আজ ৫ জানুয়ারি : গণতন্ত্রের বিজয় দিবস

মিজানুর রহমান মুন>আজ ৫ জানুয়ারি। পঁচাত্তর পরবর্তী সময়ে বালাদেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। ২০১৪ সালের এদিনে অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামী লীগ বিজয়ী হয়ে তৃতীয়বারের মত সরকার গঠন করে।
মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি মনে করে, একাত্তরে যে চেতনা এবং রাজনৈতিক শপথে বাংলাদেশ নামে একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটেছিল সেই চেতনা এবং মুক্তিযুদ্ধের সমগ্র অর্জন বিলীন করার আকাশ সমান ষড়যন্ত্র থেকেও জাতি রক্ষা পায় এদিন। জাতির কাছে এ দিন তাই গণতন্ত্রের বিজয় দিবস।
এর আগে ২০১১ সালের ৩০ জুন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে জাতীয় সংসদে সংবিধানে পঞ্চদশ সংশোধনী বিল পাশ হয়। তৎকালীন প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ও তার শরিক জোটগুলো এরপর থেকেই নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনরায় চালুর দাবিতে আন্দোলন শুরু করে।
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি-জামায়াত জোট দেশব্যাপী অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিশেষ করে নাশকতা, ধ্বংসযজ্ঞ, নৃশংসভাবে মানুষ হত্যা, লাগাতার অবরোধ-হরতালের নামে ব্যাপক সহিংসতা চালিয়ে পুরো দেশকেই চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দেয়। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আগুনে পুড়িয়ে মানুষ হত্যাসহ বাসে-ট্রেনে আগুন, ট্রেনের ফিসপ্লেট খুলে এক অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।
স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিকে সাথে নিয়ে ভোটের আগের দিন বিএনপির সন্ত্রাসীরা আগুনে পুড়িয়ে দেয় ১১১টি ভোটকেন্দ্র। নির্বাচনী কর্মকর্তা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে নির্বাচনী সরঞ্জাম ছিনতাই হয়, কুপিয়ে হত্যা করা হয় নির্বাচনী কর্মকর্তাকে। ভোটের দিনও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন অনেক নির্বাচনী কর্মকর্তা। নিহত হয়েছেন অনেকে।
একের পর এক হামলা, গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ, হুমকি-ধামকির পরও জনগণ ২০১৪ সালের এই দিনে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রদান করার জন্য ভোট কেন্দ্রে যান। আতঙ্ক, ভয়-ভীতি উপেক্ষা করে শতকরা ৪২ জন ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
দশম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২৩৪ টি আসনে বিজয়ী হয়। জাতীয় পার্টি ৩৪টি এবং আওয়ামী লীগের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টি ৬ এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ পাঁচটি আসনে বিজয়ী হয়ে ২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি সরকার গঠন করে।
আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের বিজয় হয়েছে। ওইদিন নির্বাচন না হলে মার্শাল ল হতো বাংলাদেশে। দেশের অর্থনীতি হুমকীর মুখে পড়তো। এই দিন নির্বাচন না হলে দেশে গণতন্ত্র থাকতো না।
বাংলাদেশের অবস্থা থাইল্যান্ডের মত হত। আমরা কোথাও কোনো সভা সমাবেশ করতে পারতাম না। ওই দিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকল বাধাকে অতিক্রম করে বাংলাদেশর গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিয়েছেন। তাই আমরা এই দিবসকে গণতন্ত্রের বিজয় দিবস হিসাবে পালন করবো।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করেছে। অসাংবিধানিকভাবে ক্ষমতা দখলের সুযোগ বন্ধ করা হয়েছে। নির্বাচিত ব্যক্তিরাই দেশ পরিচালনা করবে এ পদ্ধতি নিশ্চিত হয়েছে।
তাদের মতে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন, সংবিধান ও গণতান্ত্রিক ধারা রক্ষা এবং জাতিকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত করার ক্ষেত্রে ৫ জানুয়ারির নির্বাচন স্বমহিমায় উদ্ভাসিত।
তারা বলেন, একাত্তরের ঘাতক যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা, পদ্মা বহুমুখী সেতু, মেট্রোরেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র, কর্ণফুলি ট্যানেল, পায়রা সমুদ্র বন্দর, সোনাদিয়া গভীর সমুদ্র বন্দর, চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু থেকে গুমদুম পর্যন্ত রেলপথ প্রকল্প, ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ সরকারের গৃহীত মেগাপ্রকল্পসমূহ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের সংগ্রামে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন অগ্রগতির এক অনন্য মাইল ফলক।
আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন আজ এই দিনটিকে গণতন্ত্রের বিজয় দিবস হিসাবে পালন করবে। এ উপলক্ষে গ্রহণ করা হয়েছে বিস্তারিত কর্মসূচি। এ উপলক্ষে সংগঠনের জেলা, মহানগর, উপজেলা ও থানা পর্যায়ে বিজয় শোভাযাত্রা ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ শুক্রবার বিকাল ৩টায় রাজধানীর গুলশানে আওয়ামী লীগ ঢাকা মহানগর উত্তর এবং ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউ প্রাঙ্গণে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বিজয় শোভাযাত্রা ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে ‘‘গণতন্ত্রের বিজয় দিবস” উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ ঘোষিত কর্মসূচি যথাযথভাবে পালনের জন্য দেশের সকল জেলা, মহানগর, উপজেলা ও থানা আওয়ামী লীগসহ সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।