যশোর জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিসভা> প্রধানমন্ত্রীর জনসভা হবে জনসমুদ্র, বঙ্গবন্ধু শেখ হাসিনা ও জয় নাম ছাড়া স্লোগান নয়

নিজস্ব প্রতিবেদক>
যশোর জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি সভায় আগামী ৩১ ডিসেম্বর যশোর শামস উল হুদা স্টেডিয়ামে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভাকে জনসমুদ্রে রূপান্তরিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বক্তারা। এজন্য দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মিকে ঐক্যবদ্ধভাবে সর্বশক্তি প্রয়োগ করতে হবে। নেতৃবৃন্দ বলেন সেদিন শ্লোগান থাকবে বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনা আর সজিব ওয়াজেদ জয় এর নামে। ময়দানে ভাই বা অন্য কারো ছবি থাকবেনা। নেতৃবৃন্দ বলেন এই সমাবেশকে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী সভায় পরিণত করতে হবে।
আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যশোর আগমন ও জনসভা সফল করার লক্ষ্যে জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিসভায় একথা বলেন নেতৃবৃন্দ।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সিসিটিএস মিলনায়তনে যশোর জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে এই প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য পিযুষ কান্তি ভট্টাচার্য্য এবং প্রধান বক্তা ছিলেন আওয়ামী লীগেরে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগেরে কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এসএম কামাল হোসেন ও প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সহকারি সচিব সাইফুজ্জামান শিখর।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলনের সভাপতিত্বে এই প্রতিনিধিসভায় আরো বক্তব্য রাখেন সাবেক ছাত্র নেতা মশিউর রহমান হুসাইন, যশোর সদর আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ, যশোর ৪ আসনের এমপি রণজিৎ কুমার রায়, যশোর-২ আসনের এমপি অ্যাড. মনিরুল ইসলাম মনির, যশোর-৫ আসনের এমপি স্বপন ভট্টাচার্য্য, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহীন চাকলাদার, জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও যশোর পৌর মেয়র জহিরুল ইসলাম চালদার রেন্টু । সভাটি পরিচালনা করেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলী রায়হান।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সভাপতি মন্ডলীর সদস্য পীযুষ কান্তি ভট্রাচার্য্য বলেন শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকলে দেশ ভাল থাকবে, আমরা ভাল থাকবো। তাই এ সভার মাধ্যমে আবারও প্রমাণ করতে হবে যশোরের মাটি নৌকার ঘাঁটি। এক্ষেত্রে ঐক্যের কোন বিকল্প নেই। আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে সরকার গঠনে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে চাই।
প্রধানবক্তা আব্দুর রহমান বলেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিক নির্দেশনায় দেশ আজ উন্নয়নের শিখরে। যে কোন মানদ-ে আমরা এখন ভাল আছি। কিন্তু উন্নয়ন করে ভোটে জয়ী হওয়া যায় না। উন্নয়ন শুধু ভোট চাওয়ার পথ করে দেয়। তাই সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ভোটারের দুয়ারে দুয়ারে যেতে হবে। তিনি বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের আদর্শ, তাঁর কন্যা শেখ হাসিনা আমাদের নেতা। আর আমাদের প্রতিক নৌকা। এর কোন বিকল্প নেই। আর এ আদর্শকে বুকে ধারণ করে আমরা যশোরের এ জনসভাকে যশোরে ৩১ ডিসেম্বর শুধু থাকবে বঙ্গবন্ধুর শ্লোগান, থাকবে শেখ হাসিনার শ্লোগান, থাকবে জয়ের নামে শ্লোগান, সর্বোপরি থাকবে নৌকার শ্লোগান। এ শ্লোগান শহর- গ্রামের প্রতিটা অঞ্চলে ধ্বনিত হবে। যে ধ্বনি যশোর ছাড়িয়ে বাংলাদেশের প্রতিটা জেলায় ছড়িয়ে পড়বে। এ লক্ষ্যে যশোরের এ জনসভা নির্বাচনী বৈতরণি পার হবার জনসভা। তাই সকলকে সকল বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এ জনসভাকে সফল করতে হবে।
সভায় সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ বলেন বিশ^ মানবতার মা জননেত্রী শেখ হাসিনার জনসভা সফল করতে নিজেদের মধ্যে সকল ভেদাভেদ ভুলে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যশোরকে অনেক দিয়েছেন। এর মধ্যে সর্বশেষ আইটি পার্ক। ভৈরবনদ সংস্কারের জন্যে অর্থবরাদ্দ দিয়েছেন। তিনি বলেন আগামীতে শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী বানাতে হবে। সংসদ সদস্য রনজিৎ কুমার রায় বলেন, আমাদের মধ্যে পাওয়া না পাওয়ার বেদনা থাকতে পারে কিন্তু আগামী নির্বাচন আমাদের অস্তিত্বের।
সংসদ সদস্য অ্যাড. মনিরুল ইসলাম মনির বলেন ঝিকরগাছা আর চৌগাছার নেতৃবৃন্দ বসে ঠিক করবো। সমাবেশে সবচেয়ে বেশি লোক আসবে এই এলাকা থেকে। তিনি বলেন শেখ হাসিনা প্রশ্নে আমাদের মধ্যে কোন বিভেদ নেই। তাঁর সমাবেশ সর্বশক্তি দিয়ে ঐতিহাসিক সমাবেশে পরিণত করা হবে।
সংসদ সদস্য স্বপন ভট্রাচার্য্য বলেন মনিরামপুর উপজেলা সবচেয়ে বড় উপজেলা তাই সেখান থেকে বেশি লোক আসবে।
সভায় জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামান পিকুল,জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ,সকল উপজেলা,পৌরসভা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠন সমূহের সভাপতি সাধারণ সম্পাদকসহ নৌকামার্কা নিয়ে নির্বাচিত সকল জনপ্রতিনিধি এই সভায় অংশগ্রহণ করেন।