সাতক্ষীরায় হ্যাচারি মালিকের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি :

সাতক্ষীরায় হ্যাচারি মালিকের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে উচ্চ আদালতের রায় অমান্য করে এক স্কুলশিক্ষকসহ একাধিক ব্যক্তির জমি দখল করে হ্যাচারি নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।অভিযুক্ত ব্যক্তি জেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এক নেতার আত্মীয়। এ জন্য পুলিশ তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

রেকর্ডীয় সম্পত্তির মালিক শহিদুল ইসলাম জানান, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে এভাবে জোর করে অন্যের জমিতে অবৈধ স্থাপনা গড়ছে সিরহীন্দ শ্রিম্প হ্যাচারি লি. নামের একটি প্রতিষ্ঠান। এই জমির প্রকৃত মালিক স্কুল শিক্ষক শহিদুল ইসলাম তার ভাই শফিকুল ইসলামসহ স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি।

শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনি ইউনিয়নের কলবাড়ী গ্রামের এই জমি নিয়ে বিরোধ থাকায় স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ রাখতে হাইকোর্ট গত ২৯ নভেম্বর একটি আদেশ দেন। অথচ সেই আদেশ অমান্য করে চিংড়ির প্রজেক্টের জন্য কাজ করে চলেছে প্রভাবশালী দেবহাটা উপজেলার পারুলিয়া গ্রামের খলিলুর রহমানের ছেলে রফিকুল ইসলাম।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ তাদের জমিতে আদলতের নির্দেশ তোয়াক্কা না করে জেলা আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী নেতার আত্মীয় রফিকুল প্রভাব খাটিয়ে জমি দখল করে স্থাপনা গড়ে তুলছে।

জমির মালিক শফিকুল ইসলাম আরো জানান, সিরহীন্দ শ্রিম্প হ্যাচারির মালিক রফিকুল ইসলাম তার কাছ থেকে ১ একর ২০ শতক জমি কিনেছেন। তিনি জোরপূর্বক দখল করে নিচ্ছেন ১২ একর ৩৬ শতক জমি। হাইকোর্টের নির্দেশে কাজ বন্ধ করার কথা থাকলেও তিনি রাতদিন ওই জমিতে পাঁচিল দিয়ে যাচ্ছেন।
এর মধ্যে জমির মালিকরা বাধা দিতে গেলে তাদেরকে মারধর করে জমি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়।

তিনি আর বলেন, বুড়িগোয়ালিনি মৌজায় ২৫১৮/২৫১৭/ ও ২৫৩০ দাগে তিনি মাত্র এক একর ২০ শতক জমি কেনেন। কিন্তু উক্ত তিন দাগে জমি রয়েছে প্রায় ২৫ একর।

তিনি জোরপূর্বক জমি পাঁচিল দিয়ে ঘিরে নিচ্ছেন। যাতে পেছনের জমিতে কেউ যেতে না পারে।

সিরহীন্দ শ্রিম্প হ্যাচির মালিক রফিকুল ইসলাম বলেন, আমি শহিদুল ইসলামের ভাই ও চাচাতো ভাইদের কাছ থেকে সাড়ে ১০ বিঘা জমি কিনেছি। তারা সাতক্ষীরা জজ কোর্টে প্রিভেনশন কেস করে হেরে গিয়েছিল। পরবর্তীতে হাইকোর্টে গিয়ে কেস করে হাইকোর্ট ৮২ শতক জমির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। আমি ৮২ শতক জমি বাঁধ রেখে কাজ করছি। শহিদুল ইসলাম বিভিন্ন জায়গায় হেরে গিয়ে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মান্নান আলি বলেন, উক্ত জমিটি নিয়ে থানায় কয়েকবার সালিশ-মীমাংসা হয়েছে। হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা আমরা দেখেছি। এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য এবং ওই জায়গা স্থিতিশীল অবস্থা বজায় রাখার জন্য আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করব।