স্বাগতম শেখ হাসিনা

নিজস্ব প্রতিবেদক>ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকার, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ আসছেন দেশের প্রথম ডিজিটাল জেলা যশোরে। প্রধানমন্ত্রীকে বরণে প্রস্তুত যশোরবাসী। তাঁকে স্বাগত জানাতে বর্ণিল সাজে সেজেছে গোটা যশোর। দৃষ্টিনন্দন তোরণ, ব্যানার ফেস্টুনে যশোর পেয়েছে বর্ণিল রূপ। জনতার মাঝে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। দীর্ঘ ৫ বছর পর যশোর ঈদগাহ ময়দানে আওয়ামী লীগের জনসভায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ছাড়াও বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর (বিএএফ) নতুন কমিশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রেসিডেন্ট কুচকাওয়াজ এর অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। এ সফরে প্রধানমন্ত্রী ১৫টি উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন ও ১২টি কাজের ভিত্তিপ্রস্তুর স্থাপন করবেন।
এরআগে ২০১২ সালের ২০ ডিসেম্বর একই স্থানে সমাবেশ থেকে যশোরকে ঘোষণা করেন দেশের প্রথম ডিজিটাল জেলা । আগামীতে আবার ক্ষতায় আসলে এই জেলাকে সিটি কর্পোরেশন করার ঘোষণাও দিয়েছিলেন তিনি। সে অনুযায়ী আজকের জনসভায় যশোরের জন্য নতুন কোন ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছে যশোরবাসী। ইতোমধ্যে যশোরকে বিভাগ ঘোষণার প্রত্যাশা করছেন সচেতন মহল। একই সাথে প্রাপ্তির আনন্দে তুষ্ট যশোরের বাসিন্দারা ধন্যবাদ জানাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীকে। যশোরবাসীর জন্য শেখ হাসিনার সবচেয়ে বড় উপহার আইসিটি পার্ক। যার মাধ্যমে যশোরের মর্যাদা বেড়েছে দেশ ও দেশের বাইরে। যশোরের নতুন জজকোট ভবন, মেডিকেল কলেজের নিজস্ব ক্যাম্পাসে ফিরে যাওয়া, বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক ভবন, মসজিদ, ক্যাফেটোরিয়া, শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নতি, সন্ত্রাসমুক্তকরণসহ নানা সুবিধাপ্রাপ্তি যশোরবাসী কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করে। এসবের জন্য তারা ধন্যবাদ জানায় শেখ হাসিনাকে।
আজ প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনকৃত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে, কপোতাক্ষ নদের জলাবদ্ধতা দূরীকরণ প্রকল্প (১ম পর্যায়); তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে নির্বাচিত বেসরকারি কলেজসমূহের উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় যশোর জেলার সদর উপজেলাস্থ আমদাবাদ কলেজ ১ম পর্যায়ে নির্মিত দোতলা ভবনের ৩য় ও ৪র্থ তলার সম্প্রসারণ কাজ; শার্শা উপজেলাস্থ পাকশিয়া কলেজ ১ম পর্যায়ে নির্মিত দোতলা ভবনের ৩য় ও ৪র্থ তলার সম্প্রসারণ কাজ; বাঘারপাড়া উপজেলাস্থ বাঘারপাড়া ডিগ্রী কলেজ ১ম পর্যায়ে নির্মিত দোতলা ভবনের ৩য় ও ৪র্থ তলার সম্প্রসারণ কাজ; যশোর জেলার মনিরামপুর উপজেলা সদরে ৫০০ আসন বিশিষ্ট শহীদ মশিয়ুর রহমান অডিটোরিয়াম-কাম মাল্টি পারপাস হল নির্মাণ; পাবলিক লাইব্রেরির (৩য় পর্যায়) উন্নয়ন প্রকল্প; যশোর মেডিকেল কলেজের একাডেমিক ভবন নির্মাণ; হৈবতপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস ভবন নির্মাণ; নরেন্দ্রপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস ভবন নির্মাণ; মহাকাল ইউনিয়ন ভূমি অফিস ভবন নির্মাণ; পাতিবিলা ইউনিয়ন ভূমি অফিস ভবন নির্মাণ; যশোর পুলিশ সুপার ভবন নির্মাণ; যশোর পুলিশ হাসপাতাল নির্মাণ; জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেলের পূর্ণাবয়ব প্রতিকৃতি ভাস্কর্য নির্মাণ; নগর অঞ্চল উন্নয়ন প্রকল্প এর আওতায় যশোর শহরের ১৩ কি. মি. সড়ক ও ২২ কি.মি. ড্রেন নির্মাণ কাজ; ঝিকরগাছা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ; মালোপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ ।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকৃত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে ভৈরব রিভার বেসিন এলাকার জলাবদ্ধতা দূরীকরণ ও টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন প্রকল্প; যশোর-বেনাপোল জাতীয় মহাসড়ক যথাযথমানে ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্প; যশোর-খুলনা জাতীয় মহাসড়ক যশোর অংশ (পলাশবাড়ী হতে রাজঘাট অংশ) যথাযথমানে উন্নীতকরণ প্রকল্প; কেশবপুর কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণ; যশোর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মাণ; ৩য় নগর পরিচালনা ও অবকাঠামো উন্নীতকরণ প্রকল্প এর আওতায় যশোর শহরের ২৫ কি.মি. সড়ক ও ২৪ কি.মি. ড্রেন নির্মাণ কাজ; নগর অঞ্চল উন্নয়ন প্রকল্প এর আওতায় হামিদপুর কম্পোষ্ট প্ল্যান্ট, প্রি-ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট , বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট এবং কন্ট্রোল ল্যান্ডফিল সেল নির্মাণ; ঝিকরগছা উপজেলা পরিষদের সম্প্রসারিত প্রশাসনিক ভবন ও হলরুম নির্মাণ; বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের ম্যূরাল স্থাপন; শেখ রাসেল জিমনেসিয়াম ভবন, ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসমি)।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে গোটা আওয়ামী পরিবার সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে। আগামী ডিসেম্বরে জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে এই জনসভার প্রভাব আশপাশের জেলাগুলোতেও ঘটবে বলে মনে করেন জেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ। যশোর জেলার ৮ উপজেলা এবং ৬ টি সংসদীয় এলাকায় লাখ লাখ নেতা কর্মী শেখ হাসিনার জনসভায় যোগদান করবেন।