জনস্রোতের মোহনা যেন যশোর ঈদগাহ

নিজস্ব প্রতিবেদক>
যশোরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভা ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। রোববার সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জনস্রোত আসতে শুরু করে। হাজার হাজার মানুষের গন্তব্য শহরের ঈদগাহ ময়দান। শহরের প্রবেশমুখে গাড়ি থামিয়ে তিন-চার কিলোমিটার হেঁটে জনসভাস্থলে আসে মানুষ। স্লোগান, ব্যান্ডপার্টির বাজনার তালে তালে জনস্রোত ঈদগাহের দিকে। জনসভাস্থল কানাই কানাই পূর্ণ হয়। শহরের অলিগলি রাস্তায় মানুষ আর মানুষ। হাজারো মানুষের জনস্রোতের মোহনা যেন ঈদগাহ মাঠ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেখার জন্য জেলা ও জেলার বাইরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষের বহর সমবেত হয়। অনেকে জনসভাস্থলে প্রবেশ করতে না পেরে রাস্তার ধার, দোকানপাটে অবস্থান নেয়।
সকাল থেকে শহরের চাঁচড়ামোড়, ধর্মতলা, পালবাড়ি, খাজুরা বাসস্ট্যান্ড, মণিহার স্ট্যান্ড, টার্মিনাল এলাকায় জেলা ও জেলার বাইরের বিভিন্ন থেকে গাড়ির বহর এসে থামে। সেখান থেকেই হাজার হাজার মানুষ ব্যানার ফেস্টুন, ব্যান্ডপার্টি নিয়ে স্লোগানে স্লোগানে ঈদগাহ ময়দানের দিকে এগিয়ে আসছে। সবার গন্তব্য ঈদগাহ ময়দানের দিকে। শহরের প্রধান প্রধান সড়কগুলো মানুষ আর মানুষ। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের পক্ষে চলছে শোডাউন। ঈদগাহ ময়দানে জায়গা না পেয়ে সংলগ্ন রাস্তার ওপর অবস্থান নিয়েছে মানুষ।
যশোরের শার্শা উপজেলার নাভারণ থেকে এসেছেন মাহাবুব আলী (৭০)। বললেন, সকাল ৮টার সময় ট্রাকে করে তারা রওন হন। শহরের চাঁচড়া মোড়ে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। কয়েক কিলোমিটার পথ হেটে এসেছেন। কিন্তু ঈদগাহ ময়দানে ঢুকতে পারেননি। এজন্য তারা প্রেসক্লাবের সামনে রাস্তার ধারে বসে আছেন। মাইকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাষণ শুনে বাড়ি ফিরবেন।
শার্শার বাগআঁচড়া থেকে এসেছেন অরুণা রানী (৫৫)। বললেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেখার জন্য এসেছি। ভিড়ের মধ্যে মাঠে ঢুকতে পারিনি। তাই বাইরে বসে আছি।
শার্শার ডিহি ইউনিয়নের মেম্বর আবদুস সালাম (৫০) বলেন, ৬টি ট্রাকে তার ওয়ার্ড থেকে পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী নিয়ে এসেছেন। ঈদগাহ মোড়ে এসে তারা থমকে গেছেন। ভিতরে ঢোকার সুযোগ নেই। তাই রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে আছি। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ শুনে বাড়ি ফিরে যাবো।
যশোর সদররের সাতমাইল এলাকার শামসুর রহমান (৩০) বলেন, এলাকার অনেকের সঙ্গে জনসভায় এসেছেন। প্রধানমন্ত্রীকে দেখার জন্য আসা। কিন্তু সেই আশা পূরণ হবে না। মঞ্চ থেকে অনেক দূরে অবস্থান করছি।
শুধু মাহাবুব আলী, অরুনা বিশ্বাস কিংবা শামসুর রহমান নয়, তাদের মত হাজার হাজার মানুষ জনসভাস্থলের কাছাকাছি পৌঁছতে না পেরে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কে অবস্থান নিয়েছেন।
জানাযায়, ২০১২ সালের ২০ ডিসেম্বর যশোর ঈদগাহ ময়দানে আওয়ামী লীগের জনসভায় ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর ২০১৪ সালের ২৩ মার্চ নির্বাচনী সহিংতার শিকার অভয়নগরের মালোপড়া পরিদর্শনে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নওয়াপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে ভাষণ দেন। সেটি ছিল উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভা। এর আগে ২০১০ সালে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস উদ্বোধনে আসেন প্রধানমন্ত্রী। তবে এবার ৩১ ডিসেম্বর যশোর সফরকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করছেন দলের নেতাকর্মীরা। নির্বাচনী আমেজের জনসভা দলীয় নেতাকর্মীদেরকে উজ্জীবিত করেছে।