মাঠপ্রশাসনকে নির্বাচনী প্রস্তুতির ইঙ্গিত ইসির

স্পন্দন নিউজ ডেস্ক :একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সুষ্ঠু ও নির্ভুল ভোটার তালিকা করতে নির্বাচন ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একইসঙ্গে তাদেরকে এখন থেকেই নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার পরোক্ষ নির্দেশনা দেয়া হয়। রাজধানীর আগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবনে রোববার ভোটার তালিকা হালনাগাদ কাজে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে এসব নির্দেশনা দেয় সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি।

এছাড়া আগামী সংসদ নির্বাচনের জন্য ৬০০ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

ওই বৈঠকে ইসির আঞ্চলিক, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও)উপস্থিত ছিলেন। ভোটার তালিকা সংশোধনী কর্তৃপক্ষ হিসেবে এসব কর্মকর্তাদের নিয়োগ দিয়েছে কমিশন। বৈঠকে অংশ নেয়া কর্মকর্তাদের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আইন ও বিধি সম্বলিত ‘নির্বাচনী ম্যানুয়েল’ দেয়া হয়।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ। এতে নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম ও ব্রি. জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী এবং জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রি. জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলামসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, ভোটার হালনাগাদ নিয়ে বৈঠকের আয়োজন করা হলেও অংশগ্রহণকারীদের নির্বাচনী ম্যানুয়েল দেয়া এবং ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিবের বক্তব্যে এখন থেকে প্রস্তুতি নেয়ার বিষয়টি ফুটে উঠেছে। আগামী নির্বাচনে প্রশাসনের কর্মকর্তারা বড় ভূমিকায় থাকবে তা স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

বৈঠক শেষে ইসি সচিব সাংবাদিকদের বলেন, গত ২ জানুয়ারি সারাদেশে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এতে সংশোধনকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে যাদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে, তাদেরকে একদিনের একটি ব্রিফিং দিয়েছি। তাদেরকে বলেছি, খসড়া ভোটার তালিকাটি যাতে সঠিকভাবে চূড়ান্ত রুপ পায়। এই ভোটার তালিকার উপরেই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সুতরাং আমরা চাই সামনে যে ভোটার তালিকাটি হবে সেটি যাতে নির্ভুল হয়।

 

তিনি জানান, এই খসড়া ভোটার তালিকার উপরে আগামী ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত দাবি, আপত্তি ও সংশোধনের বিষয়ে আবেদন গ্রহণ করা হবে। এই আবেদনের পর সংশোধনকারী কর্তৃপক্ষ যারা আছেন তারা ২২ জানুয়ারির মধ্যে তা নিষ্পত্তি করবেন এবং ২৭ তারিখের মধ্যে একীভূত করবেন। আগামী ৩১ জানুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।

বৈঠকে অংশ নেয়া একাধিক কর্মকর্তা নাম গোপন রাখার শর্তে জানান, বৈঠকে মাঠপ্রসাশনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ করে ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব তার বক্তৃতায় বলেন- আমরা ইচ্ছে করলে সকল নির্বাচন কর্মকর্তাদেরকে রিভাইজিং অথরিটি করতে পারতাম। কিন্তু ইসির কর্মকর্তাদের পাশাপাশি প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের আমরা অন্তর্ভুক্ত করেছি যাতে মানুষ ভালোভাবে বিষয়টি গ্রহণ করতে পারে, এ সম্পর্কে তারা জানতে পারেন। এছাড়া প্রশাসনের কর্মকর্তারা যেহেতু নির্বাচনী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকেন, তাই তাদেরকে একাজে সম্পৃক্ত করেছি।

তিনি আরও বলেন, ‘সারা বছর আমরা নির্বাচন নিয়ে কাজ করে থাকি। আমাদের সামনে সবসময় চ্যালেঞ্জ থাকে। এই চ্যালেঞ্জের সঙ্গে সবসময় প্রশাসনের কর্মকর্তারা যেমন জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, ইউএনও, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমাদেরকে সবসময় সহযোগিতা করে থাকেন। আমাদের নির্বাচনটা সুষ্ঠু, সুন্দর, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে করার জন্য আপনাদের যথেষ্ঠ অবদান আছে।’

ইসি সচিব বলেন, ‘লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণকেন্দ্র ও লোক প্রশাসক একাডেমি যাতে নির্বাচনী আইনগুলো সিলেবাসের অন্তর্ভুক্ত করেন সেজন্য আমরা চিঠি দিয়েছি। বিশেষ করে প্রশাসন একাডেমিতে আমাদের নবীন কর্মকর্তারা প্রথম থেকেই যাতে আমাদের নির্বাচনী আইন-কানুন সম্পর্কে অবহিত হতে পারেন।’

সূত্র আরও জানায়, প্রশিক্ষণে নির্বাচন কমিশনের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও প্রশাসনের তিন শতাধিক কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। ভোটার তালিকা সংশোধন উপলক্ষ্যে ইসির কার্যপত্র ছাড়াও জাতীয় সংসদের নির্বাচনী ম্যানুয়াল উপস্থিত কর্মকর্তাদেরকে সরবরাহ করা হয়, যাতে আগে থেকেই এগুলো পড়ে ইসির নির্বাচনী আইনকানুনগুলো তারা জানতে পারেন।

জাতীয় নির্বাচনে বাজেট ৬০০ কোটি টাকা
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ইসির বাজেটের আকার বাড়ছে। গত নির্বাচনে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ ধরা হলেও আসন্ন সংসদ নির্বাচনে প্রস্তাবিত ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য সম্ভাব্য ব্যয়ের খাত ধরা হয়েছে ২৯টি।

তবে নির্বাচন পরিচালনা খাতের খতিয়ান বড় হলেও সবচেয়ে বেশি ব্যয় হয় আইনশৃঙ্খলায়। খাতওয়ারী অর্থ বরাদ্দের হার বিগত নির্বাচনের চেয়ে দ্বিগুণ বা অনেক ক্ষেত্রে তিনগুণ ও চার গুণ করা হয়েছে।

ইসির তথ্যমতে, অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যয়ের বাজেট ছিল ৭২ কোটি ৭১ লাখ টাকা। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ওই বাজেট ৯২ কোটি ২৯ লাখ টাকা বেড়ে গিয়ে দাঁড়ায় ১৬৫ কোটি ৫০ হাজার ৬৮৭ টাকা। সর্বশেষ দশম সংসদ নির্বাচনে ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫০০ কোটি টাকা।

তবে বিএনপিসহ নিবন্ধিত তিন-চতুর্থাংশ রাজনৈতিক দল ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচন বর্জন করে। ফলে ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে ভোট হয় ১৪৭ আসনে, বাকিগুলো অর্থাৎ ১৫৩ আসনের জন প্রতিনিধি নির্বাচিত হয় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। ব্যয় হয়েছিল ২৯২ কোটি টাকা।