বাংলাদেশের কোনো বিমানবন্দরের ওয়েবসাইট নেই

গোলাম মুজতবা ধ্রুব বিডিনিউজ>
বিদেশি পর্যটক টানতে ডিজিটালাইজেশনে প্রাধান্য দেওয়া সরকারের তিন বছরমেয়াদী মহাপরিকল্পনার মধ্যেও অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ছাড়াই কার্যক্রম চলছে বিমানবন্দরগুলোর।

এর মধ্যে বাংলাদেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হযরত শাহজালালের নিজস্ব একটি ওয়েবসাইট থাকলেও দুই মাস ধরে তা বন্ধ রয়েছে। খোদ বিমানমন্ত্রীই জানেন না যে, বিমানবন্দরগুলোর ওয়েবসাইট নেই।

বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞ ও পর্যটন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদেশি পর্যটক ও এয়ারলাইন্সগুলোর জন্য বিমানবন্দর বিষয়ে সার্বিক হালনাগাদ তথ্যগুলো ওয়েবসাইটে থাকা একান্ত জরুরি। বিমানবন্দরের তথ্যের সহজলভ্যতা থাকলে তা বিদেশি পর্যটক টানার পাশাপাশি তা দেশকে বাণিজ্যিকভাবেও লাভবান করবে।

তারা বলছেন, আবহাওয়া ও বিমান চলাচলের মতো প্রতি মুহূর্তের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে ডিজিটালাইজেশনের এই যুগে ওয়েবসাইটের কোনো বিকল্প নেই।

সাধারণভাবে আকাশ পথে ভ্রমণকারীরা ফ্লাইট শিডিউল ও ব্যাগেজ হারানোসহ বিভিন্ন বিষয়ে তথ্যের জন্য বিমানবন্দরের ওয়েবসাইটে নিয়মিত ভিজিট করে থাকেন।

এবিষয়ে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের পক্ষ থেকে জানতে চাইলে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন প্রথমে ‘বিমানবন্দরের তথ্য জানার জন্য ওয়েবসাইট আছে’ বলে দাবি করেন।

পরে তিনি বলেন, “বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের hsia.gov.bd নামে একটি ওয়েবসাইট থাকলেও প্রায় দুমাস ধরে সেটি অকার্যকর। এছাড়া চট্টগ্রামের শাহ আমানত ও সিলেটে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কোনো ওয়েবসাইট নেই।

এর বাইরে রাজশাহী, যশোর, সৈয়দপুর, কক্সবাজার ও বরিশালে অভ্যন্তরীণ পাঁচটি বিমানবন্দরেরও কোনো ওয়েবসাইট নেই।

দেশের পর্যটন ব্যবসায়ীদের সংগঠন ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টোয়াব) পরিচালক তাসলিম আমিন (শোভন) জানান, ‘ফরেন ভিজিটররা’ আবহাওয়া থেকে শুরু করে নিরাপত্তা, হোটেল ও এয়ারপোর্টসহ সব সুযোগ-সুবিধা দেখে ভ্রমণ করেন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “প্রত্যেকটি বিমানবন্দরে তথ্য থাকে এমন ওয়েবসাইট থাকা অবশ্যই দরকার। … এয়ারলাইন্সের সবার সাথে কথা বলে তাদের ইনপুটগুলো এক জায়গায় নিয়ে আসা গেলে তার সুফল সবাই পাবে।”

বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিমানবন্দরে সুবিধা জানা থাকলে বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলো জ্বালানি ভরার পাশাপাশি কারিগরি সুবিধাও নিতে পারে। তাতে দেশের লাভবান হওয়ার সুযোগ থাকে।

এর বাইরে বিমানবন্দরের ইলেকট্রনিক নোটিস বোর্ডে থাকা বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটের হালনাগাদ তথ্য ও বিমানবন্দরের যোগাযোগের তথ্যও ওয়েবসাইটে থাকা দরকার।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সাবেক পরিচালক নাফিস ইমতিয়াজউদ্দিন বলেন, পৃথিবীর অধিকাংশ দেশের বিমান বন্দরের ওয়েবসাইট রয়েছে। বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ডিজিটালাইজেশন কর্মসূচির (এটুআই প্রকল্প) আওতায় সরকারি সব কার্যালয়ের ওয়েবসাইট তৈরি করে অনলাইনে যাওয়ার কথা।

“এটা সব মন্ত্রণালয়ের অধীনে, সবাইকেই কভার করে। আমি একশ ভাগ নিশ্চিত, এটা সিভিল অ্যাভিয়েশনকেও কভার করে।”

বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, শাহজালাল বিমানবন্দরে গত অর্থবছরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ১৬ হাজার ৪৭৩টি এবং ২৬টি বিদেশি এয়ারলাইন্সের ৪৮ হাজার ৫০২টি ফ্লাইট উড্ডয়ন ও অবতরণ করেছে।

এই বিমানবন্দরের পরিচালক কাজী ইকবাল কবির বলেন, শাহজালাল বিমানবন্দরের ‘অফিসিয়াল’ ওয়েবসাইট নেই। একটি ‘প্রচলিত ওয়েবসাইট’ থাকলেও সেটা এখন কাজ করছে না।

“আশা করছি, ২/৩ দিনের মধ্যে তা ঠিক হয়ে যাবে।”

বেবিচকের চেয়ারম্যান মো. নাঈম হাসান বললেন, “বিমানবন্দরগুলোর ওয়েবসাইট করার পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে, সেগুলো করা হবে।”

বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন ও বিকাশের কার্যক্রম দ্রুত ও গতিশীল করতে ২০১৬ সালকে ‘পর্যটন বর্ষ’ উদযাপন করেছে সরকার।

পাশাপাশি ২০১৫-২০১৮ সময়ে প্রায় ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই খাতের উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচির বাস্তবায়ন চলছে।