যশোর মাদকদ্রব্যের উপপরিচালক ঘুষের টাকাসহ আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক>
ঘুষের টাকাসহ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর যশোরের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক নাজমুল কবিরকে আটক করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এসময় তার অফিসের ড্রয়ার থেকে ঘুষের দুই লাখ টাকা উদ্ধার হয়েছে। নাজমুল কবির ফেনী সদর উপজেলার বারইপুর গ্রামের রুহুল আমিনের ছেলে।
বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে যশোরে কালেক্টরেট চত্বরের অফিস থেকে তাকে আটক করা হয়। অভিযানের নেতৃত্ব দেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ঢাকা বিভাগীয় সমন্বিত কার্যালয়ের পরিচালক নাসিম আনোয়ার। এ সময় যশোরের একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ছাড়াও দুুদুকের ৯ সদস্যের কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। তবে দুদুক কর্মকর্তারা অভিযুক্ত নাজমুল কবিরের সাথে সাংবাদিকদের কথা বলতে দেননি।
নাসিম আনোয়ার জানান, যশোর শহরের ২৭ লোন অফিসপাড়া এলাকার বাসিন্দা শেখ মহব্বত আলী টুটুল নামে এক ব্যবসায়ী সংশ্লিষ্ট বিভাগের অনুমোদন নিয়ে শার্শার নাভারণসহ বেশ কয়েকটি স্থানে বাংলা মদের ব্যবসা করেন। তিনি গত বছরের ১৯ জুলাই শার্শার নাভারণ এলাকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স (লাইসেন্স নম্বর ৫) নবায়নের জন্য আবেদন করেন। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর যশোরের উপপরিচালক নাজমুল কবির ওই ব্যবসায়ীর লাইসেন্স প্রায় তিন মাস আগে নিজের হেফাজতে নেন। তিনি লাইসেন্স নবায়ন বাবদ তিন লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন টুটুলের কাছে। ঘুষের টাকা না দেয়ায় লাইসেন্স নবায়ন করতে সময় ক্ষেপন করছিলেন তিনি।
পরে মহব্বত আলী টুটুল দুদুকের ১০৬ নম্বর হট লাইনে আবেদন করেন। তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দুদুক কমিশনের নির্দেশে ৯ সদস্যের একটি টিম গঠন করে। পরে ঢাকা এবং যশোরের সদস্যরা গত মঙ্গলবার মাগুরা সার্কিট হাউজে বসে মিটিং করেন। সেখানে মহব্বত আলীর দুই লাখ টাকার ছায়াকপি সংগ্রহ করা হয়। দুদুকের সিদ্ধান্ত মোতাবেক বুধবার দুপুর তিনটার দিকে টুটুল ঘুষের দুই লাখ টাকা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর যশোর অফিসে এসে উপপরিচালক নাজমুল কবিরের কাছে হস্তান্তর করেন। নাজমুল কবির ওই টাকা রাখেন নিজ ড্রয়ারে।
এর কিছু সময়ের মধ্যে বিকেল তিনটা ২০ মিনিটের দিকে ঢাকা বিভাগীয় পরিচালক নাসিম আনোয়ারের নেতৃত্বে দুর্নীতি দমন কমিশনের একদল কর্মী হানা দেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর যশোর অফিসে। যশোর কালেক্টরেট চত্বরে অবস্থিত ওই অফিসে দুদকের অভিযান চলাকালে এনডিসি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান এবং পুলিশ সদস্যরাও সেখানে হাজির হন।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান বলেন, আমার উপস্থিতিতে দুদক কর্মকর্তারা ওই অফিসে অভিযান চালান। উপপরিচালকের ড্রয়ার থেকে তখন ঘুষের দুই লাখ টাকা উদ্ধার হয়। আটক করা হয় উপপরিচালক নাজমুলকে।
দুদকের ঢাকা বিভাগীয় পরিচালক নাসিম আনোয়ার যশোরের দুদুক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক ব্রিফিং এ বলেন, অফিসে ঢুকে প্রথমেই উপপরিচালকের ড্রয়ারের চাবি নেওয়া হয়। ড্রয়ার খুলে এক হাজার টাকার দুইটি বান্ডিল জব্দ করা হয়েছে। দুদুকের যশোর কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম বাদি হয়ে একটি মামলা করবেন বলে তিনি জানান।
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য চেষ্টা করা অভিযুক্ত নাজমুল কবিরের সাথে। কিন্তু দুদুকের ঢাকার সমন্বিত বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক নাসিম আনোয়ার তার সাথে কথা বলার কোন অনুমতি দেননি। তবে নাম প্রকাশে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কয়েক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এটি ষড়যন্ত্র। নাজমুল কবিরকে ফাঁসানো হয়েছে। সঠিক তদন্ত করলে বিষয়টি পরিস্কার হবে।