বিএনপিতে প্রার্থী বাছাই ও জরিপের ছড়াছড়ি

স্পন্দন নিউজ ডেস্ক : দেশের অন্যতম রাজনৈতিক দল বিএনপিতে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রার্থী বাছাই এবং জরিপ পরিচালনার এক রকম হিড়িক পড়েছে। যে যেমন পারছেন এক এক মোড়কে জরিপ চালাচ্ছেন।এমন অন্তত চারটি জায়গা থেকে জরিপ ও প্রার্থী যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে। যার সাথে দলের মূলত কোনো বিশেষ সম্পর্ক নেই। এসব জরিপ এবং প্রার্থী যাচাইয়ের নামে দলের একটি প্রভাবশালী অংশ টাকা-পয়সা হাতিয়ে নিচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

জরিপ ও প্রার্থী যাচাই-বাছাইয়ের নামে অনৈতিক বাণিজ্য এমন পর্যায়ে গেছে যে, দলের দায়িত্বশীল এক নেতা মন্তব্য করেছেন, দলে চলছে যাচাই-বাছাই আর জরিপের ছড়াছড়ি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় ঘিরে একটি প্রভাবশালী গ্রুপ জরিপ পরিচালনার নামে সারা দেশ থেকে আগামী নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী কে হতে পারে বা সম্ভাব্য প্রার্থীদের কার কেমন গ্রহণযোগ্যতা তার তথ্য সংগ্রহ করছে। কিন্তু এতে দলের হাইকমান্ডের আনুষ্ঠানিক কোনো অনুমোদন নেই। যেটুকু চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে জানানো হয়েছে তা অনানুষ্ঠানিক। তার বাইরেও অনিয়ম এবং স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ আছে। দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নাম ভাঙিয়ে একটি চক্র সারা দেশে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রার্থী যাচাই, তথ্য সংগ্রহ ও জরিপের নামে অর্থ কামিয়ে নিচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, বিএনপির জেলা ও উপজেলা কেন্দ্রীক উদীয়মান নেতা, যারা কিছুটা অর্থনৈতিকভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ কিন্তু দলীয় চেয়ারপারসন, সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান বা স্ট্যান্ডিং কমিটির সাথে যোগাযোগ নেই, এমন নেতাদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। তাদেরকে হাইকমান্ডের নজড়ে আনার আশ্বাস দিয়ে এবং জরিপে তাদের সম্পর্কে ইতিবাচক রিপোর্ট দেওয়া হবে বলে অর্থনৈতিক সুবিধা নেওয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে কোনো কোনো নেতা এরই মধ্যে কেন্দ্রীয় কার্যালয় কেন্দ্রীক চক্রের মাধ্যমে হাইকমান্ডের দুই একজনের সাথে দেখা করতে পারায় চক্রটির কাজ করতে আরও সুবিধা হচ্ছে।

এরপরই বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ের নাম ভাঙিয়ে একই রকম জরিপ ও প্রার্থী যাচাই-বাছাইয়ের কথা বলে তৎপরতা চালানোর ঘটনা ঘটছে। এক্ষেত্রেও দলের আনুষ্ঠানিক কোনো অনুমোদন না থাকলেও একটি অংশ তাদের জরিপ ও প্রার্থীদের খোঁজখবরের কথা বলে নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ করছেন বলে জানা গেছে।

সেই সাথে রাজধানীর একটি বিএনপি ঘরানার মিডিয়া কার্যালয় ঘিরেও একই ধরনের তৎপরতার খবর বিএনপির হাইকমান্ডের কানে পৌঁছেছে। যা নিয়ে বিএনপির সিনিয়র নেতারাও বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছেন। তারা না পারছেন এ ধরনের জরিপ তৎপরতা ঠেকাতে, না পারছেন বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যবস্থা নিতে।

এ ছাড়া বিএনপির সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠজন পরিচয় দিয়ে ঢাকা ও চট্টগ্রামের এক শ্রেণির ধনাঢ্য বিএনপির মধ্যম সারির নেতাকর্মীদের প্রায় একই রকম তথ্য দিচ্ছেন। এই নেতারা নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে জাহির করতে নেতাকর্মীদের বলে বেড়াচ্ছেন যে, তারেক রহমান তাদের আগামী দিনে সম্ভাব্য প্রার্থী কোন এলাকায় কে হবেন এবং তাদের দলে ও সাধারণ ভোটারের জনপ্রিয়তা কেমন তা দেখার দায়িত্ব দিয়েছেন। এই অংশটি মূলত নিয়মিত লন্ডন যাতায়াত করে থাকে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন বলেন, ‘আমরা এ ধরনের খবর শুনেছি। এগুলো যারা করছে তারা নিজেরা নিজেদের গুরুত্ব বাড়ানোর জন্য এসব করে।’

তিনি বলেন, বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুসারে দলের স্থায়ী কমিটিই চূড়ান্ত মনোনয়ন দেয়। বিএনপির আলাদা কোনো মনোনয়ন বোর্ড নেই।

ড. মোশাররফ জানান, নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি নেতাদের বিগত দিনের কর্মকাণ্ড মূল্যায়ন করছে। সে কাজ চলছে। যারা ত্যাগী নেতা ও পরীক্ষিত তাদের খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। যেসব এলাকায় একাধিক প্রার্থী আছে সেসব এলাকায় খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। আবার সম্ভাব্য প্রার্থীরাও আমাদের কাছে আসছেন, ম্যাডামের কাছে যাচ্ছেন বা লন্ডনে যোগাযোগ করছেন। এসবের মাধ্যমেই জরিপ এবং যাচাই- বাছাইয়ের কাজ চলমান বলে জানান ড. মোশাররফ।

স্থায়ী কমিটির অপর এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, একাধিক জায়গা থেকে জরিপের কথা তার জানা নেই। তবে যারা এসব জরিপ বা সুবিধাবাদীর ফাঁদে শুধু টাকার জোরে পা দিচ্ছেন তারা নিজেরাই দায়ী।

জানতে চাইলে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, আমরা তো ২০১৪ সালেই নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত ছিলাম এবং সে লক্ষ্যে সব কাজ করে রাখা হয়েছিল। এখন সময়ে সময়ে সেগুলো আপডেট হচ্ছে।

তিনি বলেন, জরিপ ও প্রার্থী বাছাইয়ের নামে কেউ যেন কোনো সুযোগ নিতে না পারে এবং কোনো ষড়যন্ত্র না করতে পারে সে বিষয়ে বিএনপি সজাগ আছে। তাছাড়া দলে হোক বা দলের বাইরে হোক যারাই অপচেষ্টা করবে তাদের বিষয়ে সর্বোচ্চ মহলও খেয়াল রাখবে।