নিভৃতে কেটে গেল শহীদ সিরাজুদ্দীনের হারিয়ে যাওয়ার দিন

বিডিনিউজ >
১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে পূর্ব পাকিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন কনস্যুলেটের গোপন একটি প্রতিবেদন ফাঁস করে আলোচনার ঢেউ তুলেছিলেন সাংবাদিক সিরাজুদ্দীন হোসেন।
মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের বিরোধিতা করছিল মার্কিন সরকার। সেখানে তাদের কনস্যুলেট থেকে পাঠানো প্রতিবেদনে পূর্ব পাকিস্তানের বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরায় সেটা বাংলাদেশের পক্ষে জনমত গঠনেও রেখেছিল ব্যাপক ভূমিকা।
১০ ডিসেম্বর অন্তর্ধানের আগে একাত্তরে পূর্ব পাকিস্তানের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘের বিল¤॥^ মন্তব্য নিয়ে উপসম্পাদকীয় লিখেছিলেন তিনি।
ওই রাতেই তুলে নিয়ে যাওয়া এই সাংবাদিককে, আর খুঁজে পাওয়া যায়নি তাকে।
বাংলাদেশের জন্মযুদ্ধে এ রকম নানা অবদান রেখে পরে প্রাণ বিলিয়ে দেওয়া এই সাংবাদিককের অন্তর্ধান দিবস কেটে গেল অনেকটা নিভৃতেই।
রোববার রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ঘরোয়া আয়োজনে তাকে স্মরণ করে পরিবার-স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীরা।
অবশ্য সেখানে এই শহীদ সাংবাদিকের ভাগ্নে শাহরিয়ার রুমী দাবি জানান, পরবর্তীতে যেন বড় আকারে অনুষ্ঠান করে এই সাংবাদিককের আদর্শকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
সিরাজুদ্দীনের বড় ছেলে শাহীন রেজা নূর জানান, সিরাজুদ্দীনকে নিয়ে দুটি বই বাজারে আসছে। তখন কিছুটা বড় পরিসরে অনুষ্ঠান হবে।
তিনি বলেন, “১৯৭১ সালের ডিসেম্বর মাসে যে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর দোসর আল বদর ও আল শামস যে বুদ্ধিজীবী নিধনযজ্ঞ চালিয়েছিল, এর প্রেক্ষাপট বোঝা দরকার। ২৫ মার্চের ক্রাকডাউনে ঢালাওভাবে তারা বিভিন্ন জায়গায় মানুষ নিধন করে।
“গোটা জাতিকে স্তম্ভিত করা এবং ভীতি বিহ্বল করে দেওয়া ছিল এর লক্ষ্য। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও তারা হত্যাকা- সংগঠিত করে। প্রথমদিকে ব্যাপক গণহত্যা চালায়। আর গেস্টাপো স্টাইলে পরিকল্পিত হত্যাকা- চালায়।”
দোয়া অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন অংশ নেন।
ছিলেন শহীদ সাংবাদিকের সন্তান জাহিদ রেজা নূর, নাসিম রেজা নূর, তৌহিদ রেজা নূর।