চান্দুটিয়া বুকভরা বাঁওড়> মাছ ছাড়ার নিলামে বাধার ঘটনায় দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা

বিল্লাল হোসেন>
যশোর সদর উপজেলার দেয়াড়া ইউনিয়নের বুকভরা বাঁওড়ে মাছ ছাড়ার নিলামে অংশ নিতে একটি পক্ষকে বাঁধা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। বাঁওড় কমিটির সভাপতি বিষ্ণুপদ বিশ্বাসের নেতৃত্বে তাদেরকে বাধা দেয়া হয় বলে জানিয়েছেন সাবেক সভাপতি বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাস। আর এ সুযোগে নিলাম পেয়েছেন বিষ্ণুপদ বিশ্বাসের ভাই মনোরঞ্জন বিশ্বাস ও প্রশান্ত কুমার বিশ্বাস। এ ঘটনায় বাঁওড়ের সদস্যরা বিভক্ত হয়ে পড়েছে। বর্তমানে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
জানা গেছে, চান্দুটিয়ার বুকভরা বাঁওড়ে দেয়াড়া ইউনিয়নের ৬ গ্রামের ২২৬ জন সদস্য রয়েছে। বর্তমানে বাঁওড় কমিটির সভাপতি হিসেবে বিষ্ণপদ বিশ্বাস আর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন সিরাজুল ইসলাম। সূত্র জানায়, বাঁওড়ের সদস্যদের মধ্যে দীর্ঘদিন থেকে দুটি পক্ষ রয়েছে। এক গ্রুপের নেতৃত্ব দেন বিষ্ণপদ বিশ্বাস। অপর গ্রুপের নেতৃত্ব দেন বাঁওড় কমিটির সাবেক সভাপতি বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাস। বর্তমানে বিষ্ণপদ বিশ্বাস বাঁওড়ে একক আধিপত্য বিস্তার করছেন। রীতিমতো কোনঠাসা করে রাখা হয়েছে বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাস ও তার লোকজনকে। বাঁওড় সংশ্লিষ্ট কোন সিদ্ধান্তে তাদের কোন মতামত গ্রহণ করা হয়না। বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাস অভিযোগ করেছেন, নিয়মানুযায়ী বাঁওড়ে মাছ ছাড়ার জন্য প্রতিবছরে দুইবার কমিটির পক্ষ থেকে নিলামের আহবান করা হয়। যে কারনে গত ১০ ডিসেম্বর বাঁওড়ে মাছ ছাড়া সংক্রান্ত নিলামের আহবান করা হয়। কিন্তু বিষ্ণুপদ ও তার লোকজন বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাসসহ তার পক্ষীয় কোন সদস্যকে নিলামে অংশগ্রহণ করতে দেয়নি। এ সময় বাঁওড়ের সভাপতি প্রভাব খাটিয়ে তার ভাইসহ দুজনকে ৭ লাখ টাকায় নিলাম দিয়ে দেন। অভিযোগ উঠেছে,বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাসসহ তার লোকজন এ অনিয়মের প্রতিবাদ করলে তাদেরকে হুমকি দিয়ে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেয়া হয়। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, নিলামে অংশগ্রহণে বাঁধা দেয়াকে কেন্দ্র করে দু পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোন সময় সংঘর্ষের সৃষ্টি হতে পারে। বিষ্ণুপদ বিশ্বাসের নিলাম নিয়ে অনিয়মের ঘটনাটি এলাকার সাধারণ মানুষও মেনে নিতে পারছেন না। তাদের দাবি সকল সদস্যদের উপস্থিতিতে আবারো বাঁওড়ে মাছ ছাড়ার জন্য নিলামের ব্যবস্থা করা হোক। বাঁওড়ের সাবেক সভাপতি বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাস জানিয়েছেন, নিলামে অংশগ্রহণ করতে গেলে তাদেরকে তাড়িয়ে দেয়া হয়। বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাস আরো জানান, বিগত ২০০৮ সালে বুকভরা বাঁওড়ের মৎস্যজীবী সমিতির দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনে তিনি সভাপতি পদে জয়ী হওয়ার পরও বিষ্ণপদ পক্ষ তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করে। একপ্রকার প্রভাব খাটিয়ে ওই কমিটি বিলুপ্ত করে দেয়া হয়। পরে নামমাত্র নির্বাচনের মাধ্যমে বিষ্ণুপদ ও তার পছন্দের লোকজন বিজয়ী হয়। সেই থেকে তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বুকভরা বাঁওড়টি। বিষয়টি নিয়ে বর্তমান কমিটির সভাপতি বিষ্ণুপদ বিশ্বাস জানিয়েছেন,বাঁওড় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সকল সদস্যকে নিলামে অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়া হয়েছে। কোন সদস্যকে বাঁধা দেয়া হয়নি। তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে। সাজিয়ালী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই আসাদুজ্জামান জানান, চান্দুটিয়ার বুকভরা বাঁওড়ে মাছ ছাড়ার নিলাম নিয়ে উত্তেজনার বিষয়টি জানা নেই। কেউ অভিযোগও করেননি।