দেড় মাসের খননেই দৃশ্যমান ডুমুরিয়ার ভদ্রা

সুব্রত কুমার ফৌজদার, ডুমুরিয়া :ভরাট হতে হতে সমতল ভুমিতে পরিণত হওয়া এককালের খরস্রোতা ভদ্রা নদী মাত্র দেড় মাসের খননেই স্বরূপ ফিরে পেতে চলেছে। সাগরের সাথে সংযোগ স্থাপনকারী ভদ্র নদী ›ডুমুরিয়াবাসীর কাছে দৃশ্যমান হয়েছে। অর্ধশতাধিক স্কেভেটরের সাহায্যে নদী পুনঃখনন কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করবে বলে আশা করছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড। প্রায় ৩০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে ভদ্রা ও সালতা নদী পুনঃখনন কাজে বরাদ্দ রয়েছে ৭৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা। ৯টি প্যাকেজে ৭টি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এ কাজ বাস্তবায়ন করছে। খনেনর প্রথমদিকে বিছিন্ন কিছু বাঁধা থাকলেও এখন নিরব সবাই।
ডুমুরিয়ার উপজেলার বুকচিরে বয়ে যাওয়া এক সময়ে খরস্রোতা ভদ্রা নদী নব্বই দশকের পর থেকে ক্রমন্বয় ভরাট হয়ে সমতল ভুমিতে পরিণত হয়। ভদ্রা নদীর একাংশ সাগরের সাথে মিশেছে, অপর অংশটি ডুমুরিয়ার শোলগাতিয়ার বুড়ি ভদ্রায় গিয়ে মিশেছে। এছাড়া ডুমুরিয়া বাজারের কাছে ভদ্রা নদীর সংযোগ থেকে শৈলমারি নদীতে মিশেছে সালতা নদীটি। নদী দু’টি ভরাট হয়ে প্রভাবশালীদের দখলে চলে যায়। ভদ্রার বুকে যে যার মত স্থাপনা গড়ে তোলে। নদীর বুকে সমতল ভুমিতে গড়ে উঠে রাইস মিল, স মিল, বাজার, বহুতল ভবনসহ নানাবিদ অবৈধ স্থাপনা। এই গুরুত্বপূর্ণ নদী দুইটি ভরাট হওয়াতে প্রতি বছর ভারি বৃষ্টি নামলেই বিল ডাকাতিয়াসহ ডুমুরিয়া উপজেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। ফলে বিভিন্ন ফসল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এতে সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হন এলাকাবাসী। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর নদী খননের উদ্যোগ নেয় । একনেকে প্রকল্প বাস্তবায়নে ৭৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়। প্রকল্পটি ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরে খনন কাজ শুরু হয়ে ২০১৯ সালের জুন মাসের মধ্যে শেষ করার কথা থাকলেও নানা জটিলতায় খনন ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে কাজ শুরু হয়। ২০১৯ সালের ৩০ জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা রয়েছে। মঙ্গলবার সকালে নদী এলাকায় দেখা যায়, ৬০/৬৫টি স্কেভেটর নদী খননের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। অধিকাংশ জায়গায় নদীর দৃশ্যমান হয়েছে। তবে নদীর বুকে যে সমস্ত অসহায় ভূমিহীন বাড়ি তৈরি করে বসবাস করছিলো, তারা তাদের স্থাপনা সরিয়ে নিচ্ছে। কিন্তু ৩টি ইটভাটা এখনো নদীর মধ্যে রয়েছে। গাবতলায় একজেন অবৈধ স্থাপনা এখনো রয়ে গেছে। এনিয়ে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। এ প্রসঙ্গে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ২৯ নম্বর পোল্ডারের সেকশন অফিসার মোঃ রাশেদুল ইসলাম জানান, নদীর ম্যাপ অনুযায়ী খনন করা হচ্ছে। নদীর ভুমিতে বসবাসরত সবাই নিজ উদ্যোগে ঘরবাড়ি সরিয়ে নিলেও শোভনার গাবতলা এলাকায় নদীর সীমানার মধ্যে থাকা উদয় চক্রবর্তীর ঘরটি এখনো অপসারণ করেনি। গত সোমবার (১৫ জানুয়ারী) আমরা তাদেরকে স্থাপনা সরিয়ে নিতে ৫দিনের সময় বেঁেধ দিয়েছি। নদীর সীমানায় কারো স্থাপনা থাকলে সেটা উচ্ছেদ করে নদী খনন করা হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, ভদ্রা নদীটি ভিন্ন ভিন্ন মাপে খনন করা হচ্ছে। নদীটি খননে সম্ভাব্য মাপ উপরে ১১০ মিটার এবং তলদেশ ৬০ মিটার। এছাড়া সালতা নদীটি ডুমুরিয়া বাজারের ভদ্রা নদী থেকে শুরু হয়ে ৯ কিলোমিটার খনন করে শৈলমারী নদীর সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে। সালতা নদীর তলদেশে ১০ মিটার সম্ভাব্য মাপ নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দ এমপি বলেন, নদী খনন হবে ম্যাপ অনুযায়ী। অর্থাৎ যেখান দিয়ে নদী ছিলো, সেখান থেকে খনন হবে। এতে কেউ বাঁধা দিলে তা মানা হবে না। কারণ নদী খনন হোক এটা জনগণ চায়। ভদ্রা নদী পুঃখনন হলে ডুমুরিয়াবাসীর একটা স্বপ্ন পুরণ হবে। তারা স্থায়ী জলাবদ্ধতা হতে রেহাই পাবে।