তীব্র শীতে কাঁপছে চুয়াডাঙ্গা

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি : ঘন কুয়াশা আর হিমেল হাওয়ায় স্থবির হয়ে পড়েছে চুয়াডাঙ্গার জনজীবন। গত কয়েকদিন থেকেই ঘন কুয়াশা আর হিমেল হাওয়ার কারণে এ অঞ্চলে জেঁকে বসেছে শীত। রাতে বৃষ্টির মতো গুড়ি গুড়ি কুয়াশা, দিনে দেখা নেই সূর্যের। এ অবস্থায় খড়কুটো জ্বালিয়ে কোনো রকমে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন দরিদ্র মানুষগুলো।

আর এ কারণে তীব্র শীতে কাঁপছে চুয়াডাঙ্গা। বৃহস্পতিবার দেশের সর্বনিন্ম তাপমাত্রা ৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে চুয়াডাঙ্গায়। এ শীত মৌসুমে দেশের এটাই সর্বনিন্ম তাপমাত্রা বলে জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।
এদিকে গত এক সপ্তাহ ধরে বেলা বাড়লেও সূর্যের দেখা মেলেনি এ অঞ্চলে। ফলে তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশায় একেবারেই বিপর্যস্ত এ এলাকার সাধারণ মানুষ।

গত কয়েকদিন থেকেই শীত জেঁকে বসেছে চুয়াডাঙ্গায়। এ অঞ্চলের ওপর দিয়ে মৃদ শৈত্যপ্রবাহের কারণে তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। ঘন কুয়াশা আর হিমেল হাওয়া বয়ে যাওয়ায় তাপমাত্রার পারদ ক্রমাগত কমেই চলেছে। দিনে সূর্যের দেখা না দেয়া, প্রচণ্ড কুয়াশা আর হিমেল হাওয়ায় স্থবির হয়ে পড়েছে এ অঞ্চলের জনজীবন। এ অবস্থায় অতি প্রয়োজনীয় কাজ ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছে না মানুষ।

শীতে সব চেয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন দিন আনা দিন খাওয়া শ্রমিকরা। প্রচণ্ড শীতকে উপেক্ষা করেও কাজের সন্ধানে ঘর থেকে বের হয়েও কাজ পাচ্ছেন না তারা।

তীব্র শীতের হাত থেকে বাঁচতে এলাকার বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে ও চায়ের দোকানগুলোতে শীত নিবারণের চেষ্টায় আগুন জ্বালিয়ে উত্তাপ নিতে দেখা গেছে নিন্ম আয়ের মানুষগুলোকে।

ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতের কারণে চলতি রবি মৌসুমের বিভিন্ন ফসলেরও ক্ষতি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার হানুরবাড়াদি গ্রামের কৃষক খবির উদ্দীন মন্ডল জানান, ঘন কুয়াশার কারণে ফসলের ক্ষেতও হুমকির সম্মুখিন হচ্ছে। বোরো ধানের বীজতলা, আলু, টমেটোসহ বিভিন্ন ধরনের উঠতি ফসলের ক্ষতি হচ্ছে কুয়াশার কারণে।

এদিকে তীব্র শীতের কারণে বেড়েছে শীতজনিত নানা রোগের প্রকোপ।

চুয়াডাঙ্গা স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান সিভিল সার্জন ড. খায়রুল ইসলাম জানান, গত ৩ দিনে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রায় ৫ শতাধিক মানুষ চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। যাদের অধিকাংশ শিশু ও বৃদ্ধ।

চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক সামাদুল হক জানান, বৃহস্পতিবার দেশের সর্বনিন্ম তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে চুয়াডাঙ্গায়। যা শুধু দেশের নয় চলতি শীত মৌসুমের এই তাপমাত্রাই এখনো সর্বনিন্ম। সামনে তাপমাত্রার পারদ আরো নিচে নামতে পারে বলে জানিয়েছেন এ কর্মকর্তা।