খোঁজারহাট ও মিরাপুরে ভৈরব নদ দখলমুক্ত হয়নি

বিল্লাল হোসেন>
যশোর সদর উপজেলার কাশিমপুর ইউনিয়নের খোঁজারহাট ও মিরাপুর এলাকায় দীর্ঘদিন প্রভাবশালীদের কব্জায় থাকা বুড়ি ভৈরব নদ দখলমুক্ত হয়নি। বিষয়টি নিয়ে দৈনিক স্পন্দনে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ হলেও কর্তৃপক্ষ অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেনি। ফলে সরকারি নদের জায়গা দখল কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
এলাকাবাসী জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে ১০/১২ জন মিলে খোঁজারহাট ও মিরাপুর গ্রামের বুড়ি ভৈরব নদ অংশের জমি নিজেদের ইচ্ছামতো দখল করে রেখেছে। সবচেয়ে বেশি অংশ দখল করেছেন মিরাপুর গ্রামের আলী আহম্মদ তার ছেলে হাসান, খোঁজারহাট গ্রামের ছমির তরফদারের ছেলে সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, ইনছার আলীর ছেলে আশরাফ, আতর আলীর ছেলে সরফুদ্দিন ও আব্বাস আলীর ছেলে আব্দুল ওহাব। সেখানে ভৈরব নদের অস্তিত্ব নেই বললেই চলে। দুই পাশের অবৈধ দখলদারদের কারনে ঐতিহ্যবাহী নদটি এখন খালে পরিণত হয়েছে। একপাশের জমি দখল করে একাধিক পুকুর খনন করে মাছের চাষ করা হচ্ছে। অপরপাশের জমিতে করা হচ্ছে চাষাবাদ। আর খালে পরিণত হওয়া নদের অংশে আড়াআড়ি করে বাঁশের পাটা ও চটার বাঁধ দেয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ২১ ডিসেম্বর দৈনিক স্পন্দনে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভৈরব নদের জমি দখলমুক্ত করতে কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি। ফলে অবৈধ দখলদাররা বহাল তবিয়তে রয়েছেন। ফলে সাধারন মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। কিন্তু দখলদাররা প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেন না কেউ।
যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামী জানান, যশোর জেলার ভৈরব নদের অবৈধ দখলাদারদের তালিকা তৈরি করে জেলা প্রশাসককে চিঠি দেয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অচিরেই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হতে পারে। যশোর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফ-উজ-জামান জানান, তিনি যোগদান করার পর ভৈরব নদের জমি কোন এলাকায় প্রভাবশালীদের কব্জায় রয়েছে তা খোঁজ নেয়া হচ্ছে। যে কোন সময় অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।