মুক্তিযুদ্ধের প্রিয় চলচ্চিত্র


  স্পন্দন বিনোদন ডেস্ক :

মুক্তিযুদ্ধের প্রিয় চলচ্চিত্র

বিজয়ের মাস ডিসেম্বর। এ মাসের ১৬ তারিখ বাঙ্গালী জাতী তাদের পুর্ণ স্বাধীনতার স্বাদ পেয়েছিল। মাঝে দীর্ঘ ৯ মাস কত রক্ত কত ইজ্জতের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি স্বাধীনতা। আর এই স্বাধীনতাকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের কাছে পৌছে দিতে নির্মিত হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক বেশ কিছু চলচ্চিত্র। আর এই চলচ্চিত্র থেকে প্রিয় চলচ্চিত্রগুলোই খোঁজার চেষ্টায়। জানবো প্রিয় তারকার প্রিয় মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চলচ্চিত্র।

জয়া আহসান

প্রিয় বললে আমার নিজের করা ‘গেরিলা’র কথা তো বলতেই হয়। আমারটার ছাড়া ‘আগুনের পরশমনি’। এ পর্যন্ত যত ছবি হয়েছে। তার মধ্যে এ ছবিটাকেই শ্রেষ্ঠ বলবো। কারণ এটা মানবিক একটা ছবি। ওয়েল মেইড একটা ছবি। ছবিটা মানুষকে যুদ্ধের খুব কাছাকাছি নিয়ে যেতে পেরেছি।যুদ্ধ যারা দেখেনি তারা ছবিটা দেখে ওই সময়টা অনেক বেশি অনুধাবন করতে পারবেন। খুব বেশি আড়ম্বর নেই।গল্পের মূল জায়গাটা আমাকে খুব টাচ করেছে। সেরাদের সেরা বললে এই ছবিটার কথা বলব। মুক্তিযুদ্ধে সাধারণ মানুষ যেভাবে এফেক্টেড হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় শুধু যে অস্ত্র নিয়ে যুদ্ধ নয়, মানসিক মানবিক যুদ্ধও চলেছে। সেটা ফুটে উঠেছে। ‘আগুনের পরশমনি’ভেরি সাকসেসফুল সিনেমা।

সুবর্ণা মুস্তফা

আসলে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সিনেমা হয়নি তেমনভাবে। যেভাবে হওয়ার কথা ছিল। সারাবিশ্বে যে ধরনের যুদ্ধের সিনেমা হয়েছে। বাংলাদেশে সে ধরনের হয়নি। এর একটা বড় কারণ হচ্ছে ইচ্ছের অভাব ছিল না কখনোই, কিন্তু সংগতির অভাব ছিল। পোস্ট ওয়ার একটা সিনেমা করতে হলে অনেক অর্থের প্রয়োজন হয়। সেই অর্থের যোগান ছিল না। এখন পর্যন্ত আমার দেখা যা তার মধ্যে সুভাষ দত্তের‘অরুনোদয়ের অগ্নিসাক্ষী’। সেটাই একমাত্র আমাকে ‘ইমোশনালি ইনভলব’ করেছে। আমার মনে দাগ কেটেছে। এটাকে আমি বলব আমার দেখা মুক্তিযুদ্ধের ওপর সবচেয়ে ভালো সিনেমা।

শাকিব খান

‘ওরা ১১ জন’ আমার সবচেয়ে প্রিয়। যতই যুদ্ধের ছবি হোক এ ছবির সঙ্গে তুলনা হয় না। আমি নিজেও যুদ্ধের সিনেমায় অভিনয় করেছি। সবদিক বিবেচনায় ‘ওরা ১১ জন’ কে এগিয়ে রাখব। আমারও ইচ্ছে হয় মুক্তিযুদ্ধের সিনেমায় অভিনয় করি। কিন্তু এমন কোনো ভালো অফার আসে না। আশাকরি বাংলাদেশেও বড় বাজেট নিয়ে যুদ্ধের সিনেমা হবে।

নিপুণ

শাহ আলম কিরণের ‘একাত্তরের মা জননী’ ছবিতে আমি নিজেই অভিনয় করেছি। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে খুব কম ছবিই হয়েছে দেশে। এটিকে পূর্ণাঙ্গ মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সিনেমাই বলব। একাত্তর সালের আবহ তুলে আনতে শুটিং করা হয়েছে এমন এক গ্রামে, যেখানে বিদ্যুৎ নেই। সাধারণত যুদ্ধের সিনেমায় প্রযোজকরা টাকা ইনভেস্ট করতে চান না। কারণ এ ধরনের সিনেমা ব্যবসা করে না। এই ছবিতে আমরা ভালো বাজেট পেয়েছি।

মেহজাবিন চৌধুরী

অবশ্যই ‘গেরিলা’ এই ছবির গল্প থেকে অভিনয়—সব কিছুই আমার প্রিয়। গল্পটা খুব পরিচিত। মুক্তিযুদ্ধের গল্প একেকজনের কাছ থেকে একেকভাবে শুনেছি। ছোটবেলা থেকেই শুনে আসছি। সে গল্পগুলোই ‘গেরিলা’য় পেয়েছি। মুভিটা দেখে মনে হচ্ছিল নিজেই যুদ্ধ করছি। তখনকার সময়ের কষ্টটা ফিল করতে পারছিলাম। আমরা তো মুক্তিযুদ্ধ দেখিনি, শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশে বেড়ে উঠেছি। মুভিটা দেখলে বোঝা যায় কত কষ্টে এই শান্তিপূর্ণ দেশ আমরা পেয়েছি।