আওয়ামী লীগকে জয়ের ‘সুখবর’

বিডিনিউজ >
নবমের চেয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বেশি ভোট পাবে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।
সোমবার আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে জয় কথা বলেন।
আগামী নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের জয় আসবে জানিয়ে তিনি বলেন, “একটা সুখবর জানাতে আমি এসেছি। আগামী নির্বাচন নিয়ে আমি জরিপ করেছি। দলকে জানাতে যে, আমার জরিপের রেজাল্ট এত ভালো আসছে যে, আজকে যদি নির্বাচন হয়, তাহলে বোঝা যাবে আগের চেয়েও বেশি ভোট পাবে আওয়ামী লীগ। ২০০৮ সালের চেয়েও বিপুল, ল্যান্ড সøাইড পাবে আওয়ামী লীগ।
“এবং এটা সায়েন্টিফিক্যালি জরিপ করে আমরা পেয়েছি। এখানে আওয়ামী লীগের ভয় পাওয়ার কিছু নেই। এ কথাটা জানাতে আমি এসেছি।
নির্বাচনে নিজের প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছে নেই বলেও জানান তিনি।
এক প্রশ্নে জয় বলেন, “প্রার্থী হচ্ছি না। আমার উদ্দেশ্য দলকে ক্ষমতায় রাখা। এমপি-মন্ত্রী হওয়ার লোভ আমার নেই। এটা ভবিষ্যতে দেখা যাবে। দলকে কিভাবে ক্ষমতায় রাখতে পারি এটাই আমার লক্ষ্য।”
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী ২০০৮ সালে ২৯ ডিসে¤॥^রের নবম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২৩০ আসন পায়। এতে মোট ভোটের ৪৮ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ ভোট পায় দলটি, যার সংখ্যা তিন কোটি ৩৬ লাখ ৩৪ হাজার ৬২৯টি।
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির দশম সংসদ নির্বাচনে ২৩৪টি আসন পায়। ওই ভোটে ১৫৩ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা। বাকি ১৪৭ আসনে দলটি ভোট পায় এক কোটি ২৩ লাখ ৫৭ হাজার ৩৭৪টি, যা মোট ভোটের ৭২ দশমিক ১৪ শতাংশ।
নবম সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ৩০টি আসন জিতলেও ভোট পেয়েছিল দুই কোটি ২৭ লাখ ৫৭ হাজার ১০১টি; যা মোট প্রদত্ত ভোটের ৩২ দশমিক ৫০ শতাংশ।
তবে দশম সংসদে অংশ নেয়নি দলটি। ওই নির্বাচনে জাতীয় পার্টি ৩৪ আসন নিয়ে ভোট পায় ১১ লাখ ৯৯ হাজার ৭২৭টি; যা ১৪৭ আসনের প্রদত্ত ভোটের সাত শতাংশ।
২০১৮ সালের শেষ দিকে একাদশ সংসদ নির্বাচন হবে।
ধানম-িতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিকাল তিনটা থেকে দেড় ঘণ্টা আওয়ামী লীগের সম্পাদক ম-লী ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন সজীব ওয়াজেদ জয়।
আওয়ামী লীগকে ফের ক্ষমতায় আনার বিষয়ে জয় বলেন, “আওয়ামী লীগ আগামী নির্বাচনে ক্ষমতায় আসবেই। আওয়ামী লীগের প্রতি মানুষের যে বিশ্বাস এবং ভালোবাসা চলে এসেছে, আওয়ামী লীগকে ভোটে হারানোর মত কোনো দল বাংলাদেশে নেই। এবার বিপুল ল্যান্ড সøাইড হবে। এটা আমার জরিপে একদম স্পষ্ট। এটা নিয়ে আমার খুব একটা চিন্তা নেই।”
এটি কোন প্রতিষ্ঠানের জরিপ জানতে চাইলে তিনি বলেন, “জরিপটা আমরা প্রত্যেক বছরই করি। আমাদের একটা কোম্পানি আছে, সেটা থেকেই করি। এটা আমার বিষয়, এটা নিয়ে আমি স্টাডি করেছি, কাজ করেছি। তো আমার বিশ্বাস হচ্ছে, আমার জরিপ হচ্ছে মোস্ট অ্যাকিউরেট জরিপ।”
নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীতনয় বলেন, “দলের সাথে অনেক দিন বসা হয় না, আওয়ামী লীগের অনেক নেতাদের সাথে, এছাড়া সহযোগী সংগঠনের নেতাদের সাথে। কাদের ভাই এবার আমাকে বললেন বসতে।
“এতদিন শুধু ডিজিটাল বাংলাদেশ নিয়েই ব্যস্ত ছিলাম। ইয়ংবাংলা, সিআরআই এগুলো নিয়েই ব্যস্ত ছিলাম। আর আমার দুইটা কথা ছিল যেটা আমি দলের নেতাদের জানাতে চাচ্ছিলাম। আমার মতামত আমার পরামর্শ দলকে জানাতে আসা।”
বৈঠকে নির্বাচনী প্রচার বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন বলে জানান জয়।
নির্বাচন নিয়ে যেকোনো ষড়যন্ত্রে নজর রাখার কথা জানিয়ে বলেন,“ষড়যন্ত্র তো লেগেই আছে, আমাদের নজর রাখতে হবে- আগামী এক বছর- কোনো দুর্ঘটনা, যেগুলো আমরা গত নির্বাচনে দেখেছি, যেভাবে আমাদের দেশের মানুষের ওপর আগুন দিয়ে সন্ত্রাস চালিয়েছে, এরকম ঘটনা যাতে না হয়।”
নির্বাচনী প্রচারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আপনারা দেখেছেন গত নির্বাচনে আমি আমার দলের জন্য ক্যাম্পেইন করেছি। ভেবে নিতে পারেন যে এখন থেকেই আরম্ভ। প্রচারণা আমরা সবদিক থেকেই চালাব। আপনারা খেয়াল করে দেখবেন আমরা চার বছর ধরেই প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি। যেহেতু নির্বাচন ছিল না সে কারণে বিপুলভাবে হয়নি। এখন হবে।”
বাংলাদেশে দুর্নীতি মামলায় বিচারের মুখে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও তার পরিবারের সদস্যদের বিপুল পরিমাণ সম্পদ সৌদি আরবে রয়েছে বলে সম্প্রতি দেশের কয়েকটি সংবাদ মাধ্যমে বিদেশি একটি প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে খবর প্রকাশিত হয়।
তবে পৃথিবীর কোথাও খালেদা জিয়া ও তার পরিবারের নামে এই ধরনের কোনো সম্পত্তি নেই বলে দাবি করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
এর প্রতিক্রিয়ায় জয় বলেন, “দেখেন এখানেই তো প্রমাণ হচ্ছে তারা কিভাবে মিথ্যা কথা বলে। তারেক রহমান এবং কোকোর বিরুদ্ধে এফবিআই এসে সাক্ষ্য দিয়ে গেছে। তারা দুর্নীতি করেছে, ঘুষ নিয়েছে, তাদের টাকা পাওয়া গেছে। এফবিআই এসে বাংলাদেশে সাক্ষ্য দিয়ে গেছে। সেখানে মির্জা ফখরুল কিভাবে বলেন তাদের বিশ্বের কোথাও কোনো অ্যাকাউন্ট নেই টাকার? এই খবর তো আমাদের কাছ থেকে আসে নাই। এটা আন্তর্জাতিক মিডিয়া থেকে এসেছে, যে তাদের সৌদিতে ১২ বিলিয়ন ডলার পাওয়া গেছে।”
তিনি আরো বলেন, “তাদের টাকা তো আগেও ধরা পড়েছে, এফবিআই পেয়েছে। এবারও ধরা পড়েছে। এটা তো কিছুই না, নিশ্চয়ই আরও টাকা তাদের আছে, আরও অনেক জায়গায়, যেটা আমরা জানি না।”
আগামী নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণের বিষয়ে জয় বলেন, “ইলেকশনের বিষয়টা হচ্ছে ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার। আমরা তো কাউকে বাধ্য করতে পারি না নির্বাচনে অংশ নিতে। কোনো দল যদি নির্বাচনে না আসতে চায়, আমাদের কিছু করার নেই, এটা আমাদের দায়িত্ব না।”
সংবাদ সম্মেলনে জয়ের সঙ্গে ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।