যশোরে শীত নিবারণে ৫৩ হাজার কম্বল বিতরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক :জানুয়ারির শুরুতে শীত জেকে বসেছে যশোরে। চলতি মাসে আরো কয়েক দফায় শৈত্যপ্রবাহের আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ফলে শীতার্ত মানুষের কষ্ট বাড়বে। নিম্ন আয়ের মানুষের শীত নিবারণের জন্য যশোরে আট উপজেলায় বিনামূল্যের ৫৩ হাজার কম্বল বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। তবে সরকারি বরাদ্দের কম্বল পর্যাপ্ত নয়। তাই সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে এগিয়ে আসা প্রয়োজন।

জেলা ত্রাণ অফিস সূত্র জানায়, গত ৫ ও ৬ ডিসেম্বর দুই ধাপে জেলার ৮টি উপজেলায় ৫৩ হাজার ৫৭০ পিস কম্বল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। শীত শুরুর আগেই উপজেলায় কম্বল পৌঁছে গেছে। উপজেলা পর্যায়ে কম্বল বিতরণ চলছে। প্রথম ধাপে ৩২ হাজার ৮২৫ পিস ও দ্বিতীয় ধাপে ১৬ হাজার ২৪৫ পিস কম্বল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এরমধ্যে ঝিকরগাছায় ৫ হাজার ৮৫৬ পিস ও চৌগাছায় ৫ হাজার ৭৯৮পিস কম্বল। অভয়নগরে ৪ হাজার ৩২৭পিস, মণিরামপুরে ৮ হাজার ৫০০পিস, কেশবপুরে ৫ হাজার ৬৯৩ পিস, শার্শায় ৬ হাজার ২৪৫ পিস, বাঘারপাড়ায় ৪ হাজার ৮০১ পিস ও সদর উপজেলায় ৭ হাজার ৮৫০ পিস কম্বল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও বন্যা কবলিত বিবেচনায় মণিরামপুর, কেশবপুর ও অভয়নগর উপজেলায় ৪ হাজার ৫০০ পিস কম্বল অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে অধিকাংশ উপজেলায় কম্বল বিতরণ শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার চৌগাছায় গরীব ও দুস্থদের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। সকালে উপজেলা চত্বরে বৈশাখি মঞ্চে কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মুক্তিযোদ্ধা ও ভিক্ষুকদের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন যশোর-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. মনিরুল ইসলাম মনির। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার নারগিস পারভীন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান দেবাশীষ মিশ্র জয়, জেলা পরিষদ সদস্য দেওয়ান তৌহিদুর রহমান প্রমুখ। এর আগে ঝিকরগাছা উপজেলাও কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। শুধু চৌগাছা ও ঝিকরগাছা নয় বাকি উপজেলাগুলোতে কম্বল বিতরণ শুরু হয়েছে বলে জানাগেছে। তবে সরকারি বরাদ্দের কম্বল পর্যাপ্ত নয় বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। শীতের তীব্রতায় সরকারি কম্বলের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগ এগিয়ে আসা প্রয়োজন। সম্মিলিত প্রয়াসে শীতার্ত মানুষের কষ্ট লাঘব সম্ভব হবে।

জানতে চাইলে জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম জানান, এবার শীত শুরুর আগেই বিতরণের জন্য সরকারিভাবে কম্বল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। জেলায় কোন কম্বল রাখা হয়নি। সরাসরি উপজেলা পর্যায়ে কম্বল পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। অধিকাংশ উপজেলা কম্বল বিতরণ শুরু হয়েছে। বাকী উপজেলাগুলোও দ্রুত বিতরণ সম্পন্ন করবে বলে আশাবাদী।