আরো টাকা উদ্ধার> যশোর মাদকদ্রব্যের আটক উপপরিচালক কারাগারে

নিজস্ব প্রতিবেদক>
দুদক কর্মকর্তাদের হাতে ঘুষের টাকাসহ আটক যশোর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক নাজমুল কবিরকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশ তাকে আদালতে হাজির করলে অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ আকরাম হোসেন তাকে কারাগারে প্রেরনের নির্দেশ দেন।
এরআগে বুধবার সন্ধ্যার দিকে দুদক কর্মকর্তারা তার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অপরাধে মামলা দিয়ে কোতয়ালি থানা পুলিশে সোপর্দ করে।
এদিকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের আটক ওই কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ঘটনার দিন আরো ৮০ হাজার ২শ’ টাকা উদ্ধার করে দুদক কর্মকর্তারা। এরমধ্যে ৩০ হাজার দুইশ টাকা ড্রয়ার এবং বাকি ৫০ হাজার টাকা স্টিলের আলমারি তল্লাশি করে জব্দ করা হয়। যা অবৈধভাবে উপার্জন বলে ধারণা করছেন দুদক কর্মকর্তারা।
মামলার বাদি দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এর সহকারি পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন, গত বুধবার দুদকের ঢাকা এবং যশোর কার্যালয়ের কর্মকর্তারা যশোর শহরের বাংলা মদ বিক্রেতা মহব্বত হোসেন টুটুলের কাছ থেকে দুই লাখ টাকা ঘুষ নেয়ার অভিযোগে তাকে হাতেনাতে আটক করেন। মহব্বত আলীর নাভারণ এলাকার বাংলা মদের দোকানের লাইসেন্স নবায়নের জন্য গত বছরের ২৯ জুলাই নাজমুল কবিরের কাছে আবেদন করেন। কিন্তু নাজমুল কবির তার কাছে তিন লাখ টাকা দাবি করেন। পরে মহব্বতের সাথে দুই লাখ টাকা চুক্তি হয়। এরই মধ্যে মহব্বত হোসেন দুদুকের হট লাইন ১০৬ নম্বরে আবেদন করেন।
আবেদনের প্রেক্ষিতে দুদুকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এর উপপরিচালক মোহাম্মদ ইব্রাহিমকে প্রধান করে একটি ফাঁদদল গঠন করা হয়। এরপর ৩১ ডিসেম্বর দুদকের অনুমতি চাওয়া হয়। এবং অনুমতি পাওয়ার পর পরিকল্পনা মাফিক সভাকরে ৩ জানুয়ারি নাজমুল কবিরকে হাতে নাতে ঘুষের টাকাসহ আটক করা হয়।
তিনি আরো বলেছেন, ঘুষ নেয়ার দুই লাখ টাকার বাইরেও নাজমুল কবিরের অফিসের ড্রয়ার এবং স্টিলের আলমারি থেকে আরো ৮০ হাজার ২শ’ টাকা উদ্ধার করা হয়। ওই টাকা অবৈধভাবে উপার্জন বলে মনে করেন তিনি। মামলাটি তদন্ত করবে দুদক। ঢাকা অফিস নির্ধারণ করবে তদন্তকারী কর্মকর্তা। কিন্তু নাজমুল কবির বলেছেন এই টাকা তার না। তিনি ঘুষ নেন নি। তাকে ফাঁসানো হয়েছে এমন বক্তব্যের বিষয়ে তিনি বলেছেন, আদালতে প্রমাণ হবে নাজমুল কবির অপরাধী কি-না।