ঝিকরগাছায় টাকা ছিনতাই> আসামি এএসআই শাহআলমকে আটকের জন্য পুলিশ হেডকোয়ার্টারে অনুমতির আবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক>বেনাপোলের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের ১২ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগে দায়ের করা মামলার অন্যতম আসামি কোতয়ালি থানার সহকারি উপপরিদর্শক (এএসআই) শাহ আলমকে আটকের জন্য পুলিশ হেডকোয়ার্টারে আবেদন করা হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ঝিকরগাছা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এনামুল হক জেলা পুলিশ সুপারের মাধ্যম দিয়ে পুলিশ হেড কোয়ার্টারে আবেদন করেছেন বলে তিনি জানিয়েছেন।
এদিকে পুলিশ কর্মকর্তাসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটির নথিপত্র হাতে পায়নি ডিবি পুলিশ। মামলাটি যশোর ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক আবুল খায়ের মোল্লার তদন্ত করার কথা।
অন্যদিকে ছিনতাই মামলার আসামি হওয়া সত্ত্বেও কোতয়ালি থানার সহকারি উপপরিদর্শক (এএসআই) শাহ আলম আটক হয়নি। তিনি ক্লোজ হয়ে পুলিশ লাইনে আছেন বলে জানাগেছে। এ প্রসঙ্গে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই জহুরুল হক বলেন, কোন পুলিশ কর্মকর্তাকে আটক করতে চাইলে নিয়মানুযায়ী পুলিশ হেড কোয়ার্টারের অনুমতি লাগে। সে জন্য আবেদন করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, মামলাটি ডিবি পুলিশে হস্তান্তর করা হবে এমন নির্দেশ বুধবার বিকেলে পেয়েছি। দুই একদিনের মধ্যে ডিবিতে পাঠানো হবে। নতুন তদন্তকারী কর্মকর্তার আসামি আটকের জন্য নতুন করে আবেদন করা লাগবে না।
ডিবি পুলিশের এসআই আবুল খায়ের মোল্লা জানিয়েছেন, বুধবার রাত পর্যন্ত তিনি মামলার কোন নথিপত্র হাতে পাননি। সে কারণে মামলার আসামিদের তিনি আগেই আটক করতে পারেন না। মামলা হাতে পাওয়ার পর দেখবো আসামি কারা। এরপর বিবেচনা করা হবে আসামি এএসআই শাহ আলম আটক হবে কি-না। অন্য পলাতক আসামির ক্ষেত্রে একই অবস্থা। মামলা হাতে না পেয়ে কিছু বলা যাবে না।
চারজনের মধ্যে কোতয়ালি থানার কনস্টেবল জহুরুল হক এবং চাঁচড়া ডালমিল এলাকার মহাসিন সরকারের ছেলে জীবন সরকার আটক হয়ে কারাগারে আছেন। বাকি আসামি চাঁচড়া মোড় এলাকার হারুন কাজীর ছেলে সুমন পলাতক রয়েছে।
বেনাপোলের রুশা এন্টারপ্রাইজের মালিক সোমবার দুপুরে তার লেগুনা চালক আব্দুর রশীদের কাছে ১২ লাখ টাকা দিয়ে যশোর অফিসের ম্যানেজার ইশতিয়াক আলমের কাছে পৌছে দিতে বলেন। তিনি একটি প্লাস্টিকের ব্যাগে করে টাকা নিয়ে ম্যানেজার নান্নুকে সাথে নিয়ে যশোরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথিমধ্যে গদখালি বাজারে নান্নু নেমে যাওয়ার পর চালক রশীদ একাই গাড়ি চালিয়ে যশোর অভিমুখে রওনা দেন। পথিমধ্যে যশোর-বেনাপোল সড়কের ঝিকরগাছার রজনীগন্ধা কোল্ডস্টোরেজের উত্তর পাশে পৌছালে একটি মোটরসাইকেলে তিনজন লোক এসে লেগুনার গতিরোধ করে। এসময় রাস্তার অপরপাশে দাড়ানো অপরএকজন গাড়ির কাছে আসে। গাড়ি থামার সাথে সাথে তারা গাড়ির মধ্যে ঢুকে টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। বাঁধা দিলে তারা চালক আব্দুর রশীদকে পিস্তল ও ছোরার ভয় দেখায় এবং কিলঘুষি মেরে টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। ঘটনার সময় ছিনিয়ে নেয়া ব্যাগ থেকে দু’জন দু’টি টাকার বান্ডিল বের করে নিজেদের পকেটে রাখে। একপর্যায়ে চিৎকার দিলে আশেপাশের লোকজন এসে ছিনতাইকারী জীবন সরকার ও কাজী জহুরুলকে ধরে ফেলে। বাকি দু’জন টাকার ব্যাগ নিয়ে বেনাপোলের দিকে যাওয়া একটি বাসে উঠে পালিয়ে যায়। আটক দু’জনের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ছিনতাই হওয়া ১লাখ ৫০ হাজার টাকা। পরে পুলিশ সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে জীবন সরকার ও জহুরুল হককে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় বেনাপোলের ছোটআঁচড়া গ্রামের আনছার আলীর ছেলে লেগুনাচালক আব্দুর রশিদ বাদি হয়ে ঝিকরগাছা থানায় চারজনকে আসামি করে ছিনতাইয়ের অভিযোগে একটি মামলা করেন।
এ মামলাটি প্রথমে ঝিকরগাছা থানার এসআই এনামুল হক তদন্তের দায়িত্ব পান। মঙ্গলবার তিনি আটক দু’জনকে আদালতে সোপর্দ করেছেন। সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আসামিদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।