যশোরে আগুনে পুড়ে যাওয়া কভার্ডভ্যানে ৬০ ড্রাম কী ছিল?

নিজস্ব প্রতিবেদক>যশোর সদর উপজেলার কিসমত নওয়াপাড়ায় একটি মটর ওয়ার্কশপে পুড়ে যাওয়া কভার্ডভ্যানে কী ছিল তা নিয়ে আছে জল্পনা কল্পনা। ওই কভার্ডভানে ছিল এক ধরনের রাসায়নিক পদার্থ এটা নিশ্চিত। তবে রাসায়নিক পর্দাথটি কী তা নিয়ে দুই রকম বক্তব্য মিলেছে।
যশোর ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের ধারণা ওই কার্ভাডভ্যানে ডাইক্লোরোমিথেন জাতীয় পদার্থ ছিল। যা পেইন্ট (রং) বা ড্রাইওয়াশ (ধোলাই) বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এটি অত্যন্ত ভয়ানক রাসায়নিক পদার্থ। আগুনের ধরন ও রং অন্তত তাই বলে মনে করেন ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক পরিমল চন্দ্র কুন্ডু।
কিন্তু ওই রাসায়নিক পদার্থ বেনাপোল থেকে ছাড়কারী সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান মুনমুন শিপিং এর দাবি কভার্ডভ্যানে ছিল ৬০ ড্রাম ইথাইন এসিটেড। যা এসিড হিসাবে পরিচিত।
মুনমুন শিপিং এর মালিক শার্শার নাভারণ রেলবাজার এলাকার কামাল উদ্দিন শিমুল গত বুধবার যশোর কোতয়ালি থানায় দায়ের করা একটি জিডিতে উল্লেখ করেছেন, এসিড আমদানি করেন ঢাকার কলাবাগান এলাকার এবিএন ট্রেডিং এর মালিক কাওছার জামাল বাপ্পি। ভারত থেকে দেশে আমদানি করা হয় ২০ লাখ ৮৮ হাজার টাকা মূল্যের ৬০ ড্রাম ইথাইন এসিড। বিস্ফোরক অধিদপ্তরের ছাড়পত্র সনদসহ সকল আনুসাঙ্গিকতা মেনে ২৪ ডিসেম্বর একটি কভার্ডভ্যানে (যশোর-ট-১১-১৫৮৪) করে ওই ড্রাম গুলো ঢাকায় নেয়া হচ্ছিল। পথিমধ্যে যশোর মাগুরা সড়কের কিসমত নওয়াপাড়া নামকস্থানে রাস্তার পাশের একটি ওয়ার্কশপে গাড়িটি রেখে চালক পাশের রজনীগন্ধা ফিলিং স্টেশনে যান প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে। রাত ১০টার দিকে ওই গাড়ির পাশে রাখা অন্য একটি গাড়িতে ওয়েল্ডিং এর কাজ করা হচ্ছিল। সে সময় আগুনের ফুলকি ওই কভার্ডভ্যানে লাগে এবং আগুন ধরে যায়। এতে গাড়িসহ ৬০টি ড্রাম পুড়ে যায়। দুইজন মানুষও মারা যায়। এই কারনে থানায় জিডি করা হয়। জিডি নম্বর ১৪৬৩, তারিখ ২৭-১২-১৭।
কিন্তু যশোর ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সহকারি পরিচালক পরিমল চন্দ্র কুন্ড জানিয়েছেন, তার মতে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে অন্য রাসায়নিক পদার্থ বহন করা হচ্ছিল। ভারত থেকে ডাইক্লোরোমিথেন জাতীয় পদার্থের কথা হয়তো গোপন করা হয়। আগুনের রং এবং পুড়ে যাওয়ার ধরন দেখে এসিড বলে মনে হয়নি।
তার মতে ডাইক্লোরোমিথেন পদার্থ খুব দ্রুত জ্বলতে পারে। আগুন লাগলে পানি দিয়ে নেভানো যায় না। ফোম জাতীয় পদার্থ ব্যবহার করতে হয়। ঘটনার সময় ফায়ারের কর্মীরা শেষ পর্যন্ত তাই করেছে এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে নিতে পেরেছিল। এখন সঠিক ভাবে তদন্ত করলে জানাযাবে যে কী বহন হচ্ছিল ওই কভার্ডভানে।
উল্লেখ, ২৪ ডিসেম্বর ওই কভার্ডভ্যানে আগুন লেগে মারা যান ওয়ার্কশপের মালিক আজাহারুল ইসলাম পিকুল এবং তার ছোটভাই রুহুল আমিন। এসময় আরো ৫টি গাড়ি ভস্মীভুত হয়।