মংলায় মাসকিং কলের ‘ভয়ঙ্কর ফাঁদ’

 মংলা প্রতিনিধি : মাসকিং কল। ভয়ঙ্কর এক ফাঁদ। ভিওআইপি ব্যবহার করে এ ধরনের কল করা হয়। এ কলের মাধ্যমে পিন কোড পরিবর্তন, অধিক কমিশন ও বিভিন্ন ধরনের প্রলোভন দেখিয়ে এজেন্টের পিন নম্বর জেনে নেয় প্রতারকরা। রবিউল ইসলাম (৩১) নামে এমনই এক প্রতারক দলের সক্রিয় সদস্যকে বুধবার আদালতে মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়েছে মংলা থানা পুলিশ। তার স্বীকারোক্তিতে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য জানা গেছে।

প্রতারক রবিউল নড়াইলের লোহাগড়া এলাকার বড়দিয়া গ্রামের নিজাম উদ্দিনের ছেলে। মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে তাকে মংলার দিগরাজ এলাকা থেকে স্থানীয় বিকাশ (মোবাইল ব্যাংকিং সিস্টেম) এজেন্টরা আটক করে থানায় সোপর্দ করে। এ সময় তার কাছ থেকে ৪টি মোবাইল ফোন ও বিভিন্ন কোম্পানির বেশ কয়েকটি সিমও জব্দ করে পুলিশ।

জানা গেছে, ২০১১ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশে চালু হয় মোবাইল ব্যাংকিং সিস্টেম বিকাশ। স্বল্প আয়ের জনগোষ্ঠীকে সুবিধাজনক, সাশ্রয়ী এবং নির্ভরযোগ্য সেবার মাধ্যমে অর্থনৈতিক কার্যকলাপের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে ব্র্যাক ব্যাংক বিকাশ চালু করে।

তবে প্রযুক্তিনির্ভর এ পদ্ধতিকে ব্যবহার করে প্রতারণা করে চলেছে একটি চক্র। প্রতারক চক্রের কাছে ধরা দিয়ে প্রতিনিয়ত টাকা-পয়সা হারাচ্ছেন গ্রাহকরা। এ প্রতারণায় সর্বশেষ মাত্রা যোগ হয়েছে মাসকিং কল বা বিকাশ হেল্প লাইনসদৃশ নম্বর থেকে গ্রাহকদের ফোন দিয়ে তাদের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে প্রতারণা করা।

 

গত দুই বছর ধরে এ চক্রটি মংলায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে। প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়েছে কয়েক লাখ টাকা। এ ব্যাপারে মংলা থানায় কয়েক দফা লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

বুধবার মংলা থানার ডিউটি অফিসার ও সহকারী উপ পরিদর্শক (এএসআই) মো. সেলিম আহম্মেদ পরিবর্তন ডটকমকে জানান, মাসকিং কলের ব্যাপারে বেশ কয়েকটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। আটক রবিউল ইসলাম একজন পেশাদার মাসকিং কলার দলের সক্রিয় সদস্য বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন। মঙ্গলবার রাত সাড়ে দশটায় তার বিরুদ্ধে মংলার দিগরাজ এলাকার বিকাশ এজেন্টের মালিক মো. আব্দুর রাজ্জাক বাদী হয়ে ৪০৬/৪২০ধারায় একটি মামলা করেছেন।

রবিউল ২০১৫ সালে খুলনার বিএল কলেজ থেকে ডিগ্রি পাস করার পর এ চক্রের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন বলে জানান পুলিশের এ কর্তা।

এদিকে বাদী মো. আব্দুর রাজ্জাক পরিবর্তন ডটকমকে জানান, মংলার দিগরাজ বাজারের তার মিলি টেলিকমসহ আশপাশের বিকাশ এজেন্টে’র দোকানগুলোতে গত ২০-২২ দিন ধরে রবিউল সন্দেহজনকভাবে চলাফেরা করছিলেন। এসময় তিনি দোকানে দোকানে ঢুকে কৌশলে বিকাশ নম্বরের খাতা দেখে মোবাইল নম্বরও সংগ্রহ করেন। এরপর ওই সব দোকান থেকে নেওয়া নম্বরগুলোতে বিকাশ এজেন্ট পরিচয় দিয়ে ফোন করে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেন। এ নিয়ে দিগরাজ বাজারের বিকাশ এজেন্ট ব্যবসায়ীদের কাছে গ্রাহকরা একের পর এক অভিযোগ জানান। এরই একপর্যায়ে মঙ্গলবার রাতে তাকে আটক করে পুলিশে দেওয়া হয়।

জানতে চাইলে মংলা, শরণখোলা ও রামপাল উপজেলার ডিসটিবিউটার মো. হারুণ পরিবর্তন ডটকমকে জানান, ডিজিটাল অপরাধ এখন প্রতিদিন নিত্য নতুন মাত্রা পাচ্ছে। এর মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন যন্ত্রণার নাম মাসকিং কল। গত দুই বছর ধরে এ চক্রটি মংলায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এ সময়ের মধ্যে এ কলের ফাঁদে ফেলে প্রতারকরা গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে তার কাছে খবর আছে।

সবশেষ মংলার ৮নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর খোরশেদ আলম এ কলের ফাঁদে পড়ে ১ লাখ টাকা প্রতারিত হয়েছেন। এ ব্যাপারে মংলা থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয় বলেও জানান হারুণ।