কাটা হবে যশোর-বেনাপোল সড়কের ২৩ শ’ ১২ বৃক্ষ

নিজস্ব প্রতিবেদক:যশোর-বেনাপোল মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করতে দুইপাশের ২৩শ’১২টি গাছ কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত হয়েছে । ইতিমধ্যে সড়ক নির্মাণ কাজের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।
গত ৩১ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যশোরের জনসভা থেকে যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের চার লেনে উন্নীতকরণের কাজ উদ্বোধন করেন। ৩২৮ কোটি ৯২ লাখ ৫৫ হাজার টাকা ব্যয়ে সড়কের কাজ দ্রুত শুরু হবে। কিন্তু গাছ থাকলে চার লেন আদৌ সম্ভব না। একারনে দ্রুত গাছ অপসারণ করতে তৎপর শুরু হয়েছে।
এর অংশ হিসেবে গতকাল শনিবার যশোর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ‘যশোর-বেনাপোল মহাসড়ক যথাযথ মানের ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্পের আওতায় রাস্তার দুই পাশের গাছ অপসারণের বিষয়ে’ মতবিনিময় সভায় গাছ কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত হয়।
মতবিনিময় সভায় গাছ কাটার বিষয়ে জেলা পরিষদ এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগ ঐক্যমতে প্ৌঁছেছে। তবে সড়কটি পর্যায়ক্রমে ৬ লেনে প্রশস্থ করণ ছাড়াও উভয় প্রান্তে নতুন করে বনায়ণ করার বিষয়েও আলোচনা হয়।
জেলা প্রশাসক আশরাফ উদ্দিনের সভাপতিত্বে গুরুত্বপূর্ণ এই মতবিনিময় সভায় যশোর- ১ (শার্শা) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ শেখ আফিল উদ্দিন, যশোর ২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড.মনিরুল ইসলাম মনির, যশোর ৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ, সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন, আব্দুল মালেক, স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয় খুলনার পরিচালক হোসেন আলী খন্দকার, যশোর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামান পিকুল, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলনসহ সড়ক বিভাগ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শ্রেনী পেশার প্রতিনিধি এসময় উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন।
সভায় সংসদ সদস্য আলহাজ শেখ আফিষ উদ্দিন বলেন, সময়ের চাহিদা মেটাতে যশোর-বেনাপোল সড়কটি প্রশস্ত করা জরুরি। তিনি বলেন গাছগুলো না কেটে সড়কের কাজে হাত দেয়া যাবে না। জনপ্রতিধিদেরকেও সড়ক নির্মাণ কাজে ভূমিকা রাখার জন্যে সুযোগ রাখতে হবে তারা যেন দরপত্র অনুয়ায়ী কাজ বুঝে নিতে পারেন।
সংসদ সদস্য অ্যাড. মনিরুল ইসলাম বলেন, সড়কটি সংস্কারে দুই ধারের গাছ কর্তন করতে হবে।
সদর আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ বলেন, মহাসড়কগুলোর দুরবস্থা রয়েছে। বিশে^র অনেক দেশেই রাস্তার ধারে কোন বৃক্ষ নেই উদহারণ টেনে বলেন, ঐতিহ্যের কথা বলে সময়ের প্রয়োজনে গাছ কাটা যাবেনা এমনটি নয়। যশোর বেনাপোল সড়ক প্রশস্ত করতে হলে সড়কের ধারের গাছ গুলো কেটে ফেলার কোন বিকল্প নেই।
জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামান পিকুলও একমত পোষণ করেন। সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সিএন্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান স্বজন, ঝিকরগাছা পৌরসভার মেয়র মোস্তফা আনোয়ার পাশা জামাল, জেলা বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি আলী আকবর, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব কবীর, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, সম্পাদক এসএম তৌহিদুর রহমান, সংবাদপত্র পরিষদের সভাপতি একরাম-উদ-দ্দৌলাহ্, সাংবাদিক ফখরে আলম,সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহিত কুমার নাথ, সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান মিন্টু প্রমুখ।
সভায় উল্লেখ করা হয়, গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি চার লেনে উন্নীতকরণের জন্যে ইতিমধ্যে দরপত্র আহবান করা হয়েছে। শিগগির এই কাজ শুরু হবে। কিন্তু বর্তমানে মহাসড়কটির দুই পাশে নতুন-পুরনো অনেক গাছ রয়েছে। সেগুলো রেখে মহাসড়ক চার লেন করা সম্ভব নয়। সে কারণে জনস্বার্থে গাছ কাটতে হবে। গাছ কাটার ব্যাপারে উপস্থিত সরকারি কর্মকর্তা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের কেউ দ্বিমত করেননি। সড়ক নির্মাণের পর দুই ধারে নতুন করে গাছ লাগানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে যে গাছ রাস্তার ক্ষতি করবে না, তেমন বৃক্ষরোপণ করা হবে।
বিদ্যমান গাছ নিয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং জেলা পরিষদের মধ্যে যে বিরোধ আছে, তা আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় নিষ্পত্তি করা হবে।
প্রসিদ্ধ যশোর রোডে (যশোর থেকে কলকাতা) নড়াইলের জমিদার কালি বাবুর তত্ত্বাবধানে লাগানো প্রাচীন গাছগুলোর মধ্যে অল্পকিছু এখনো জীবিত আছে। এগুলোর আয়ু শেষের পথে। এর আগে নানা সময়ে অসাধু ব্যক্তিরা বহু গাছ কেটে নিয়ে গেছে। আর বিভিন্ন সময়ে মহাসড়কটিতে নতুন করে কিছু গাছ লাগানো হয়। সড়ক উন্নয়নের জন্য সীমান্তের ওপারে যশোর রোডেও প্রাচীন গাছগুলো কেটে ফেলা হচ্ছে।