যশোরে সন্ত্রাসী শুভ ও শিশির জখম অবস্থায় আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক>
যশোর শহরের বেজপাড়া টিবি ক্লিনিক এলাকার নিরীহ চা দোকানি টিপু হত্যা মামলার আসামি কুখ্যাত সন্ত্রাসী রাব্বী ইসলাম শুভ ও শিশির ঘোষকে জখম অবস্থায় আটক করেছে পুলিশ। শুভ শহরের বেজপাড়া খাদ্য গুদামের পেছনের রবিউল ইসলাম রবির ছেলে। আর শিশির ষষ্টিতলা পাড়ার নিত্য ঘোষের ছেলে।
বৃহস্পতিবার ভোর ৪টার দিকে যশোর-ছুটিপুর সড়কের এড়েন্দায় ওসমানের মেহগুনি বাগান থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। এরআগে ওই স্থানে দুইদল সন্ত্রাসীর মধ্যে সংর্ঘষ বাঁধে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ১৯টি তাজা বোমা, ১টি ম্যাগজিনসহ পিস্তল, ১ রাউন্ড গুলি এবং ১টি ওয়ানস্যুটারগান উদ্ধার করেছে। এই ঘটনায় ১২ সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে কোতয়ালি থানায় দুইটি মামলা করেছে পুলিশ।
কোতয়ালি থানার ওসি একেএম আজমল হুদা জানিয়েছেন, রাত তিনটার দিকে পুলিশ সংবাদ পায় সদরের এড়েন্দা গ্রামে দুইদল সন্ত্রাসীর মধ্যে গোলাগুলি হচ্ছে। সংবাদ পেয়ে পুলিশের একাধিক টিম সেখানে পৌঁছালে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। পরে সেখান থেকে জখম অবস্থায় শিশির ও শুভকে আটক করা হয়। ভোর চারটার দিকে তাদের যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে সন্ত্রাসীদের ফেলে যাওয়া বোমা অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। আটক দুই সন্ত্রাসী গত ২৩ ডিসেম্বর সকালে শহরের টিবি ক্লিনিক এলাকায় গুলিতে নিহত দোকানি টিপু হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। এছাড়াও হত্যা, ডাকাতি, ছিনতাই, বোমা হামলা, মারামারি হুমকিসহ ১৫ মামলার আসামি শিশির। আর শুভর বিরুদ্ধে ১০টি মামলা আছে কোতয়ালি থানায়।
ওসি আরো বলেছেন এই ঘটনায় কোতয়ালি থানায় বিস্ফোরক ও বেআইনিভাবে দলবদ্ধ হয়ে মারামারি করার অপরাধে থানায় আলাদা দুইটি মামলা হয়েছে। এসআই বাবুল চন্দ্র বিশ্বাস মামলা দুইটি করেন।
মামলায় শুভ ও শিশির ছাড়া অন্যান্য আসামিরা হলো বেজপাড়া টিবি ক্লিনিক এলাকার মানিক মুন্সির ছেলে নুরনবী ওরফে সোহেল ওরফে ট্যাবলেট সোহেল, শংকরপুরের এসকেনের ছেলে ইয়াছিন, চাঁচড়া তেঁতুলতলা এলাকার মৃত ফারুক হোসেনের ছেলে কুদরত, ষষ্টিতলা বুনোপাড়া এলাকার শফি মিয়ার ছেলে তরিকুল ইসলাম, বেজপাড়ার বিহারী কলোনি এলাকার আলমের ছেলে রাব্বি ওরফে হাল্কা রাব্বি ওরফে আকাশ, রেলগেট পশ্চিমপাড়ার ফায়েকের দুই ছেলে রমজান ও সাগর, শংকরপুর এলাকার কাজী তৌহিদুল ইসলাম ওরফে তৌহিদের ছেলে কাজী রাকিব ওরফে ভাইপো রাকিব, বেজপাড়া এলাকার ফারুক হোসেনের ছেলে শাহেদ হোসেন নয়ন এবং রেলগেট কলাবাগান এলাকার মৃত নজির শেখের ছেলে মুন ওরফে মনু মিয়া।
এসআই বাবুন চন্দ্র বিশ্বাস জানিয়েছেন, উল্লেখিত আসামি ছাড়াও অজ্ঞাত ৫/৬ জনকে আসামি করা হয়েছে এই মামলায়। তিনি আরো জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার ভোরে এড়েন্দা নামকস্থান থেকে দুই সন্ত্রাসীকে জখম অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক এএইচএম আব্দুর রশিদ টুলু জানিয়েছেন, শিশিরকে রাত ৩টা ৫৫ মিনিটে এবং শুভকে ভোর ৪টার দিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শিশিরের বাম হাতের কনুই, ডান পায়ের হাটু এবং বাম পায়ের গোড়ালি আর শুভর বাম পায়ের হাটু, ডান পায়ের গোড়ালি এবং ডান হাতের কনুই ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।
শিশিরের পিতা নিত্য ঘোষ জানিয়েছেন, রাত সাড়ে তিনটার পর তারা জানতে পারেন শিশির-শুভকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। এসে দেখেন তাদের হাতপা ভেঙে দিয়েছে পুলিশ।
গত ২৩ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ১১টার দিকে শহরের বেজপাড়া টিবি ক্লিনিক এলাকার মোহাম্মদ আলীর ছেলে টিপু তার চায়ের দোকানে কাজ করছিলেন। সে সময় ওই দোকানের সামনে দাড়িয়ে ছিল আরেক কুখ্যাত সন্ত্রাসী ট্যাবলেট সোহেল। এসময় সন্ত্রাসী শিশির ও শুভ এসে ট্যাবলেট সোহেলকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। গুলিটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে পিছনে দাড়িয়ে থাকা টিপুর বুকে লাগে এবং তিনি মারা যান।