যশোর উপশহরে আঞ্চলিক ইজতেমা আজ শুরু

মিরাজুল কবীর টিটো>
আমবয়ানের মধ্যে দিয়ে যশোরে আজ বৃহস্পতিবার থেকে তিন দিনের বিশ্ব ইজতেমার আঞ্চলিক পর্ব শুরু হচ্ছে। উপশহর ক্রীড়া উদ্যানকে ইজতেমার মূল মাঠ করে শেষ হয়েছে সকল প্রস্তুতি। এতে বিদেশি ও অন্যান্য জেলাসহ যশোরের আট উপজেলার মুসল্লিরা অংশ নেবেন। ৩০ ডিসেম্বর সকাল ১০ টায় আখেরি মোনাজাতের মধ্যে দিয়ে শেষ হবে এই ইজতেমা। এতে বিদেশিসহ জেলা ও জেলার বাইরে থেকে তাবলিগের সাথীরা অংশ নেবেন। শীর্ষ আলেমরা এতে বক্তব্য রাখবেন। সার্বিক নিরাপত্তার জন্য আইনশৃংখলা বাহিনী তৎপর থাকবে। আমবয়ান করবেন ঢাকার কাকরাইল মসজিদের পেশ ইমাম আবদুল বারেক। বুধবার সকাল থেকে মসুল্লিরা আসতে শুরু করে।
উপশহর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এহসানুর রহমান লিটু জানান, উপশহর ক্রীড়া উদ্যানকে ইজতেমার মূল মাঠ করে আরও ৫টি মাঠ প্রস্তুত করা হয়েছে। অন্য মাঠগুলোর মধ্যে রয়েছে উপশহর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠ, উপশহর ডিগ্রি কলেজ মাঠ, বাদশাহ ফয়সাল স্কুল মাঠ, শাপলা কিন্ডার গার্টেন মাঠ ও উপশহর পার্কের মধ্যে । মূল মাঠের নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র থেকে সব কিছুর নিয়ন্ত্রণ করা হবে। ইজতেমায় অন্য জেলা থেকে আগত মুসল্লিদের জন্য উপশহর পার্কের মাঠ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে সেখানে স্থান সংকুলান না হলে অন্যান্য মাঠগুলোর সাথে সমন্বয় করা হবে। আগত মুসল্লিদের যানবাহনের জন্য বিরামপুর স্কুল মাঠ নির্ধারণ করা হয়েছে।
মুল মাঠে বিদেশি মেহমানরা থাকবেন উত্তর-দক্ষিণ অংশে। মুল মাঠের ১নম্বর তাবুস্থানে (খিত্তা) অবস্থান করবেন বাঘারপাড়া উপজেলার মুসল্লিরা। একই মাঠের ২নম্বর তাবুস্থানে সদরের লেবুতলা, চুড়ামনকাটি, নোয়াপাড়া, হৈবতপুর ও কাশিমপুরের মুসল্লিরা, ৩ নম্বরে রাখা হবে ফতেপুর, কচুয়া, ইছালী ও বসুন্দিয়া থেকে আগতদের, ৪ নম্বর দেয়াড়া, আরবপুর, চাঁচড়া, রামনগর ও নরেন্দ্রপুরের মুসল্লিরা অবস্থান করবেন। উপশহর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে ৫নম্বর তাবুস্থানে (খিত্তা) কেশবপুর উপজেলা, ৬ নম্বরে অভয়নগরের মুসল্লিরা অবস্থান নেবেন। বাদশাহ ফয়সাল স্কুল মাঠে ৭নম্বর খিত্তায় মণিরামপুর, ৮নম্বর ঝিকরগাছার মুসল্লিরা থাকবেন। উপশহর ডিগ্রি কলেজ মাঠে ৯ নম্বর খিত্তায় থাকবেন চৌগাছা এবং ১০ নম্বর থাকবেন শার্শার মুসল্লিরা। ইজতেমায় মুসল্লিদের জন্য আর্ট কলেজ, পার্কেও উত্তর-দক্ষিণ পাশে ও উপশহর কলেজের পিছনে ৬শ’ টয়লেট তৈরি করা হয়েছে। পানির চাহিদা পূরনে ৫০টি টিউবওয়েল, সাবমারসেবল স্থাপনসহ ওযু ও গোসলের জন্য উপশহর পুকুরে চারপাশ প্রস্তুত করা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে ইজতেমা এলাকা পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতাসহ বৈদ্যুতিক আলোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ইজতেমার খাদেমদার রফিকুল ইসলাম সুমন জানান, সৌদি আরব, ইরান, ইন্দোনেশিয়া, ভারত, মালয়েশিয়া থেকে মুসল্লিদের আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
মসুল্লিদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে চারটি মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এগুলো হলো যশোর হোমিও মেডিকেল কলেজ, জেলা ইমাম পরিষদ, এপেক্স ক্লাব ও মণিরামপুর কল্যাণ সমিতি।
এপেক্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবদুল গণি জানান, এখানে এপেক্স ক্লাব ও মণিরামপুর কল্যাণ সমিতির ৬জন চিকিৎসক দায়িত্ব পালন করবেন। থাকবে অ্যাম্বুলেন্স। মসুল্লিদের ফ্রি ওষুধ দেয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ক সার্কেল নাইমুর রহমান জানান, ইজতেমায় আইনশৃংখলা রক্ষায় ৫শ’৩৭ পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সালাহ উদ্দিন শিকদার জানান, ইজতেমার ৫০টি স্পটে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
২৭ ডিসেম্বর থেকে উপশহর বি ব্লক বাজারের প্রধান সড়ক ইউনিয়ন পরিষদের প্রধান সড়ক (বিরামপুর হতে ট্রাক স্ট্যান্ড মোড়) পর্যন্ত যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন আয়োজকরা। একই সাথে তারা পবিত্রতা রক্ষা ও মুসল্লিদের সহযোগিতা করার আহবান জানানো হয়েছে।
এর আগে যশোরে ২০১৫ সালে একই স্থানে বিশ্ব ইজতেমার আঞ্চলিক পবেৃও আয়োজন করা হয়েছিল। প্রতিবছর তাবলিগ জামাতের উদ্যোগে এই ইজতেমার আয়োজন করা হয়। তবে আঞ্চলিক ইজতেমা কেন্দ্রীয় মার্কাসের সিদ্ধান্তে করা হয়।