অনৈতিক শক্তিগুলো যখন সুবিচারের নির্ণায়ক হয়

সম্প্রতি লক্ষ্মীপুরের একটা ঘটনার কথা পত্রিকা মারফত জেনেছি, যা সারাদেশে তীর্যক বিতর্ক ও সমালোচনার সৃষ্টি করেছে। লক্ষ্মীপুরের ঘটনাটির বিতর্কে পক্ষ ও বিপক্ষের বক্তব্যও সুস্পষ্ট। মিডিয়াগুলোর রিপোর্টেও পরোক্ষভাবে তার ছাপ একটু খেয়াল করলেই বোঝা যায়। লক্ষ্মীপুরে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শেখ মুর্শিদুল ইসলামের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগে সাবেক ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. সালাহ উদ্দিন শরীফকে আটকের পর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। েএক সকালে শহরের কাকলি শিশু অঙ্গন বিদ্যালয়ে প্রবেশ কেন্দ্র করে দুজনের বাকবিতণ্ডার পর হাতাহাতির ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে সালাহ উদ্দিন শরীফকে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরে পুলিশ সালাহ উদ্দিনকে কারাগারে পাঠায়। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আদালত পরিচালনা করেন সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ নুরুজ্জামান। সাবেক সার্জন একদিন পর জামিনে মুক্তি পান।

আলোচনার সুবিধার্থে লক্ষ্মীপুরের ঘটনার ব্যাপারে চারটি প্রথম সারির সংবাদ মাধ্যমের রিপোর্ট বা বক্তব্য হুবহু তুলে ধরছি। আমার উদ্দেশ্য, মিডিয়ায় উপস্থাপিত বক্তব্যের কিছুটা বিশ্লেষণ এবং আমার নিজস্ব সোর্সের ডকুমেন্টেড বক্তব্যের সঙ্গে তুলনামূলক পর্যালোচনার মাধ্যমে, সম্পূর্ণ সত্য না হলেও অন্তত সত্যের খুব কাছাকাছি একটা জায়গায় পৌঁছুনো। যেহেতু বিষয়টি বিচারাধীন, তাই অনেক বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা করা ঠিক হবে না। তবে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে যতটা সম্ভব নিরপেক্ষ আলোচনার চেষ্টা করব।

“৪ ডিসেম্বর সকাল নয়টার দিকে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসকের বাসভবন এলাকার প্রাথমিক স্কুলে প্রবেশ মুখে মি. মুর্শিদুলের সাথে ডা. সালাহ উদ্দিন শরীফের বাকবিতণ্ডা হাতাহাতির পর্যায় চলে গিয়েছিল। মি. শরীফ সে সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে চড় মারেন বলে অভিযোগ করা হয়েছিল।”

[বিবিসি বাংলা]

“সকালে শহরের কাকলি স্কুলের প্রবেশ পথে আগে পরে যাওয়াকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শেখ মুর্শিদুল ইসলাম ও ডা. সালাহ উদ্দিন শরীফের বাকবিতন্ডা হয়। এসময় তাদের মধ্যে হাতহাতির ঘটনা ঘটে।”

[বাংলাদেশ প্রতিদিন]

“একই স্কুলের আরেক শিক্ষার্থীর অভিভাবক আব্দুল মান্নান জানান, ঘটনার সময় তিনি স্কুলের মাঠে ছিলেন। তিনি শুনেছেন সাবেক সিভিল সার্জন এডিসিকে থাপ্পড় দিয়েছেন। আর তিনি দেখেছেন, এডিসি সাবেক সিভিল সার্জনকে থাপ্পড় দিচ্ছেন।”

[বাংলা ট্রিবিউন]

“প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা জানান, সোমবার সকাল নয়টার দিকে শহরের কাকলি শিশু অঙ্গন বিদ্যালয় এলাকায় লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শেখ মুর্শিদুল ইসলামের সঙ্গে তর্ক হয় সালাহ উদ্দিন শরীফের। এক পর্যায়ে তা হাতাহাতিতে গড়ায়।”

[প্রথম আলো]

উপরের চারটি সংবাদমাধ্যমের গ্রহণযোগ্যতা এবং জনপ্রিয়তার ব্যাপারে বোধকরি নতুন কিছু বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম, বিবিসি বাংলার রিপোর্টে যেখানে সরাসরি উল্লেখ করছে যে, মি. শরীফ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে চড় মেরেছিলেন, অন্যান্য পত্রিকাগুলো পরস্পরের মাঝে ‘হাতাহাতি’ বলে একই ঘটনার বর্ণনা করেছে। আরও অবাক হতে হয় বাংলা ট্রিবিউনের একটা রিপোর্ট পড়ে। ট্রিবিউন ঘটনার প্রথম রিপোর্টে উল্লেখ করেছিল ‘হাতাহাতি’র ঘটনার। তারপর ঘটনাটির একটি তদন্তমূলক রিপোর্ট ‘সেদিন লক্ষ্মীপুরে এডিসি ও চিকিৎসকের মধ্যে যা ঘটেছিল’ শিরোনামে প্রকাশ করেছে। যেখানে একজন প্রত্যক্ষদর্শী অভিভাবকের সাক্ষাৎকার নেয় তারা। অভিভাবক আবদুল মান্নান ট্রিবিউন রিপোর্টারকে বলেন, ঘটনার সময় তিনি স্কুলের মাঠে ছিলেন এবং তিনি শুনেছেন যে, সাবেক সিভিল সার্জন এডিসিকে থাপ্পড় দিয়েছেন। সেই একই অভিভাবক মান্নান কী করে দাবি করেন যে, এডিসি সাহেব সিভিল সার্জনকে থাপ্পড় দিচ্ছেন। আবার এ রিপোর্টে প্রকাশ করেছে বাংলা ট্রিবিউন!

প্রথমত প্রায় প্রত্যেকটা পত্রিকাই ‘থাপ্পড়’ বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে ‘হাতাহাতি’ বলে মূল সত্য আড়াল করে নিরপেক্ষ অবস্থান নিলেও বাংলা ট্রিবিউনের ক্ষেত্রে তা দেখা যায়নি। ট্রিবিউনের বিজ্ঞ রিপোর্টার জনৈক মান্নান সাহেবের জবানিতে যা বলার চেষ্টা করছেন তা হল, এডিসি সিভিল সার্জনকে থাপ্পড় দিয়েছেন এটা সাক্ষীর জবানিতে প্রমাণিত। তবে উল্টোটা শতভাগ প্রমাণিত নয়। কারণ অভিভাবক মান্নান সেটা দেখেননি, শুধু শুনেছেন!

 

ধরা যাক যে, স্কুলগেটে এডিসি ও সিভিল সার্জন হঠাৎ হাতাহাতিতে লিপ্ত হলেন। মিডিয়ার খবর পড়ে ধারণা করা যায় যে, হাতাহাতির স্থায়িত্ব ছিল বড়জোড় ৩০ থেকে ৫০ সেকেন্ড। অভিভাবক মান্নান তখন স্কুলের মাঠে অবস্থান করছিলেন। তিনি কিছুই দেখেননি বা তাৎক্ষণিক বিষয়টির খুব কাছাকাছি যাওয়াও তাঁর পক্ষে প্রায় অসম্ভব। প্রথমত তিনি বলছেন যে, তিনি শুনেছেন সিভিল সার্জন এডিসিকে থাপ্পড় দিয়েছেন। অথচ একই মুহূর্তে তিনি দেখলেন যে, এডিসি সিভিল সার্জনকে থাপ্পড় দিচ্ছেন!

এখন বাংলা ট্রিবিউনের রিপোর্ট আমলে নিয়ে আদালত যদি অভিভাবক মান্নানকে সাক্ষী হিসেবে আদালতে তলব করেন, তাহলে তাঁর দুই বক্তব্যের কোনটি আমলে নেওয়া আইনের চোখে যৌক্তিক হবে? মান্নান যেটা দেখেছেন সেটাই সত্য এবং যেটা শুনেছেন সেটা সত্য না-ও হতে পারে। অর্থাৎ এক্ষেত্রে প্রজাতন্ত্রের সরকারি কর্মচারী অপরাধী হিসেবে সাব্যস্ত হচ্ছেন অথবা তাঁকে অপরাধী হিসেবে আদালতে দাঁড় করাতে ‘গ্রাউন্ড ওয়ার্ক’ সম্পন্ন হয়েছে বললে কি অত্যুক্তি করা হবে?

আইনের ভাষায় একটা কথা আছে– প্রত্যক্ষ তথ্য-উপাত্তের অভাব হলে সার্বিক বিচার্য বিষয়গুলো বিবেচনা করে বিচারক একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেন যাকে ইংরেজিতে বলে, The benefit of doubt– অর্থাৎ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত রিপোর্ট অত্যন্ত দৃষ্টিকটুভাবে একটা পক্ষাবলম্বন করায় এডিসি শেখ মুর্শিদুল ইসলামকে হয়তো ভিকটিম হতে হবে। যার নেতিবাচক প্রভাব প্রজাতন্ত্রের উপর পড়তে বাধ্য।

উপরের চারটি পত্রিকার রিপোর্টে হাতাহাতি বা থাপ্পড় মারার অংশটুকু অত্যন্ত জোরালোভাবে তুলে ধরা হলেও কেউ ঘটনার সূত্রপাতের উপর তদন্তমূলক রিপোর্ট তৈরির বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেনি। বিভিন্ন মিডিয়ার পাঠক মহলে সুউচ্চ গ্রহণযোগ্যতার কারণে তাদের এ ঘটনার উপরে প্রকাশিত রিপোর্টগুলোর প্রতিটা শব্দই জনগণের মনে প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে বিরূপ মনোভাবের সৃষ্টি করবে বলে আমার ধারণা। কারণ মিডিয়ায় ঘটনার এক পক্ষের বক্তব্য দৃষ্টিকটুভাবে উপস্থাপনের যে প্রবণতা লক্ষ্মীপুরের ঘটনায় দেখলাম, তাতে সাংবাদিকতার এথিকস বা নৈতিকতার সার্বিক মূল্যায়নে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করেছে বলেই আমি মনে করি।

যেহেতু আমার দৃষ্টিতে ঘটনাটি খুব ইউনিক এবং খালি চোখে দেখা যাচ্ছিল যে, সংশ্লিষ্ট দুটো পক্ষ কমবেশি শক্তিপ্রয়োগের মাধ্যমে ফলাফল নিজেদের ঘরে নেওয়ার চেষ্টায় মত্ত ছিল, সে কারণে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে আমি নিজেই কথা বলি। যা ডকুমেন্টেড তদন্ত হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। ঘটনার খুব কাছ থেকে দেখা জনৈকের (প্রয়োজনে নাম প্রকাশ করা হবে) ভাষ্যমতে সেদিন যা ঘটেছিল, তা সরাসরি তাঁর নিজের ভাষায় তুলে ধরছি–

“ডাক্তার সাহেবের ছেলে গেট (পকেট গেট) দিয়া বাহির হচ্ছে দৌড়াইয়া। ডিসি সাহেব বলছে, আস্তে বাহির হও এত দৌড়াও কেন। ডা. সাহেব বিষয়টা নিয়া ডিসি সাহেবকে বলল, আপনার সমস্যা কী? কেউ কাউকে চিনত না। এক কথা দুই কথা হতে না হতে ডা. সাহেব ডিসি সাহেবের গালে থাপ্পড় মারছে। ডা.কে পাশের দোকানদার কাজল ভাই বলল, ভাই, উনি ডিসি, কার গায়ে হাত দিছেন? ডা. পাত্তাই দিল না, আরও বেশি করল। ডিসি সাহেব বলল, আমাকে চিনেন আমি কে? তারপর ডিসি সাহেবকে নিয়ে হলরুমে বসানো হল। বেশি খারাপ লাগল ডা.এর বড় ছেলে ডিসিকে বলে, ওই বেটা চেয়ারে বসছস কেন, লাত্থি মেরে ফেলে দেব। অনেক গালমন্দ করছে।”

এই হল একজন খুব কাছ থেকে দেখা প্রত্যক্ষ্যদর্শীর ভাষ্য। যিনি ঘটনার খুব নিকটে কাজল নামের এক দোকানদারের কথা উল্লেখ করেছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে লক্ষ্মীপুর প্রেসক্লাবের একজন উর্ধ্বতন নেতা এক প্রশ্নের জবাবে বলেন–

“আপনার এ প্রশ্ন সময়োপযুগী। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে অনেকেই আমাকে এই প্রশ্ন করেছেন। আমি সরকারি দৈনিক বাংলা পত্রিকায় কাজ করতাম বিধায় প্রশাসনের ক্যাডারের অফিসারদের সাথে চলেছি। বর্তমানেও চলছি। লক্ষ্মীপুরের ডিসি হোমায়ারা বেগম যোগদানের পর থেকে তিনি সাংবাদিকদের এড়িয়ে চলেন। গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে কোনো যোগাযোগ রাখেন না। ওই দিন এডিসি সাহেব লাঞ্চিত হওয়ার পরেও তিনি সাংবাদিকদের সাথে কোন কথা বলেননি। প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরেননি। যার কারণে প্রকৃত ঘটনা জানতে না পারায় পুরো বিষয়টি জেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে চলে গেছে। এখনও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের নিকট কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি। যার কারণে মার খেয়েও এডিসি সাহেব ওএসডি হলেন, আর সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েও ডাক্তার বাহবা পেল! জেলা প্রশাসকের দায়িত্বহীনতার কারণে সব দায় তাদের কাঁধে তুলে নিতে হয়েছে। সবচেয়ে দুঃখের বিষয় হচ্ছে, এডিসি জেনারেল জেলা প্রশাসনের ভালো কর্মকর্তাদের একজন। শেষ পর্যন্ত তাকেই বলি হতে হল।”

উপরের একজন প্রত্যক্ষ্যদর্শী ও স্থানীয় একজন সিনিয়ার সংবাদিকের জবানবন্দীতে যে কথা জানলাম এবং পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রথম সারির পত্রিকাগুলোতে যা পড়লাম, তাদের মাঝে পার্থক্য নিরূপণ বোধকরি আমাকে নিজ থেকে আর করতে হবে না। আমরা বাংলাদেশে পরিবহন মালিক এবং পরিবহন শ্রমিক, দুই শ্রেণিরই হরতাল-অবরোধ দেখেছি। বাংলাদেশের বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনগুলোর শক্তিমত্ততার কথাও আমরা জানি। কত অনৈতিকভাবে এবং সম্পূর্ণ গায়ের জোরে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা প্রজাতন্ত্রের সাধারণ নাগরিকদের জিম্মি করে অসাধুতার বিজয় ঘটায়। সেবাদানকারী হাসপাতালেও মূমূর্ষ রোগীদের জিম্মি করে চিকিৎসকদের হরতাল-অবরোধ করতেও দেখেছি অনৈতিক দাবি আদায়ের লক্ষ্যে।

লক্ষ্মীপুরের ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন হলেও সেখানে আমরা দেখতে পেলাম স্থানীয়দের সার্বিক শক্তির মহড়া। মফস্বলের বেশিরভাগ সাংবাদিক এলাকার গডফাদারদের পকেটে-পোরা পেশাজীবী এক শ্রেণি। তাদের হয়তো সততার অভাব নেই। কিন্তু তাদের বেঁচে থাকার অদম্য ইচ্ছাগুলো যখন স্থানীয় মাসলম্যানদের ইচ্ছা-অনিচ্ছার উপর নির্ভর করে, তখন সুবিচার নিভৃতে কাঁদতে বাধ্য।

লক্ষ্মীপুর জেলার বিক্ষুব্ধ চিকিৎসকরা যখন একজন অবসরপ্রাপ্ত সিভিল সার্জনের পক্ষ নিয়ে ডিসি হোমায়ারাকে বাধ্য করেন তাদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করতে এবং ডিসি হোমায়ারা যখন আইনি সহায়তার (এডিসির বিরুদ্ধে অবশ্যই) আশ্বাস দিয়ে তাদের শান্ত করার চেষ্টা করেন, তখন বুঝতে বাকি থাকে না যে, কীভাবে এবং কেন লক্ষ্মীপুর জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শেখ মুর্শিদুল ইসলাম বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হলেন।

আইন ও সুবিচার যদি পেশিশক্তি দিয়ে নির্ধারণ হয়, তাহলে এর চরম নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া এ জাতি পেতে বাধ্য। হয়তো আজ নয়– আগামীতে কখনও।