যশোরে ভয়াবহ আগুনে দগ্ধ হয়ে দুই ভাইয়ের মৃত্যু, ভস্মিভূত ৫গাড়ি ও ওয়ার্কশপ

নিজস্ব প্রতিবেদক>যশোর শহরতলীর কিসমত নওয়াপাড়া এলাকায় (যশোর-মাগুরা সড়ক) রজনীগন্ধা ফিলিং স্টেশনের সামনে একটি মটর ওয়ার্কশপে আগুনে জীবন্ত দগ্ধ হয়ে মারা গেছেন আপন দুই ভাই। এরা হলেন ওয়ার্কশপ মালিক পিকলু (৩৫) ও তার ভাই রুহুল আমিন (৩২)। তারা শহরতলীর ছোট শেখহাটি গ্রামের আবু বক্কারের ছেলে। আহত হয়েছেন দুইজন। একই সাথে আগুনে ৫টি গাড়ি ভষ্মিভুত হয়েছে। এর মধ্যে ৪টি কর্ভাডভ্যান এবং একটি ট্রাক রয়েছে।
নিহত দুইজনের তথ্য নিশ্চিত করেছেন যশোর জেলা মটর ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশনের কোষাধ্যক্ষ শফিকুজ্জামান মনু।
ঘটনাটি ঘটে সোমবার রাত ৮টার দিকে। ফায়ার সার্ভিসের ৮টি ইউনিট প্রায় দুই ঘন্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
আহতরা হলো সদর উপজেলার বড়বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের শফিয়ার রহমানের ছেলে কভার্ডভ্যানের চালক হুমায়ুন কবীর (৫০) এবং হেলপার রহেলাপুর গ্রামের আলমের ছেলে আশরাফুল ইসলাম (১৮)।
আহতদের মধ্যে হেলপার আশরাফুল জানিয়েছেন, রাত পৌনে ৮টার দিকে তারা ওই মটর ওয়ার্কশপে একটি কাভার্ডভ্যানের ওয়েলডিং এর কাজ করছিলেন। এ সময় হঠাৎ বিকট শব্দ শুনতে পেয়ে গাড়ি থেকে লাফিয়ে পড়েন তিনি। আর মুহুর্তে আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের ঝাপটায় মাথার চুল পুড়ে যায় চালক হুমায়ুন কবিরের। তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে আশেপাশের লোকজন তাদের উদ্ধার করে এবং ফায়ার সার্ভিসের গাড়িতে করে তাদের যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত হুমায়ুন কবির অজ্ঞান ছিলেন।
ওই মটর ওয়ার্কশপের পেছনে বসবাসকারী টুটুল হোসেন জানিয়েছেন, মটর ওয়ার্কশপের কাজ করেন পিকলু ও রুহুল আমিন নামে দুই যুবক। তারা ওই ওয়ার্কশপটির মালিক। রাত ৮টার দিকে তারা একটি কভার্ডভানে ওয়েল্ডিং এ কাজ করছিলেন। কভার্ডভ্যানটি যশোর-মাগুরা সড়কে পাশে দাড়িয়ে ছিল। হঠাৎ একটি বিকট শব্দ শুনতে পান। পরে দেখেন দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। কিছু বুঝে উঠার আগেই আগুনের লেলিহান শিখার উত্তাপে তিনিও সেখানে দাড়াতে পারেনি। দুরে সরে যান। ২০ মিনিট পর ফায়ার সার্ভিসের টিম এসে পানি ছিটাতে থাকেন।
যশোর ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক পরিতোষ চন্দ্র কুন্ডু জানিয়েছেন, ওয়েল্ডিং করার সময় দাহ্য পদার্থে আগুন লাগলে বিস্ফোরণ ঘঠে থাকে। সম্ভাবত ওই কভার্ড ভ্যানে কেমিক্যাল জাতীয় দাহ্য পদার্থ ছিল। যে কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আগুন নিভাতেও সময় লেগে গেছে অনেক।
তিনি জানিয়েছেন, দাহ্য পদার্থের আগুন সচারচার পানি দিয়ে নিভানো যায় না। তবে আমরা চেষ্টা করেছি আগুন যাতে নির্দিষ্ট গন্ডির মধ্যে থাকে। সে চেষ্টায় সফল হয়েছি এবং ঘণ্টা দুইয়েক পর রাত ১০ টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনা সম্ভব হয়েছে। মোট ৮ট ইউনিট আগুন নেভাতে কাজ করেছে। যশোর সদর ইউনিয়ট ছাড়াও মণিরামপুর, ঝিকরগাছা এবং অভয়নগর থেকে দমকল বাহিনী আসে। রাত সাড়ে ১০টার দিকে ফের আগুনের মাত্রা বেড়ে যায় তবে কিছুক্ষণ পর তা নিয়ন্ত্রনে আনে।
তিনি জানিয়েছেন, আগুন নিভানো পর ওই ওয়ার্কশপে ঢুকে দুইটি মরদেহ পাওয়া গেছে। মরদেহ চেনা যাচ্ছে না। আগুনে পুরোপুরি পুড়ে গেছে। চেহারা বিকৃত হয়ে গেছে। ধারণা করা হচ্ছে লাশ দুইটি ওয়ার্কশপ মালিকের। ভেতর আরো লাশ আছে কি-না তা দেখা হচ্ছে। বা কেউ পুরোপুরো কেউ ছাই হয়ে গেছে কি-না তা দেখা হচ্ছে। তিনি বলেছেন, ওই কাভার্ডভ্যানে দাহ্য পদার্থ ছিল বলে। কন্টিইনারটি সংস্কার করার সময় আগুনের ফুলকি আচকা লেগে কাভার্ডভ্যানে আগুন লেগে যেতে পারে। সেখান দাড়িয়ে থাকা আরো ৪টি গাড়িতে আগুন লেগে তা পুড়ে গেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরুপন করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে ঘটনার পর যশোর-মাগুরা সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। রাত পৌনে ৮টার পর থেকে মুলত যশোর খুলনা সাতক্ষীরার সাথে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। রাস্তার দুই পাশে আটকা পড়ে শ’শ গাড়ি। পাশের রজনীগন্ধা ফিলিং স্টেশনটি বন্ধ করে দিয়ে পানি ছিটানো হয় স্টেশনটি বাঁচানোর জন্য।
যশোর জেলা মটর ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রচার সম্পাদক আবু সাঈদ মিন্টু জানিয়েছেন, আগুন লাগার কিছু সময় পর তিনিসহ সংগঠনের নেতাকর্মীরা সেখানে হাজির হন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের সাথে সহযোগিতা করেন। একই সাথে হাজার হাজার উৎসুক জনতাকে নিয়ন্ত্রণ করেন। পরে একটি গাড়ির নিচ থেকে দুইটি ভস্মিভুত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। রাত ১১টার দিকে দুইটি মরদেহ যশোর জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়।
তিনি আরো জানিয়েছেন, আগুন ধরার সময় কভার্ড ভ্যানের একটি দরজা ছিটকে গিয়ে পাশের একটি ভবনে আছড়ে পড়ে। রাত ১২টা পর্যন্ত ওই রাস্তায় যান বাহন চলাচল বন্ধ ছিল।