গাছ কেটেই যশোর রোড সম্প্রসারণ

স্পন্দন ডেস্ক>গাছ কেটেই যশোর রোড সম্প্রসারণ করা হবে, তা না হলে এত জমি পাবো কোথায়? গাছ রাখলে কৃষকের ফসলের জমি নষ্ট হবে বলে মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। সড়ক সম্প্রসারণের পর আবারও গাছ লাগানো হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৬ জানুয়ারি) রাজধানীর শেরে বাংলানগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভা শেষে এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন পরিকল্পনা মন্ত্রী।
অপরদিকে ঐতিহাসিক যশোর রোডের বাংলাদেশ অংশের গাছ কাটা এ মাসেই শুরু হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন৷ আপাতত রাস্তা প্রশস্ত করার জন্য এই উদ্যোগ৷ ৪ লেন হবে পরে৷
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সংযোগ স্থাপনকারী যশোর রোডের দৈর্ঘ্য ১০৮ কি.মি.৷ যশোর থেকে বেনাপোল পর্যন্ত বাংলাদেশ অংশে এর দৈর্ঘ্য ৩৮ কি.মি.৷ ভারতের পেট্রাপোল থেকে কলকাতার দমদম পর্যন্ত ৭০ কি.মি.৷
এই যশোর রোড এখন প্রশস্ত করার কাজ শুরু হয়েছে৷ ভবিষ্যতে এই সড়ক হবে ৪ লেন থেকে ৬ লেন৷ সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ বেলায়াতে হোসেন বলেন, ‘‘যশোর রোডটি এশিয়ান হাইওয়ের অংশ৷ দিন দিন এর গুরুত্ব বাড়ছে৷ ভবিষ্যতে গুরুত্ব আরো বাড়বে৷ তাই এই সড়কটি সম্প্রসারণের কাজ হাতে নেয়া হয়েছে৷ চার বছর পর এটাকে ফোর লেনের সড়কে পরিণত করার কাজ শুরু হবে৷ ভবিষ্যতে সিক্স লেনও হতে পারে৷ কোনোভাবেই গাছ রেখে সিক্স লেন করা সম্ভব না৷ আর মহাসড়কের পাশে পৃথিবীর কোথাও বড় গাছ নেই৷ যেহেতু আমাদের ভবিষ্যতে গাছ কাটতেই হবে, তাই এখন সড়ক সম্প্রসারণ পর্যায়েই আমরা দু’পাশের গাছ কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি৷ এই মাসেই আমাদের একটি আন্তঃমন্ত্রনালয় বৈঠক আছে৷ সেখানে গাছের মালিকানা নির্ধারণ করেই গাছ কাটা শুরু হবে৷ জেলা প্রশাসন গাছগুলোর মালিকানা দাবি করেছে৷ আমাদের কাছে মূখ্য বিষয় হলো গাছ কাটা, কারণ, গাছ থাকলে দুর্ঘটনা বাড়ে৷’’
তিনি আরেক প্রশ্নের জবাবে দাবি করেন, ‘‘ভারতের অংশে এরইমধ্যে ফোর লেন সড়ক করা হয়েছে৷ তারা কিছু গাছ রেখে বাকি গাছ কেটে ফেলেছে৷’’
‘আমরা রাস্তা নির্মাণের পর একটা গাছের পরিবর্তে তিনটি গাছ লাগাব’
তিনি আরো দাবি করেন, ‘‘যশোর রোডের দু’পাশে যে শতবর্ষী গাছ আছে তার কিছু মরে গেছে৷ অনেকগুলোই বয়সোত্তীর্ণ৷ আবার নানা সাইনবোর্ড লাগিয়ে গাছ নষ্ট করে ফেলা হয়েছে৷’’
যশোর-২ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল ইসলাম মনির গাছ কাটার সরকারি এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত৷ তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘পদ্মা সেতুর কারণে যশোর রোডের গুরুত্ব বেড়ে গেছে৷ তাই উন্নয়নের স্বার্থে রাস্তা প্রশস্ত করতে দু’ পাশের গাছ কাটতেই হবে৷ তবে আমরা রাস্তা নির্মাণের পর একটা গাছের পরিবর্তে তিনটি গাছ লাগাবো৷ উন্নয়নও হবে, পরিবেশ রক্ষাও হবে৷’’ গাছগুলো রেখে বিকল্পভাবে সড়ক সম্প্রসারণ সম্ভব কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘সেটা এক্সপার্টরাা বলতে পারবেন৷’’
তবে অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ বেলায়াতে হোসেন বলেছেন, ‘‘সম্প্রসারণের পর রাস্তার দু’ ধারে বড় কোনো গাছ নয়, বিউটিফিকেশনের (সৌন্দর্য বৃদ্ধির) জন্য ছোট ছোট গাছ লাগানো হবে৷’’
এছাড়া মুস্তফা কামাল আরও বলেন, গাছ রেখে কৃষকের জমি নিয়ে লাভ নেই। গাছ নেই এমন কোনো সড়ক দেশে পাওয়া যাবে না। আমরা সড়কটি সম্প্রসারণ করেই গাছ লাগাতে পারবো। ফসলের জমি নষ্ট করে ভাত খাবো কীভাবে? আবেগ দিয়ে কিছু হয় না, গাছও চিরজীবন বেঁচে থাকে না। এটাও একদিন বিদায় নেবে।
গাছ ভালোবাসে না এমন কাউকে পাওয়া যাবে না। সড়কটি সম্প্রসারণ করেই আরও বেশি বেশি গাছ লাগানো হবে বলেও আশ্বাস দেন পরিকল্পনা মন্ত্রী। যশোর-বেনাপোল মহাসড়ক পাঁচ মিটার সম্প্রসারণ করতে কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত হয়েছে ইতিহাসের সাক্ষী ও পরিবেশ রক্ষার কবজ শতবর্ষী ২ হাজার ৩শ’ গাছ।

যশোরে পরিবেশবাদিদের
আন্দোলনের ডাক

স্পন্দন ডেস্ক>
পরিবেশপ্রেমীরা এই যাশোর রোডের শতবর্ষী গাছ কাটার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন৷ তাঁরা গাছ না কেটে বিকল্প পথে সড়ক প্রশস্ত বা ফোর লেন করার কথা বলছেন৷ আজ যশোরে মানবন্ধনের ডাক দিয়েছেন৷ যাশোর ওয়াকার্স পার্টির সভাপতি এবং পরিবেশ আন্দোলনের নেতা ইকবাল কবির জাহিদ বলেন, ‘‘যশোর রোড এবং এই গাছের একটা ইতিহাস আছে, আছে ঐতিহ্য৷ আমাদের যে-কোনো উন্নয়ন পরিকল্পনা ঐতিহ্য এবং পরিবেশকে রক্ষা করেই করতে হবে৷ এটা ফোর লেন বা সিক্স লেন যা-ই করা হোক না কেন, তা গাছগুলোকে রেখেই করা সম্ভব৷ দু’ পাশের গাছগুলোকে সড়কের মাঝে ডিভাইডার হিসেবে রেখেই রাস্তার লেন বাড়ানো সম্ভব৷’’

যশোর রোডের ভারতীয় অংশের
৪ হাজার গাছকাটা প্রক্রিয়াধীন

স্পন্দন ডেস্ক>
বহুল আলোচিত যশোর রোডের ভারতীয় অংশ চওড়া করার জন্যও রাস্তার দুধারের গাছ কাটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। আর সেখানে কাটা পড়বে ৪০০০এর বেশি গাছ যেগুলো কোনও কোনওটার বয়স ২০০ বছরেরও বেশি৷ কোনও কোনও গাছের গুঁড়ি এত প্রকাণ্ড যে, আধ ডজন মানুষ মিলেও তা বেড়ে পাবে না৷ পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পূর্ত দপ্তর বছরখানিক খানিক আগেই গাছগুলো কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেও কলকাতা হাইকোর্টের একটি মামলার কারণে বাস্তবায়ন বিলম্বিত হচ্ছে। হাইকোর্ট নিযুক্ত এক কমিটি রাস্তা পরিদর্শনের পর রিপোর্ট দিয়েছিল, গাছ না কেটে যশোর রোড চওড়া করা সম্ভব নয়৷ ১৫ জানুয়ারি জার্মান বেতার ডয়চে ভেলে অনলাইনে প্রকাশিত একটি রিপোর্টে এসব তথ্য মিলেছে।
রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে ব্রিটিশ আমলে তৈরি, কলকাতার সঙ্গে বাংলাদেশের যশোরের সংযোগরক্ষাকারী যশোর রোড চওড়া করা হবে, ফ্লাইওভার, ওভারব্রিজ তৈরি হবে, আর সেই উন্নয়ণযজ্ঞে গাটা পড়বে প্রায় ৪০০০ গাছ৷ গাছ কাটার সিদ্ধান্তের পর গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা সমিতি, (এপিডিআর) ও উত্তর ২৪ পরগণার বাসিন্দারা পৃথক দুটি মামলা করে কোলকাতা হাইকোর্টে। হাইকোর্ট গাছ কাটার ওপর স্থগিতাদেশ জারি করে এবং কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি নিশীথা মাত্রে’র এজলাসে এই দুটি মামলার একসঙ্গে শুনানি শুরু হয়৷ শুনানি পর্ব শেষও হয়ে গিয়েছিল৷ হাইকোর্ট নিযুক্ত এক কমিটি পরিদর্শনের পর রিপোর্ট দিয়েছিল, গাছ না কেটে যশোর রোড চওড়া করা সম্ভব নয়৷ কিন্তু মামলার রায় দানের সময় যখন এগিয়ে এসেছে, তখনই প্রধান বিচারপতি পদে নিশীথা মাত্রের মেয়াদ শেষ হয়৷ তাঁর পরিবর্তে যিনি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি হন, তিনি বিষয়টি দ্বিতীয়বার খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নেন৷ সেই প্রক্রিয়াও এবার শেষ হওয়ার মুখে৷ হাইকোর্টের সিদ্ধান্তের পরপরই সরকার গাছকাটা প্রক্রিয়া শুরু করতে চায়। কোথাও কোআও গাছ কাটা শুরু হয়েছে বলে সোস্যাল মিডিয়ার খবরে প্রকাশ পাচ্ছে।