যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল> তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ বেনুর স্বাক্ষরে বেতন ভাতা দিতে নারাজ জেলা হিসাব রক্ষক কর্মকর্তা

বিল্লাল হোসেন>
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ একেএম কামরুল ইসলাম বেনুর স্বাক্ষরে চিকিৎসক ও কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন রাজি নন জেলা হিসাব রক্ষক অফিসার জাকির হোসেন। তিনি জানিয়েছেন, ৮ মাস আগে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ডাঃ একেএম কামরুল ইসলাম বেনুর তত্ত্বাবধায়কের সংযুক্তি আদেশ বাতিল করেছন। তাই তিনি এখন এ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক নন। ফলে তার স্বাক্ষরে বেতন ভাতা দিতে অপারগতা প্রকাশ করে ফাইল ফেরত পাঠানো হয়েছে। তাই হাসপাতালের চিকিৎসক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ডিসেম্বর মাসের বেতন এবং শ্রীরান্তি বিনোদন ভাতাও পাননি।
এর আগে সংযুক্তি বাতিলের তথ্য গোপন করে তার স্বাক্ষরে ৮মাসের বেতন ভাতা উত্তোলন করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন জেলা হিসাব রক্ষক কর্মকর্তা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের হিসাব রক্ষক রুহুল আলম কয়েকদিন আগে চিকিৎসক কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের শীরান্তি বিনোদন ভাতার জন্য তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ একেএম কামরুল ইসলাম বেনুর স্বাক্ষরিত একটি ফাইল পাঠান জেলা হিসাব রক্ষন কার্যালয়ে। কিন্তু তার স্বাক্ষরে বেতন ভাতার টাকা দিতে নারাজ হন জেলা হিসাব রক্ষক কর্মকর্তা জাকির হোসেন। তিনি আপত্তি প্রকাশ করে বেতন ভাতার ফাইলটি ফেরত দেন। ওই সময় বলা হয় তত্ত্বাবধায়কের সংযুক্তি বাতিল হওয়ায় ডাঃ একেএম কামরুল ইসলাম বেনুর স্বাক্ষরে আর কোন বেতন ভাতার টাকা দেয়া হবেনা। ফলে ডিসেম্বর মাসের বেতন ফাইলও এখনো জমা দেয়া হয়নি। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে সূত্রে জানা গেছে। বেতন ভাতা বন্ধের ব্যাপারে হাসপাতােেল কয়েকজন চিকিৎসক কর্মকর্তা ও কর্মচারীর কাছে জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এখনো বেতন ভাতা পাননি। তাছাড়া আর কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি তারা। হাসপাতালের হিসাব রক্ষক রুহল আলমও বিষয়টি নিয়ে কিছু বলতে রাজি হননি। বিষয়টি নিয়ে কথা হয় যশোর জেলা হিসাব রক্ষক অফিসার জাকির হোসেনের সাথে। তিনি দৈনিক স্পন্দনকে জানিয়েছেন, গত বছরের এপ্রিল মাসে ডাঃ একেএম কামরুল ইসলাম বেনুর যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক পদের সংযুক্তি আদেশ বাতিল করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। তাকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক (ওএসডি) হিসেবে পদায়নের জন্য বলা হয়। ফলে নিয়মানুযায়ী এখন ডাঃ একেএম কামরুল ইসলাম বেনু এ হাসপাতালের কর্মকর্তা নন। তাই তার স্বাক্ষরে কারো কোন বেতন ভাতা প্রদান করা হবেনা। তিনি আরো বলেন, তার তত্ত্বাবধায়কের সংযুক্তি পদ বাতিলের একটি কপি জেলা হিসাব রক্ষক কার্যালয়ে দেয়ার আদেশ থাকলেও মানা হয়নি। এক প্রকার তথ্যটি গোপন করে তার স্বাক্ষরে বিগত ৮ মাসের বেতন ভাতা নেয়া হয়েছে। এক প্রশ্নের উত্তরে জাকির হোসেন বলেন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রনালয় অন্য কোন কর্মকর্তাকে ডিডিও শিপ দিলে তাদের বেতন ভাতা প্রদান করা হবে। তার আগে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন ভাতা নয়।
ডাঃ শ্যামল কৃষ্ণ অবসরে যাওয়ার পর গত ৮ মার্চ ডাঃ একেএম কামরুল ইসলাম বেনু যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে তত্ত্বাবধায়ক পদে যোগদান করেন। ১৩ এপ্রিল তার তত্ত্বাবধায়কের সংযুক্তি আদেশ বাতিল করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। যার স্মারক নম্বর ৪৫.১৪৩.০১৯.০৩.০০.০০১.২০১৬-২৩১। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ পার-২ অধিশাখার যুগ্মসচিব একেএম ফজলুল হক স্বাক্ষরিত আদেশপত্রে ডা. একেএম কামরুল ইসলাম বেনুকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক (ওএসডি) হিসেবে পদায়নের জন্য বলা হয়। কিন্তু এ আদেশ জারির পর হাসপাতালের চিকিৎসক সেবিকা কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। তারা জোটবদ্ধ হয়ে ডা. একেএম কামরুল ইসলাম বেনুকে যশোর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের পদে পুনঃর্বহালের দাবি জানিয়ে বিভিন্ন আন্দোন সংগ্রাম অব্যাহত রাখেন। ওই সময় তারা দাবি করেন তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্ব গ্রহনের পর থেকে ডাঃ একেএম কামরুল ইসলাম বেনু বিভিন্ন কর্মকান্ডে প্রশংসিত হন। কিন্তু একটি কুচক্রি মহলের চক্রান্তের শিকার হয়েছেন তিনি। যে কারণে তাকে তত্ত্বাবধায়কের পদে বহাল রাখার জোর দাবি করা হয়।