বিসিবি প্রধান নাজমুল হাসান।

“আমরা টেস্ট অধিনায়ক পরিবর্তন করছি। আগামী সিরিজ থেকে আমাদের টেস্ট অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। সহ-অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। অন্য ফরম্যাটে যেভাবে ছিল সেভাবেই থাকবে।”

দক্ষিণ আফ্রিকায় হতাশার সফর শেষে টেস্ট দলের নেতৃত্বের পরিবর্তন অনুমিতই ছিল। প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছিল মুশফিকুর রহিমের নেতৃত্ব। ম্যাচ চলার সময়ে বোলারদের কঠোর সমালোচনা করে নিজেও সমালোচনায় পড়েন এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান।

ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি নেতৃত্বে পরিবর্তন আনার সময় নাজমুল হাসান বলেছিলেন, তারা চান ব্যাটিংয়ে আরও বেশি মনোযোগ দিক মুশফিক। এবারও বললেন সেই কথাই। তবে এর বাইরেও যে কিছু আছে দিলেন তারও ইঙ্গিত।

“একেবারে যে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রেক্ষাপট আছে তা না, আর থাকলেও সব সময় বলা যাবে না। আমরা মনে করছি, এখানটায় একটা পরিবর্তন করা দরকার।”

“ব্যাটিংয়ে মুশফিকের সেরাটা চাই। আমরা মনে করছি, ব্যাটিংয়েই সে মনোযোগ দিক, ওকে চাপমুক্তও করতে চাচ্ছি।”

টেস্ট দলের সহ-অধিনায়ক ছিলেন ওপেনার তামিম ইকবাল। তার জায়গায় দায়িত্ব পাওয়া মাহমুদউল্লাহ আগেও সহ-অধিনায়ক ছিলেন। ছন্দ হারিয়ে ফেলায় পরে নিজে থেকেই সরে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি।

তামিমকে টেস্ট দলের সহ-অধিনায়কত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার কোনো ব্যাখ্যা দেননি বিসিবি প্রধান। তার বদলে জানালেন, “তামিম টি-টোয়েন্টিতে ডেপুটি আছে সে টি-টোয়েন্টিতেই থাকবে।”

২০০৯ সালে বাংলাদেশের অধিনায়কত্ব পান সাকিব, সহ-অধিনায়ক হন তামিম। ২০১১ সালে জিম্বাবুয়ে সফরে ব্যর্থতায় নেতৃত্ব হারান দুই জনেই। মুশফিককে নতুন অধিনায়ক বেছে নেয় বিসিবি, সহ-অধিনায়ক হন মাহমুদউল্লাহ।

২০১৪ সালে বাংলাদেশের টানা ব্যর্থতার মাঝে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে মাশরাফি বিন মুর্তজাকে নেতৃত্বে আনে বিসিবি। অভিজ্ঞ এই পেসার এখনও ওয়ানডে অধিনায়ক। সেখানে তার ডেপুটি সাকিব।

টি-টোয়েন্টি থেকে মাশরাফির অবসরের পর গত এপ্রিলে টি-টোয়েন্টি দলের নেতৃত্ব পান সাকিব। এবার অধিনায়ক হলেন আরেক সংস্করণে।

তিন ফরম্যাটে তিন অধিনায়ক টিকল না বেশিদিন। আবার কী তিন ফরম্যাটে এক অধিনায়কের দিকে ফিরে যাবে বিসিবি?

“হতে পারে। এই মূহর্তে বলা মুশকিল। দুইটার ইতিবাচক-নেতিবাচক ব্যাপারগুলো আমরা দেখছি। এই মুহূর্তে হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। যেহেতু মাশরাফি এরই মধ্যে আমাদের ওয়ানডে অধিনায়ক। আর সেখানে হাত দেওয়ার প্রশ্নই উঠে না আর তার প্রয়োজনও দেখছি না।”

টি-টোয়েন্টিতে সাকিবের নেতৃত্বে ৬ ম্যাচের সবকটিতে হেরেছে বাংলাদেশ। টেস্টে বাঁহাতি অলরাউন্ডারের অধীনে ৮ ম্যাচে জয় মাত্র একটি।

দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজের আগে টেস্ট থেকে ছয় মাসের ছুটির আবেদন করেন সাকিব। বিসিবি তাকে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দুই টেস্টের জন্য বিশ্রাম দেয়। নাজমুল হাসান জানান, নেতৃত্বে বদল আনার আগে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলে নিয়েছেন।

“সাকিবের সাথে কথা বলেছি। আমি মুশফিকের সাথে কথা বলেছি। আমি (মাহমুদউল্লাহ) রিয়াদের সাথেও কথা বলেছি। মুশফিক আজকে দেশে নাই, ও থাইল্যান্ডে আছে। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে ওর সাথে কথা বলেছি।”

মুশফিকের অধীনে ৩৪ টেস্ট খেলে ৭টিতে জিতেছে বাংলাদেশ। হেরেছে ১৮ টেস্ট, ড্র হয়েছে অন্য ৯টি। অন্য কোনো অধিনায়কের নেই একাধিক জয়।