ছোট বোনের পর আত্মহনন নাজমার, প্রেমিক একজনই

আজগর হোসেন ছাব্বির,দাকোপ>
দাকোপে কলেজ ছাত্র দেবাশীষের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ৩ বছরের ব্যবধানে দুই বোন নাজমা ও তহমিনা আত্মহত্যা করলো।
সোমবার দিবাগত রাতে নিজের বাড়ির উঠোনেই গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে নাজমা। বছর তিনের আগে একইভাবে আত্মহনন করে ছোট বোন তহমিনা।
কামারখোলা ইউনিয়নের জয়নাগর গ্রামের লক্ষিপদ বাছাড়ের পুত্র দেবাশিষ বাছাড় বছর তিনেক আগে নাজমার ছোট বোন তহমিনার প্রাইভেট পড়াতো। সে সময় তাদের মধ্যে প্রেমজ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি বুঝতে পেরে নাজমার মা নুরজাহান বিবি মেয়েকে জ্ঞিাসাবাদ করলে সে অস্বীকার করে। সে সময় পরিবারের সদস্যরা তহমিনাকে সন্দেহ করে বকাঝকা করে। অভিমানে তহমিনা গালায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। ছোট বোনের আত্মহত্যার পরও চালনা এম এম কলেজের ছাত্রী নাজমা খাতুন খুলনা বিএল কলেজের ছাত্র দেবাশীষের সাথে সম্পর্ক অব্যহত রাখে। এলাকায় তাদের সম্পর্কের বিষয়টি ছিল ওপেন সিক্রেট। দুর্ঘটনায় পঙ্গু বাবা ও অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে সংসার পরিচালনাকারী মা নাজমাকে বোঝাতে ব্যর্থ হয়ে দেবাশীষের কাছে অনুনয় জানায়। এতকিছুর পরেও গত ৩০ ডিসেম্বর রাতে দেবাশিষ-নাজমা প্রতিবেশী সন্ন্যাসী মন্ডলের বাড়িতে মিলিত হয়। এ সময় এলাকাবাসী তাদের দেখে বিষয়টি নিয়ে ধিক্কার জানিয়ে ছেড়ে দেয়। ঘটনার পর দেবাশিষ নাজমার সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে গা ঢাকা দেয়। এ অপমান সইতে না পেরে নতুন বছরের ১ম দিন নাজমা তার মা নুরজাহান বিবির কাছে তাদের দীর্ঘদিনের সর্ম্পকের কথা প্রকাশ করে বলে ‘মা আমার যা কিছু দেয়ার ছিল সবই দেবাশিষকে দিয়েছি, সুতরাং এখন আমি আর অন্য ছেলেকে বিয়ে করতে পারবোনা।’ ওই রাতেই নিজ বাড়ির আঙিনায় গাছের সাথে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করে। আত্মহত্যার পর নাজমার জামার ভেতর থেকে তাদের দু’জনের যুগল ছবি উদ্ধার হয়।
নাজমার পিতা লহর আলী শেখ বাদী হয়ে দাকোপ থানায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছেন বলে অফিসার ইনচার্জ শাহাবুদ্দিন চৌধুরী জানিয়েছেন।

প্রেম ঘটিত কারণে ২০১৭ সালের শেষ দিকে কলেজ ছাত্রী জয়ী মন্ডল এবং বন্যা রায়ের আত্মহত্যার পর দাকোপ জুড়ে যে নিন্দার ঝড় উঠেছিল তা থামতে না থামতেই কলেজছাত্রী আত্মহত্যার এলাকাবাসী দেবাশীষের শাস্তির দাবি করেছে। শাস্তি চেয়েছে নামজমার মা। তিনি জানিয়েছেন, ‘ওর বাপ পঙ্গু আমি অন্যের বাড়ি ঝিয়ের কাজ করে সব ভাই বোনদের কলেজে পাঠিয়েছি। আমি জানতে পেরে দেবাশিষকে আমার বাড়িতে দাওয়াত করে বুঝিয়েছি বাবা আমরা গরীব মানুষ, আমরা মুসলমান তুমি হিন্দু আমার মেয়ের কাছ থেকে তুমি সরে যাও, কিন্তু সে আমার কথা না শুনে এমন সর্বনাশ করলো, আমি ওর ফাঁসি চাই।’