যশোরে বিশাল জনসভায় প্রধানমন্ত্রী> দেশকে এগিয়ে নিতে নৌকায় ভোট দিন

মিজানুর রহমান মুন ও রিমন খাঁন>
উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় দেশকে এগিয়ে নিতে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে ভোট চেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা  রোববার যশোরে বিশাল এক জনসভায় বলেছেন, আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় আসে দেশ তখন এগিয়ে যায়। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে মানুষের কল্যাণে কাজ করে। মানুষের জীবনে শান্তি দেখা দেয়। তাই অতীতে যেভাবে ভোট দিয়েছেন, সেভাবে আবারও নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে মানুষের সেবা করার সুযোগ দেবেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী জনসভায় উপস্থিত লাখো মানুষের কাছে নৌকায় ভোট দেওয়ার অঙ্গীকার চাইলে জনতা দুই হাত তুলে তার প্রতি সমর্থন জানান। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে দেশ চালায়। তারা বাংলাদেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গড়ে তুলবে। তারা দেশকে শান্তি-শৃঙ্খলার দেশে পরিণত করবেন। একমাত্র আওয়ামী লীগই সেটা পারে।
বিএনপি-জামায়াত জোটের কঠোর সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেছেন, বিএনপি-জামায়াত জোটের কাজই হচ্ছে খুনখারাবি আর দখল-লুটপাট। হত্যা-খুন-দুর্নীতি, মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করা- এটাই তাদের কাজ। তারা ধ্বংস করে, মানুষের কোনো কল্যাণ করতে পারে না।
যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে যশোর জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত বিশাল জনসভায় প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার দেশের উন্নয়ন করে। সেখানে বিএনপি-জামায়াত জোট কী করে? তারা কেবল মানুষ হত্যা করে, খুন করতে পারে। দুর্নীতি-দখল-লুটপাট করতে পারে। আর আওয়ামী লীগ দেশে শান্তি দেখতে চায়।
তিনি বলেন, ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর আগেই এদেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। দেশে কোনো দরিদ্র থাকবে না। দেশের উন্নয়ন হবে। কারণ আওয়ামী লীগ জাতির পিতার নেতৃত্বে দেশকে স্বাধীন করেছে। আমরা বিজয়ী জাতি। বিজয়ী জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে চলতে চাই। বিজয়ী দেশ হিসেবেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। আওয়ামী লীগ সবসময়ই এটাই চায়, দেশটা এগিয়ে যাক। দেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। এদেশের মানুষ কারও কাছে ভিক্ষা না করে মাথা উঁচু করে চলবে। তার সরকার দেশকে বিশ্বের বুকে মর্যাদাবান দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চান।
পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের ‘দুর্নীতির’ অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পদ্মা সেতু নিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে অনেক অপবাদ দেওয়া হয়েছে। আমি (প্রধানমন্ত্রী) চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলেছিলাম, কোনো দুর্নীতি হয়নি। আমি শেখ হাসিনা, বঙ্গবন্ধুর কন্যা। আমি কোনো দুর্নীতি করতে আসিনি। আমি এসেছি মানুষের কল্যাণ করতে। অথচ বিশ্বব্যাংক মিথ্যা অপবাদ দিয়েছিল। আমরা বলেছিলাম নিজেদের টাকায় পদ্মা সেতু করবো। কেবল পদ্মা সেতু নয়, রেল সেতুও করা হয়েছে।’
দীর্ঘ পাঁচ বছর পর প্রধানমন্ত্রীর যশোর আগমন ও তার জনসভাকে ঘিরে গোটা জেলায় উৎসবমুখর পরিবেশের সূচনা ঘটেছিল। ২০১৪ সালে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনার এটিই ছিল যশোরে প্রথম জনসভা। এর আগে ২০১২ সালে ২০ ডিসেম্বর এখানে সর্বশেষ জনসভায় যোগ দিয়ে যশোরকে দেশের প্রথম ডিজিটাল জেলা হিসেবে ঘোষণা করেন শেখ হাসিনা।
দীর্ঘদিন পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কাছে পেয়ে মানুষের মধ্যে বিপুল উচ্ছ্বাস ও উদ্দীপনা দেখা গেছে। তার জনসভাকে কেন্দ্র করে দলের নেতাকর্মীদের উৎসাহ উদ্দীপনা ও প্রাণ চাঞ্চল্যও তৈরি হয়। এ উপলক্ষে যশোর শহর ও সংলগ্ন এলাকাগুলোকে বর্ণাঢ্য সাজে সাজিয়ে তোলা হয়। গোটা জেলা শহরসহ সবগুলো সড়কে ফুল, বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিকৃতি, নৌকার প্রতিকৃতি এবং দুই শতাধিক ছোটবড় সুসজ্জিত তোরণের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানানো হয়। শহরের প্রবেশমুখে কয়েক কিলোমিটার আগে থেকে প্রতিটি রাস্তায় কয়েক গজ দূরে দূরেই স্বাধীনতা তোরণ, শেখ রাসেল তোরণ ও শেখ ফজলুল হক মনি তোরণসহ যশোরের প্রয়াত কয়েকজন নেতার নামে এ তোরণগুলোর নামকরণ করা হয়। শহর জুড়ে পোস্টার ও প্ল্যাকার্ডে যশোর বিভাগ ও যশোরকে সিটি করপোরেশন ঘোষণা করা এবং সাংস্কৃতিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি করা হয়। এছাড়া প্রধান সড়কের দুইপাশে শোভা পেয়েছে বর্তমান সরকারের উন্নয়নের তথ্যচিত্র সম্বলিত বিভিন্ন আকারের বিলবোর্ড, ব্যানার-ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড। জনসভাস্থল ঘিরে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
দুপুরের এই জনসভায় যোগ দিতে সকাল থেকেই নেতাকর্মীরা জনসভাস্থলে আসতে শুরু করেন। যশোর ছাড়াও আশপাশের জেলাগুলো থেকে বাস-ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন ও পায়ে হেঁটে জনসভায় যোগ দেন তারা। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শোনার সুযোগ করে দিতে শহরের বিভিন্নস্থানে দুই শতাধিক মাইক বসানো হয়। ২০টি পয়েন্টে বিশাল প্রজেক্টরের সাহায্যে জনসভার কার্যক্রম প্রচার করা হয়। এসব মাইক ও প্রজেক্টরের সামনেও ছিল উৎসুক মানুষের ভিড়। শহরের ঈদগাহ মাঠে জনসভার আয়োজন করা হলেও অনেক জনসমাগমের কারণে পার্শ্ববর্তী টাউন হলসহ পুরো শহরই যেন জনসভাস্থলে পরিণত হয়।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হেলিকপ্টারযোগে সকাল ১১টায় জেলা শহরের বিমানবাহিনীর বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান ঘাটিতে অবতরণ করেন। এরপর বিমান বাহিনী একাডেমিতে রাষ্ট্রপতির কুচকাওয়াজ-২০১৭ (শীতকালীন) অনুষ্ঠানে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। পরে বিকেল সোয়া ৩টায় জনসভাস্থলে এসে পৌঁছান তিনি। এ সময় জনতা বাধভাঙা উচ্ছ্বাস ও তুমুল স্লোগানের মাধ্যমে স্বাগত জানান তাকে। জাতীয় পতাকাসহ রংবেরঙের পতাকা নেড়ে শুভেচ্ছা জানানো হয় তাকে। প্রধানমন্ত্রীও হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান।
জনসভা শুরুর আগে যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দান থেকে ২৮টি উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন ও ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী। তার উদ্বোধন করা প্রকল্পগুলো হচ্ছে, কপোতাক্ষ নদের জলাবদ্ধতা দূরীকরণ প্রকল্প (১ম পর্যায়); তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে নির্বাচিত বেসরকারি কলেজসমূহের উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় যশোর জেলার সদর উপজেলার আমদাবাদ কলেজ ১ম পর্যায়ে নির্মিত দোতলা ভবনের ৩য় ও ৪র্থ তলার সম্প্রসারণ কাজ; তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে নির্বাচিত বেসরকারি কলেজসমূহের উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় শার্শা উপজেলার পাকশিয়া কলেজ ১ম পর্যায়ে নির্মিত দোতলা ভবনের ৩য় ও ৪র্থ তলার সম্প্রসারণ কাজ; তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে নির্বাচিত বেসরকারি কলেজগুলোর উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় বাঘারপাড়া উপজেলার বাঘারপাড়া ডিগ্রি কলেজ ১ম পর্যায়ে নির্মিত দোতলা ভবনের ৩য় ও ৪র্থ তলার সম্প্রসারণ কাজ; মনিরামপুর উপজেলা সদরে ৫০০ আসন বিশিষ্ট শহীদ মশিয়ুর রহমান অডিটোরিয়াম-কাম মাল্টি পারপাস হল, নির্মাণ; পাবলিক লাইব্রেরির (৩য় পর্যায়) উন্নয়ন প্রকল্প; যশোর মেডিকেল কলেজের একাডেমিক ভবন নির্মাণ; হৈবতপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস ভবন নির্মাণ; নরেন্দ্রপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস ভবন নির্মাণ; মহাকাল ইউনিয়ন ভূমি অফিস ভবন নির্মাণ; পাতিবিলা ইউনিয়ন ভূমি অফিস ভবন নির্মাণ; যশোর পুলিশ সুপার ভবন নির্মাণ; যশোর পুলিশ হাসপাতাল নির্মাণ; জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেলের পূর্ণাবয়ব প্রতিকৃতি ভাস্কর্য নির্মাণ; নগর অঞ্চল উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় যশোর শহরের ১৩ কি. মি. সড়ক ও ২২ কি. মি. ড্রেন নির্মাণ কাজ; ঝিকরগাছা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ; ঝিকরগাছা, মালোপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ, অভয়নগর। এছাড়া ভৈরব রিভার বেসিন এলাকার জলাবদ্ধতা দূরীকরণ ও টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন প্রকল্প; যশোর-বেনাপোল জাতীয় মহাসড়ক (এন-৭০৬) যথাযথমানে ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্প; যশোর-খুলনা জাতীয় মহাসড়ক যশোর অংশ (পলাশবাড়ী হতে রাজঘাট অংশ) যথাযথমানে উন্নীতকরণ প্রকল্প; ওকেশবপুর কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণ; যশোর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মাণ; ৩য় নগর পরিচালনা ও অবকাঠামো উন্নীতকরণ প্রকল্পের আওতায় যশোর শহরের ২৫ কি.মি. সড়ক ও ২৪ কি.মি. ড্রেন নির্মাণ কাজ; নগর অঞ্চল উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় হামিদপুর কম্পোষ্ট প্ল্যান্ট, প্রি-ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট, বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট এবং কন্ট্রোল ল্যান্ডফিল সেল নির্মাণ; ঝিকরগছা উপজেলা পরিষদের সম্প্রসারিত প্রশাসনিক ভবন ও হলরুম নির্মাণ; বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের ম্যুরাল স্থাপন; শেখ রাসেল জিমনেসিয়াম ভবন এবং ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) নির্মাণ- এসব উন্নয়ন কাজগুলোর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী। জনসভায় বক্তব্য শেষে বিকেল সাড়ে ৪টায় হেলিকপ্টারযোগে ঢাকায় রওয়ানা হন প্রধানমন্ত্রী। সন্ধ্যার আগেই তার সরকারি বাসভবন গণভবনে ফিরে যান প্রধানমন্ত্রী।
প্রায় ৩৩ মিনিটের বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী পঁচাত্তর পর সামরিক স্বৈরশাসকদের দুঃশাসন তুলে ধরে আরও বলেন, পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে হত্যা করার পর বাংলাদেশে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল ও হত্যা-ষড়যন্ত্র ক্যুর রাজনীতি শুরু হয়। অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে জিয়াউর রহমান প্রতিরাতে কার্ফ্যু দিয়ে দেশ চালাতো। যুদ্ধাপরাধীদের পুনর্বাসন করে তাদের রাজনীতি করার সুযোগ করে দিয়েছেন। এটাই ছিল তার বহুদলীয় গণতন্ত্র।
পঁচাত্তরে সপরিবারে বঙ্গবন্ধুর বিয়োগান্তক হত্যাকা-ের কথা স্মরণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। অশ্রুরুদ্ধ কণ্ঠে তিনি বলেন, জাতির পিতা এদেশের মানুষের জন্য জীবন দিয়ে গেছেন। তিনি (শেখ হাসিনা) মা-বাবা-ভাই সবাইকে হারিয়েছেন। তার চাওয়া-পাওয়া কিংবা হারাবার কিছুই নেই। তার জীবনে একটাই লক্ষ্য এদেশের মানুষের কল্যাণ করা।
তিনি বলেন, ছয় বছর পর দেশে ফিরে এসে তিনি ও তার বোন শেখ রেহানা স্বজন হত্যার বিচার চাইতেও পারেননি। কারণ তারা আইন করেছিল- এই হত্যার বিচার করা যাবে না। ইনডেমনিটি দিয়ে এই হত্যার বিচার না করে জিয়াউর রহমান খুনিদের বিদেশি দূতাবাসে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করেছেন। আর খালেদা জিয়া খুনিদের আশ্রয়-প্রশ্রয় ও মদদ দিয়েছেন। যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রী বানিয়ে তাদের হাতে লাখো শহীদের রক্তভেজা জাতীয় পতাকা তুলে দিয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে ২০০১-২০০৬ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সন্ত্রাস-দুর্নীতি-লুটপাট, হত্যা ও অত্যাচার-নির্যাতনের বিবরণ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত বাংলাদেশকে এবং দেশের সম্পদ গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দিয়ে ক্ষমতায় এসে দেশে সন্ত্রাস-দুর্নীতি-জঙ্গিবাদ ও লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করেছিল। সারাদেশে একই দিনে পাঁচশ জায়গায় বোমা হামলা, বাংলা ভাই সৃষ্টি- এগুলোই করেছে। জোট সরকারের আমলে দেশে কী চলেছে? তাদের দুঃশাসনে মানুষের জীবন থেকে আরও সাত-আটটি বছর হারিয়ে গেছে। এরা যখনই সুযোগ পায়, মানুষের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন করে।
এ প্রসঙ্গে নির্বাচন বানচাল ও সরকার উৎখাতের নামে বিএনপি-জামায়াত জোটের সন্ত্রাস-নৈরাজ্য ও মানুষ পুড়িয়ে হত্যার প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই ধরনের ধ্বংসাত্বক কাজ যারা করে, যারা মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করে- তারা মানুষের কল্যাণ করতে পারে না।
তিনি বলেন, মানুষ সামনের দিকে এগোয়। আর এরা (বিএনপি-জামায়াত) পেছন দিকে হাঁটে। কথায় আছে ‘ভুতের পা পেছন দিকে চলে।’ বিএনপি-জামায়াত জোট অদ্ভুতভাবে ক্ষমতায় আসে। আর ক্ষমতায় এসে ভুতের মতো দেশ চালায়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা মানিলন্ডারিং করে বিদেশে টাকা পাচার করেছেন। খালেদা জিয়ার এক ছেলে ঘুষ দুর্নীতি করে বিদেশে টাকা পাচার করেছেন। আমেরিকার এফবিআই এসে সাক্ষ্য দিয়ে গেছে। আরেক ছেলে সিঙ্গাপুরে টাকা পাচার করেছে। সেই টাকা সরকার ফেরৎ এনেছে। এই গেল দুই ছেলে। মা-ও কম যান না। মা খালেদা জিয়া এতিমের নামে টাকা এনে টাকা মেরে খেয়েছেন। যারা এতিমের টাকা মেরে খায়, জনগণের টাকা বিদেশে পাচার করে- তারা আবার কোন মুখে কথা বলে?
বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণকে ইউনেস্কোর ‘বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য’ হিসেবে স্বীকৃতি বাঙালি জাতিকে বিশ্বে মর্যাদা এনেছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। যশোরের উন্নয়নে সরকার গৃহীত পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যশোরবাসীর কল্যাণে অনেকগুলো উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করে সেগুলো উপহার দিয়ে গেলেন তিনি। একই সঙ্গে গত নির্বাচনে যশোরের ছয়টি আসনের সবকটিতে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের বিজয়ী করায় যশোরবাসীকে অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানান প্রধানমন্ত্রী।
যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলম মিলনের সভাপতিত্বে জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডিয়াম সদস্য পীযূষ কান্তি ভট্টাচার্য্য, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেন সিকদার, সদস্য এসএম কামাল হোসেন, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক পংকজ দেবনাথ, যুব মহিলালীগের সভাপতি নাজমা আক্তার, যশোর-১ শার্শা আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আলহাজ শেখ আফিল উদ্দিন, যশোর-২ (ঝিকরগাছা- চৌগাছা) আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল ইসলাম মনির, যশোর-৩ সদর আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ, যশোর-৪ বাঘারপাড়া আসনের সংসদ সদস্য রণজিত কুমার রায়, , যশোর-৫ মণিরামপুর আসনের সংসদ সদস্য স্বপন ভট্টাচার্য, সংরক্ষিত আসনের সাংসদ কামরুন্নাহার লায়লা জলি, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামান পিকুল, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবদুল খালেক, খয়রাত হোসেন, অ্যাডভোকেট জহুর আহমেদ, আবদুল মজিদ, জেলা যুবলীগের সভাপতি মোস্তফা ফরিদ আহমেদ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু, জেলা কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোশারফ হোসেন, শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন, মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী নুরজাহান ইসলাম নীরা, স্বেচ্চাসেবকলীগের সভাপতি আসাদুজ্জামান মিঠু, যুব মহিলা লীগের সভানেত্রী মঞ্জুন্নাহার নাজনীন সোনালী, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রওশন ইকবাল শাহী প্রমুখ। আরো উপস্থিত ছিলেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দিপু মনি, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক, সাবেক সংসদ সদস্য খালেদুর রহমান টিটো, সংসদ সদস্য নবী নেওয়াজ, আনোয়ারুল আজীম আনার, মিজানুর রহমান মিজান, ফতেমাতুজ্জোহরা শ্যামলী প্রমুখ। জনসভা পরিচালনা করেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার।