আমবয়ানে শুরু যশোর উপশহরে ইজতেমা

মিরাজুল কবীর টিটো>
আমবয়ানের মধ্যদিয়ে  বৃহস্পতিবার থেকে যশোর উপশহরে শুরু হয়েছে বিশ্ব ইজতেমার আঞ্চলিক পর্ব। হাজারো মুসল্লি জমায়েত হয় প্রথম দিন। ইজতেমাকে ঘিরে উপশহর এলাকা মুসল্লিদের মিলনমেলায় পরিণত হয়। আজ শুক্রবার জুম্মার দিন মুসল্লিদের ঢল নামবে বলে ইজতেমা পরিচালনা কমিটির লোকজন জানিয়েছেন। তিনদিনের এ আঞ্চলিক ইজতেমা আগামীকাল শনিবার আখেরি মোনাজাতের মধ্যদিয়ে শেষ হবে। ইজতেমা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা গেছে উপশহরে মুসল্লিরা জমায়েত হয়েছে। ৬টি মাঠে তারা দলে দলে বিভক্ত হয়ে আল্লাহ আল্লাহ ধ্বনি তুলে ইজতেমা প্রাঙ্গণ মুখরিত করে তুলছে। আখেরি মোনাজাতের জন্য প্যান্ডেল তৈরি করা হয়েছে মূল মাঠ এলাকার প্রধান ক্রীড়া উদ্যানে। ইজতেমার প্রথমদিনে আমবয়ান করেন ঢাকার কাকরাইল মসজিদের তাবলিগ জমায়াতের সাথী মাওলানা মাসুম বিল্লাহ। ইজতেমায় থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার ৫০ জন মুসল্লি অংশ নিয়েছেন। সেইসাথে জেলার ৮ উপজেলাসহ অন্যান্য অঞ্চল থেকে মুসল্লিরা এ ইজতেমায় সমবেত হয়েছেন। তাদের নির্ধারিত স্থানে উঠেছেন। নিজেরাই খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থা করেছেন। এছাড়া মুসল্লিদের ওযু গোসল ও নির্বিঘেœ ইবাদতের সকল ব্যবস্থা রয়েছে। তাদের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৫০টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সিসি ক্যামেরার আওতায় নেয়াসহ পুলিশ সদস্য সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন। সেইসাথে ইজতেমা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে এলাকার ৫শ’ স্বেচ্ছাসেবী কাজ করছেন। ইজতেমার প্রথমদিনে ফজরের নামাজের পর থেকে মুসল্লিরা ইজতেমার মাঠে আসতে শুরু করে। জোহরের নামাজ শুরুর আগে মুসল্লিদের উপস্থিতিতে ৬টি মাঠ ভরে যায়। সকলে একসাথে জোহরের নামাজ আদায় করেন। ইজতেমায় আসা মুসল্লিদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্প স্থাপন করেছে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। এগুলো হচ্ছে যশোর হোমিওপ্যাথিক কলেজ, এপেক্স ক্লাব, মণিরামপুর কল্যাণ সমিতি, রোটারী ক্লাব অব যশোর। এপেক্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল গণি জানান, ইজতেমায় আসা মুসল্লিদের সার্বিক চিকিৎসা ও ওষুধ প্রদান করা হচ্ছে। একইকথা জানান, রোটারী ক্লাব অব যশোর সেন্ট্রালের পাস্ট প্রেসিডেন্ট জাহিদ আহমেদ লিটন।
উপশহর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এহসানুর রহমান লিটু জানান, ইজতেমায় আসা মুসল্লিদের যাতে কোনো অসুবিধা না হয় সেজন্য মেম্বর, দফাদার, চৌকিদাররা সার্বক্ষণিক কাজ করছেন। এর কোনো কমতি হচ্ছে না।
এ ব্যাপারে যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ক সার্কেল এসএম নাঈমুর রহমান জানান, ইজতেমা উপলক্ষে ২৭ ডিসেম্বর দুপুর থেকে নিরাপত্তার জন্য কাজ করছে পুলিশ সদস্যরা। সার্বিক নিরাপত্তার জন্য ৫৩৭ জন পুলিশ সদস্য নিয়োজিত রয়েছেন। সেইসাথে ইজতেমার মাঠে ৫০টি সিসি ক্যামেরাও স্থাপন করা হয়েছে। পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন ইজতেমা শেষে মানুষ চলে যাওয়ার পরও। নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো ঘাটতি নেই। এছাড়া র‌্যাবসহ গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন ইজতেমায় দায়িত্ব পালন করছেন।