ঝিকরগাছায় হুন্ডির ১০ লাখ টাকা ছিনতাই> যশোর কোতয়ালি থানার এএসআই ক্লোজড, কনস্টেবলসহ আটক ২

নিজস্ব প্রতিবেদক>
ঝিকরগাছায় দিনদুপুরে হন্ডির ১০ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগে শাহ আলম নামে যশোর কোতয়ালি থানার এক সহকারি উপ-পরিদর্শককে (এএসআই) পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়েছে। আটক করা হয়েছে পুলিশ কনস্টেবল কাজী জহিরুল হক এবং শহরের চাঁচড়া ডালমিল এলাকার জাহাঙ্গীর সরকারের ছেলে জীবন সরকারকে। আর ঘটনাটি ঘটেছে ঝিকরগাছার বেনেয়ালি নামকস্থানে একটি তেল পাম্পের কাছে।
ঝিকরগাছা থানার ওসি আবু সালেহ মাসুদ করিম জানিয়েছেন, বেনাপোলের রোশা এন্টাপ্রাইজের ১০ লাখ টাকা ছিনতাই ঘটনায় দুইজনকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতদের মধ্যে কোন পুলিশ সদস্য আছে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেছেন, আমরা কাউকে চিনি না। তবে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
আর কোতয়ালি থানায় ওসি একেএম আজমল হুদা জানিয়েছেন, প্রশাসনিক কারণে থানার সহকারি উপ-পরিদর্শক শাহ আলমকে ক্লোজড করা হয়েছে। এর বেশি কিছু জানিনা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সোমবার দুপুর দেড়টার দিকে ঝিকরগাছার বেনেয়ালী এলাকার একটি তেল পাম্পের কাছে সাদা পোশাকে পুলিশ পরিচয়ে ৬ ব্যক্তি বেনাপোল দিক থেকে আসা একটি পিকআপ থামিয়ে তল্লাশি শুরু করে। এসময় তারা ওই পিকআপ থেকে ব্যাগ ভর্তি ৩০ লাখ টাকা জোর করে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। সে সময় পিকআপ আরোহী আর ওই ৬ ব্যক্তির মধ্যে বাকবিতন্ডা বাঁধে। এপর্যায়ে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে সাদা পোশাকধারীদের ঘিরে ফেলে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ৩জন টাকার একটি ব্যাগ নিয়ে মোটরসাইকেলযোগে দ্রুত ঝিকরগাছার দিকে পালিয়ে যায়। বাকি তিনজনকে স্থানীয়রা আটক করে ঝিকরগাছা থানা পুলিশের হাতে তুলে দেয়। ঘটনার সময় পালিয়ে যাওয়া একব্যক্তি তার গায়ের জ্যাকেটটি হাজিরালী মহিলা কলেজ মোড় এলাকায় ফেলে দেয়।
জানাগেছে, আটক তিনজনের মধ্যে একজন ছিল কোতয়ালি থানার এএসআই শাহ আলম। পুলিশ তাকে ছেড়ে দেয়।
এব্যাপারে থানার অফিসার ইনচার্জ আবু সালেহ মাসুদ করিমের কাছে আটককারীদের পরিচয় জানতে চাইলে তিনি প্রথমে অস্বীকার করেন। পরে দুইজনের আটকের কথা স্বীকার করেন। তিনি আরো বলেন, এব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে। মামলা হলে এসআই মনিরের কাছ থেকে বিস্তারিত জেনে নেয়া পরামর্শ দেন ওসি।
এসআই মনির স্থানীয় সাংবাদিকদের এ সম্পর্কে তথ্য দিতে নানা টালবাহানা ও সময় ক্ষেপন করেন। পরে তাকে ফোন করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করা থেকে বিরত থাকেন।
ঘটনার সময় আটক ব্যক্তিদের ডিবি পুলিশ বলে অনেকে সন্দেহ করে। কিন্তু ডিবি পুলিশের কোন সদস্য আটক হয়নি বলে নিশ্চিত করেন ওসি মনিরুজ্জামান।
পুলিশের একটি সূত্রের দাবি, বেনাপোলের একটি সিএন্ডএফ এজেন্ট হুন্ডির ৩০ লাখ টাকা পাচার করছিল। এমন সংবাদ পান কোতয়ালি থানার এএসআই শাহ আলমসহ অন্যান্যরা। তারা যশোর-বেনাপোল সড়কের ঝিকরগাছার বেনেয়ালি নামকস্থনে অবস্থান নিয়ে ওই টাকা কেড়ে নেয়ার পরিকল্পনা করে।
সূত্রের দাবি, পাচারকৃত ৩০ লাখ টাকার মধ্যে ২০ লাখ টাকা স্থানীয় জনগণ আটকাতে পারলেও অবশিষ্ট টাকা নিয়ে পালিয়ে যায় তিন ছিনতাইকারী।
আটককৃতরা হলেন গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী থানার ফড়কি গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে ও যশোর কোতয়ালি থানার কনস্টেবল কাজী জহুরুল হক ও যশোর শহরের চাঁচড়া ডালমিল এলাকার জাহাঙ্গীর সরকারের ছেলে জীবন সরকার।
পুলিশের অপর একটি সূত্রে জানাগেছে এঘটনার দায়েরকৃত মামলায় যশোর কোতয়ালি থানার এএসআই শাহ আলমকে পলাতক দেখানো হয়েছে। কিন্তু এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ঝিকরগাছা থানার ডিউটি অফিসার এএসআই সেলিম কোন তথ্য দিতে পারেননি।