সাতক্ষীরায় যাওয়ার পথে পথে সমাবেশ> সংলাপের পথ বিএনপিই বন্ধ করেছে: ওবায়দুল কাদের

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি>
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিএনপির সঙ্গে সংলাপের পথ বন্ধ হয়ে গেছে বলে মনে করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
মঙ্গলবার সাতক্ষীরা শহরের দলের এক সভায় তিনি বলেন, বিএনপির মুখে এখন সংলাপের কথা মানায় না।
“প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোকোর মত্যুর পর খালেদা জিয়াকে সহমর্মিতা জানাতে গিয়েছিলেন; কিন্তু তাকে বাধা দেওয়া হয়। আর এ বাধা দেওয়ার মধ্য দিয়েই সংলাপের পথ বিএনপিই বন্ধ করে দিয়েছে।”
উন্নয়নের প্রসঙ্গ তুলে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী কাদের বলেন, বিএনপি জনগণকে কী দেখাবে, আওয়ামী লীগ তো পদ্মা সেতু দেখাতে পারবে।
সিঙ্গাপুর ও আমেরিকার আদালতে তারেক রহমানের মানি লন্ডারিংসহ বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে কাদের বলেন, “সম্প্রতি সৌদি আরবের রাজ পরিবারের গ্রেপ্তারকৃত সদস্যদের স্বীকারোক্তিতে খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদের অস্তিত মিলেছে।
“জিয়াউর রহমান যখন মারা গেলেন তখন ভাঙা সুটকেস রেখে গেলেন। এখন তার ছেলে তারেক রহমানের ১২ দেশে রয়েছে ১২ বিলিয়ন ডলার।”
সভা চলাকালে কাদের জনগণের কাছে ঘনিষ্ঠ হওয়ার জন্য নিজ দলের নেতাদের ভালো হয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
সভামঞ্চে বসা জেলা আওয়ামী লীগ নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “মঞ্চের নেতারাই সকল সমস্যার স্থল। নিজেরা শুধরান, সংশোধন হন, এলাকার লোক যখন বিপদে পড়ে নেতারা তখন ঢাকায় থাকেন। সবাই ভালো হয়ে যান।”
দল করলে দলের নিয়মনীতি মেনে চলতে হবে। চিহ্নিত কোনো সন্ত্রাসী আওয়ামী লীগে থাকতে পারবে না, আওয়ামী লীগের সদস্যও হতে পারবে না বলে হুঁশিয়ার করেন তিনি।
“ঢাকায় চেহারা দেখিয়ে, ব্যানার, বিলবোর্ড ও ফেস্টুনে নিজের ছবি টানিয়ে আওয়ামী লীগের নমিনেশন পাওয়া যাবে না, হৃদয়ে জনগণের নাম লেখাতে হবে, নৌকার জনমত তৈরি করতে হবে।”
দুপুরে সাতক্ষীরা শহরের শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি সভা ও সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ওবায়দুল কাদের।
জনসভায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুনসুর আহমেদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলামের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন দলের নির্বাহী সদস্য এসএম কামাল হোসেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য আ ফ ম রুহুল হক, সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবি, সংসদ সদস্য জগলুল হায়দার, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য রিফাত আমিন,জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আবু আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবু প্রমুখ। এ সময় ওবায়দুল কাদের দলীয় সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।

এর আগে মন্ত্রী যশোর বিমান বন্দরে পৌঁছে সড়ক পথে সাতক্ষীরা যাওয়ার সময় যশোরের রাজারহাট মোড়ে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে এবং মণিরামপুর ও কেশবপুর উপজেলায় পথ সভায় দলীয় নেতা কর্মীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন।
রাজারহাটে রাস্তার উপর সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বিএনপির নির্বাচনে না আসার কোনো সুযোগ নেই। রাজনৈতিক অস্তিত্ব ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে না চাইলে বিএনপিকে নির্বাচনে আসতেই হবে। এটাকে তারা পাশ কাটিয়ে যেতে পারে না। তাহলে তারা আরও সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে যাবে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এসএম কামাল, যশোর-২ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল ইসলাম মনির, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন, সাধারণ সম্পাদক সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন চাকলাদার, সড়ক বিভাগ যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহাংগীর আলম প্রমুখ। বক্তব্য শেষে মন্ত্রী সড়ক পথে সাতক্ষীরায় দলীয় সদস্য সংগ্রহ কর্মসূচি ও জনসভায় যোগদানের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন।
আব্দুল মতিন মণিরামপুর থেকে জানান, দলীয় কার্যালয়ের সামনে বক্তব্যকালে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, যোগাযোগ ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, আমি ব্যানার, ফেস্টুন, মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা দেখতে আসি নাই। চেহারা ভাল করে কোন লাভ নাই। আগামী নির্বাচনের জন্য প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা যোগ্য এবং জনপ্রিয় ব্যক্তিকেই নৌকা প্রতীক দেবেন।
দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, শোভাযাত্রা ফেস্টুন ছেড়ে, দলের মধ্যে গ্র“পিং বাদ দিয়ে দলের জন্য কাজ করুন। এছাড়া দলের মধ্যে হাঙ্গা-দাঙ্গা বাহিনীর কোন ঠাঁই দেওয়া হবেনা আওয়ামী লীগে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য স্বপন ভট্টাচার্য্য, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র কাজী মাহমুদুল হাসান, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন লাভলু, জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য প্রভাষক ফারুক হোসেনসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। এছাড়াও সেতু মন্ত্রী উপজেলার সুন্দলপুর বাজার, ফকিররাস্তা মোড়ে দাড়িয়ে উপস্থিত জনতাকে শুভেচ্ছা জানান।
সিরাজুল ইসলাম, কেশবপুর থেকে জানান, স্থানীয় গাজীরমোড়ে সংক্ষিপ্ত পথসভায় ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে সারাদেশে শতভাগ বিদ্যুৎ পৌঁছানসহ সকল রাস্তাঘাটের উন্নয়ন করা হবে। সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজদের দলে নেওয়ার প্রয়োজন নেই। অযাথা দলকে কুলষিত করবেন না। দলে প্রতিযোগিতা থাকবে। মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলবেন না। মানুষের উপকার করেন। মানুষের ভালোবাসা নিয়ে আগামী নির্বাচনে আমরা জয়ী হব ইনশাল্লাহ।
এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি তপন কুমার ঘোষ মন্টু, পৌর মেয়র রফিকুল ইসলাম, ভাইস চেয়ারম্যান নাসিমা সাদেক, পাঁজিয়া ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম মুকুল, ত্রিমোহিনী ইউপি চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান আনিস, বিদ্যানন্দকাটি ইউপি চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন, সাতবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান শামছুদ্দিন দফাদার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গৌতম রায়, সাংগঠনিক সম্পাদক পৌর কাউন্সিলর শেখ এবাদত সিদ্দিক বিপুল, দপ্তর সম্পাদক মফিজুর রহমান মফিজ, পৌর আওয়ামী লীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক পৌর কাউন্সিলর জামাল উদ্দীন সরদার, উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক প্যানেল মেয়র বিশ্বাস শহিদুজ্জামান শহিদ, যুগ্ম-আহ্বায়ক আবু সাঈদ লাভলু, উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক পলাশ মল্লিক, পৌর ছাত্রলীগের সবুজ হোসেন নিরব প্রমুখ।