রোহিঙ্গাদের জন্য শিবির বানাচ্ছে মিয়ানমার

স্পন্দন নিউজ ডেস্ক :মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা দেশটির সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠীর জন্য অস্থায়ী শিবির নির্মাণ করছে সু চি সরকার। সোমবার দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ‘গ্লোবাল নিউ লাইটস অব মিয়ানমার’ এক প্রতিবেদনে একথা জানিয়েছে। রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার পর সেসব অস্থায়ী শিবিরে রাখা হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, জানুয়ারি মাসের শেষ দিকে প্রায় ১শ’টি ভবনের নির্মাণ কাজ শেষ হবে। নির্মাণ করা এসব ভবনগুলোয় ৩০ হাজার রোহিঙ্গার ঠাঁই হবে।

সোমবার মিয়ানমারের নেপিদোতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের কর্মকর্তারা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে বৈঠকে বসেছেন। এমন দিনেই গ্লোবাল নিউ লাইটস অব মিয়ানমার খবরটি প্রকাশ করলো। গত ২৩ নভেম্বর স্বাক্ষরিত প্রত্যাবাসন চুক্তি স্বাক্ষরের পর যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের এটাই প্রথম বৈঠক।

প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তর রাখাইনের হ্লা পো খাউং এলাকায় রোহিঙ্গাদের জন্য এই অস্থায়ী শিবির গড়ে তোলা হচ্ছে। মিয়ানমার সরকার প্রত্যাবাসনের জন্য তাদের গ্রহণ করার পর অস্থায়ী ট্রানজিট ক্যাম্প হিসেবে সেগুলোকে ব্যবহার করা হবে।

মিয়ানমারের মানবিক সহায়তা, পুনর্বাসন এবং উন্নয়ন বিভাগের প্রধান সমন্বয়ক অং টুন থেট জানান, ফিরে আসা রোহিঙ্গাদের তথ্য যাচাইয়ের পর অস্থায়ী শিবিরে পাঠানো হবে। এরপর তারা নিজ ভূমিতে ফিরতে পারবেন।

নিজ ভূমিতে নতুন বাড়ি নির্মাণের আগে পর্যন্ত রোহিঙ্গারা দুই মাস অস্থায়ী শিবিরে আশ্রয়ের সুযোগ পাবেন বলেও জানান অং টুন। তবে মিয়ানমারের এই কর্মকর্তারা বলেছেন, ১৯৯৩ সালের প্রত্যাবাসন চুক্তি অনুযায়ী শুধু তাদেরকেই ফেরত নেয়া হবে, যাদের কাছে নাগরিকত্বের সরকারি কাগজ থাকবে।

মিয়ানমারের রাখাইনে গত বছরের আগস্টে নিরাপত্তা বাহিনীর তল্লাশি চৌকিতে হামলা চালানোর জেরে জঙ্গি বিরোধী অভিযান শুরু করে সেনা বাহিনী। অভিযানের নামে রোহিঙ্গা নিধন শুরু হলে প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সাড়ে ৬ লাখ মানুষ।