আখেরি মোনাজাতে মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনা

স্পন্দন নিউজ ডেস্ক : আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হলো তাবলিগ জামাতের বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। মোনাজাতে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনা করে দোয়া করা হয়। রোববার সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে আখেরি মোনাজাত শুরু হয়। প্রায় ৩৫ মিনিট এবারই প্রথম আরবির সঙ্গে বাংলায় মোনাজাত পরিচালনা করেন কাকরাইল মসজিদের ইমাম মাওলানা মোহাম্মদ জোবায়ের। তিনি প্রথম ১৪ মিনিট আরবিতে, পরের ২১ মিনিট বাংলায় মোনাজাত করেন।

মোনাজাতে মুসলিম উম্মাহর সুখ, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করা হয়। বিশ্ব মুসলিমের ঐক্যের পাশাপাশি দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি চেয়ে ইজতেমা কবুলের জন্য দোয়া করেন মাওলানা জোবায়ের।

বিতর্কিত অবস্থানের কারণে তাবলিগ জামাতের এই আয়োজনে এবার অংশ নিতে পারেননি শীর্ষ মুরুব্বি ও দিল্লির মাওলানা সা’দ। তার জায়গায় বাংলাদেশের মাওলানা জোবায়ের মোনাজাত পরিচালনা করেন।

এরআগে বাদ ফজর থেকে বয়ান করেন বাংলাদেশের মাওলানা আব্দুল মতিন। তার বয়ানের পরই আখেরি মোনাজাত করা হয়।

 

এই মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হলো টঙ্গীর তুরাগ তীরের বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। দ্বিতীয় পর্ব হবে আগামী ১৯ জানুয়ারি। ২১ জানুয়ারি হবে আখেরি মোনাজাত।

গত শুক্রবার আম বয়ানে শুরু হয় এবারের ইজতেমা। এরপর থেকে সেখানে অবস্থান করা মুসল্লিরা তাবলিগের মুরুব্বিদের মুখে ইসলামের আমল, আক্বীদা ও দাওয়াত বিষয়ে বয়ান শুনেন।

মোনাজাতে দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ কামনা করা হয়। একই সঙ্গে মুসলিম উম্মাহর আত্মশুদ্ধি, দুনিয়ার সব বালা-মুসিবত থেকে হেফাজত এবং গুনাহ মাফের জন্য দুই হাত তুলে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের দরবারে প্রার্থনা করেন মুসল্লিরা।

 

লাখো মুসল্লির আমিন, আল্লাহুম্মা আমিন ধ্বনিতে তুরাগ নদীর তীর মুখর হয়ে ওঠে। ইজতেমা মাঠ ছাড়াও যে যেখানে ছিলেন, সেখানে দাঁড়িয়ে কিংবা বসে বসে হাত তোলেন আল্লাহর দরবারে। কান্নায় বুক ভাসান তারা।

মুঠোফোন ও স্যাটেলাইট টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারের সুবাদে দেশ-বিদেশের আরো লাখ লাখ মানুষ একসঙ্গে হাত তোলেন আল্লাহর দরবারে।

আখেরি মোনাজাত উপলক্ষে টঙ্গী, গাজীপুর, উত্তরাসহ আশপাশের এলাকার সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কলকারখানা, মার্কেট, বিপণি বিতান ও অফিস ছুটি ছিল।

নানা বয়সী ও পেশার মানুষ এমনকি মহিলারাও ভিড় ঠেলে মোনাজাতে অংশ নিতে সকালেই টঙ্গী এলাকায় পৌঁছান।

মোনাজাতে মাওলানা হাফেজ মোহাম্মদ জোবায়ের বলেন, হে আল্লাহ, আমরা গুনাহগার বান্দা, আমাদের সকলকে মাফ করে দেন। হে আল্লাহ, দ্বীনের ওপর আমাদের চলার পথ সহজ করে দেন।

 

তিনি বলেন, দুনিয়াবি কাজ থেকে আমাদের বিরত রাখুন, স্বার্থপরতাকে দূর করে দেন। হিংসা-বিদ্বেষ থেকে দূরে রাখুন, ইজতেমাকে কবুল করে দেন। বিশ্বনবীর পথে চলার তওফিক নসিব করে দেন।

গাজীপুরের পুলিশ সুপার হারুন-অর রশিদ জানা, ইজতেমা এবং আখেরি মোনাজাতে অংশগ্রহণকারী সকল মুসল্লি বাড়ি ফিরে না যাওয়া পর্যন্ত গাজীপুর জেলা পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।

তিনি আরো বলেন, বিদেশি মেহমানরা যতদিন থাকবেন, ততদিন তাদের নিরাপত্তা দেওয়া হবে।

তাবলিগ জামাতের উদ্যোগে ১৯৬৭ সাল থেকে টঙ্গীর তুরাগ তীরে ১৬০ একর জমি বিস্তৃত ইজতেমা ময়দানে প্রতি বছর ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। ইজতেমায় স্থান সংকুলান না হওয়ায় শীর্ষ মুরুব্বিদের সিদ্ধান্তে ২০১১ সাল থেকে এটি দুই পর্বে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

বিশেষ ব্যক্তিবর্গের অংশগ্রহণ

বিশ্ব ইজতেমায় আগত লাখ লাখ মুসল্লির সঙ্গে ইজতেমা ময়দানের পূর্ব পাশে শহীদ আহসানউল্লাহ মাস্টার স্টেডিয়ামে স্থাপিত পুলিশ কন্ট্রোল রুমে বসে মোনাজাতে অংশ নেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হক, স্থানীয় সংসদ সদস্য জাহিদ আহসান রাসেল, গাজীপুর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন-অর  রশিদ, গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আজমত উল্লাহ খানসহ পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।