৯ বছরে যশোরে সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন আগামী দিনের জন্য বরাদ্দ ৪০ হাজার কোটি টাকা

রিমন খাঁন>
সবকিছুতে এগিয়ে থাকলেও উন্নয়নে বরাবরই অনেক পিছিয়ে ব্রিটিশ ভারতের প্রথম জেলা যশোর। শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়নের ছোয়ায় পিছিয়ে থাকা যশোর অগ্রগামী হতে চলেছে। দেশের প্রথম ডিজিটাল জেলা যশোরে স্থাপিত হয়েছে আইসিটি পার্ক। যার নামকরণও হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে। বর্তমান সরকারের ৯ বছরে অনেকখানি বদলে গেছে যশোর। সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন হয়েছে এ জেলায়। আগামী দিনের জন্য বরাদ্দ হয়েছে আরো ৪০ হাজার কোটি টাকা। উন্নয়নের জোয়ারে সেই যশোর-এই যশোর একাকার হয়ে গেছে। সেই যাশোর ছিল আন্দোলন সংগ্রামের সূতিকাগার। সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক এমনকী সমাজ সামাজিকতাতেও এই জেলার রয়েছে বিশেষ খ্যাতি। ঐতিহ্যবাহী ৩৬০ দোয়ারি খ্যাত যশোর কালেক্টরেট ভবন, যশোর ইনস্টিটিউটের ঘূর্ণায়ণমান মঞ্চ এই জেলা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধারক। তাছাড়া ফুল, সবজি এবং মৎস্য উৎপদনের রয়েছে খ্যাতি। এজেলার খেজুর গুড় আর নকশীকাঁথা তুলনাহীন, একসময়ে হাড়ের চিরুনী ছিল জগৎজোড়া নাম। ১৮৬৪ সালে প্রতিষ্ঠিত যশোর পৌরসভা। ১৮৫১ সালে প্রতিষ্ঠিত পাবলিক লাইব্রেরী উপমহাদেশের সর্বপ্রাচীন লাইব্রেরিগুলোর একটি। ৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ এর প্রথম হানাদার মুক্তজেলা যশোর, মুক্ত দেশের প্রথম জনসভা এই যশোরের মাটিতে ১১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয়। এই যশোরকে ২০১২ সালে ২০ ডিসেম্বর দেশের প্রথম ডিজিটাল জেলা ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অনেক আগে থেকে বিভাগ ঘোষণার দাবি জানানো হলেও ডিজিটাল জেলা ঘোষণার সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আবার ক্ষমতায় আসলে সিটি কর্পোরেশন করার ঘোষণা দেন। সেই থেকে যশোরবাসি আসায় বুক বেঁধে আছে।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কণ্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মাধ্যমে জেলার উন্নয়নও কম নয়। সর্বশেষ তিনি চলতি মাসের ১০ তারিখে উদ্বোধন করেছেন যশোরের শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক । ভৈরব নদ খননের জন্যে বাজেট বরাদ্দ হয়েছে।
নয় বছরে ২শ ২৯ টি প্রকল্পের মাধ্যমে ১১হাজার ৫ শত ৮৬ কোটি ৯৫ লাখ টাকার উন্নয়ন হয়েছে যশোরে। এর মধ্যে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ এক হাজার ৮শ ৯৬ কোটি ৬৮ লাখ টাকার ১২০ টি প্রকল্প, গণপূর্ত বিভাগ ১৫ কোটি ৭ লাখ টাকার ৫ প্রকল্প, শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগ ৫১ কোটি ৬৮লাখ টাকায় ৯টি প্রকল্প, জনস্বাস্থ্য্য প্রকৌশল বিভাগ ১০৫ কোটি ৬১ লাখ টাকায় ৯ প্রকল্প, সড়ক ও জনপথ বিভাগ এক হাজার এক কোটি ৫ লাখ টাকায় ১০ প্রকল্প, জেলা সমবায় বিভাগ ১৭ কোটি ৯০ লাখ টাকায় ৩ টি প্রকল্প, জেলা খাদ্য বিভাগ ৩৬৯ কোটি ৭০ লাখ টাকায় ৯ প্রকল্প, জেলা মৎস বিভাগ ৩৭ কোটি ১৪ লাখ টাকায় ৩৫ প্রকল্প, কৃষি বিভাগ ৪১৬ কোটি ৩ লাখ টাকায় ১৪ প্রকল্প, যুব উন্নয়ন বিভাগ ২ হাজার ৩৮ কোটি ৩৩ লাখ টাকায় ৩ টি প্রকল্প, ত্রান ও পুনবাসন বিভাগ ১ হাজার ৫০ কোটি ৭৬ লাখ টাকায় ৪ টি প্রকল্প, পানি উন্নয়ন বোর্র্ড ৬৫৬ কোটি ৬৬ লাখ টাকায় ৪ টি প্রকল্প এবং মহিলা বিষয়ক অফিস (৫০৫ কোটি ২৮ লাখ টাকায় ৪ প্রকল্প। একটি বিশেষ সুত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এছাড়াও আগামী ৫ বছরের সম্ভাব্য ৪২ টি প্রকল্পের জন্যে ৪০হাজার ৯১ কোটি ৬৬ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে।